তারাবীহ দ্রুত পড়া প্রসঙ্গে ?


অনেকে মনে করে যে, ‘তারাবীহ’ অর্থ তাড়াতাড়ি। তাই তারাবীহর নামায তাড়াতাড়ি পড়তে হয়। বাস্তবিক সমাজে এটাই পরিলক্ষিত হচ্ছে যে, সূরা তারাবীহ হোক আর খতম তারাবীহ হোক উভয় প্রকার জামায়াতে ইমাম বা হাফিয ছাহেবরা দ্রুত সূরা-ক্বিরায়াত পাঠ করে নামায শেষ করেন। বিশেষ করে খতম তারাবীহর ক্ষেত্রে অধিকাংশ হাফিয ছাহেবকে দেখা যায়, তারা এত দ্রুতগতিতে সূরা-ক্বিরায়াত পাঠ করেন মুছল্লীরা তা স্পষ্ট শুনতে বা বুঝতে পারেন না।
শরীয়তের মাসয়ালা হলো- পাঞ্জেগানা, জুমুআ, ঈদ ইত্যাদি জামায়াতে যেভাবে আদায় করা হয় তারাবীহও সেভাবেই আদায় করতে হবে।
হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, মহান মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, আল্লাহ পাক উনার কথা ‘তারতীলের সাথে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত কর’ এর ব্যাখ্যা কি? তিনি বললেন, “তা স্পষ্ট করে তিলাওয়াত করো। খেজুরের বিচির মতো বিক্ষিপ্তভাবে কিংবা কবিতার ছন্দাকারে তিলাওয়াত করো না এবং তিলাওয়াত শুরু করার পর তা কখন শেষ হবে এ চিন্তা-খেয়াল নিয়ে তিলাওয়াত করোনা।”
অর্থাৎ ওয়াকফ, মাদ, মাখরাজ, গুন্নাহ ইত্যাদি সঠিকভাবে আদায় করে সূরা-ক্বিরায়াত পাঠ করতে হবে। কাজেই, হাফিয ছাহেব খতম সম্পন্ন করার জন্য যেমন একবার ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’ স্পষ্ট করে সুন্দর করে মুক্তাদীকে শুনিয়ে দেন ঠিক পুরো কুরআন শরীফই স্পষ্ট করে শুনাতে হবে। এর ব্যতিক্রম করলে খতম ও নামায কোনোটিই শুদ্ধ হবে না। অতএব, দেখে-শুনে ইমাম বা হাফিয ছাহেব নিয়োগ করতে হবে।
Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+