তারা ইসলামবিদ্বেষী! যারা কুরবানী নিয়ে স্বাস্থ্যগত ও দূষণের উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছে


ইসলামবিদ্বেষী, নাস্তিক, কথিত কুষিল সমাজ আর দালাল মিডিয়া প্রতিবছর কুরবানী এলেই পশুর হাট, গরুতে বিষাক্ততা, পশু কুরবানীর স্থান নিয়ে অপপ্রচার করে। তারা যুক্তি দেয় যে- ‘কুরবানী পশুর হাটের কারণে মানুষের দুর্ভোগ হয় আর হাসপাতালে রোগীদের কষ্ট হয়। আবার যত্রতত্র জবাই করার কারণে পরিবেশ দূষণ হয়।’ কিন্তু আসলে কি তাই?
কুরবানীর পশুর হাট নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার:
বাস্তবে কোন্ মানুষের দুর্ভোগ হয় আর কোন্ রোগীর কষ্ট হয় তা কিন্তু তারা প্রমাণ করতে পারে না। কুরবানী তো মুসলমানদের জন্য। তো সেই মুসলমান নিজেই যখন কুরবানী দেয়ার জন্য পশু কিনতে যেয়ে লোকসমাগম হয় তাহলে তা তার দুর্ভোগ হয় কি করে?
অথচ যখন- ১. পহেলা বৈশাখে সারা বাংলাদেশের সবচেয়ে মুমূর্ষু ও জটিল রোগীদের চিকিৎসার স্থান ঢাকা মেডিকেল, পিজি হাসপাতালে ও বারডেমসহ গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে গমনের সবগুলো রাস্তাই ব্যারিকেড দিয়ে আটকানো থাকে, চর্তুদিকে থাকে হারাম বৈশাখপ্রেমী অজগ্র মানুষের ভীড়, সেখানে অ্যাম্বুলেন্স চলা তো দূরের কথা, সাধারন মানুষও হেঁটে যেতে পারে না, তা নিয়ে মিডিয়া কেন প্রতিবেদন করে না? কেন এর বিরুদ্ধে বলে না। কুরবানীর পশুর হাটের বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারীরা তখন কেন মুখে কুলুপ এঁটে থাকে। তখন কি মানুষের দুর্ভোগ আর রোগীর কষ্ট হয় না? ২. রাস্তা আটকে পূজাম-প স্থাপন করায় কি যানজট হয় না? ৩. যখন রথযাত্রা হয়, তখন পুরো ঢাকা শহর থমকে যায়। তখন কেন এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় না? কোনো আদেশ জারি করা হয় না? ৪. যুদ্ধাপরাদীদের বিচারের দাবিতে শাহবাগে অবস্থানের কারণে বারডেম, পিজি, ঢাকা মেডিকেলের রোগীরা টানা ৬ দিন ধরে অবরুদ্ধ ছিল। ব্যস্ত হাসপাতালগুলোর পাশে, সামনে অনবরত মাইক বাজানোর কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছে রোগী ও তাদের স্বজনরা। নিদারুণ কষ্ট স্বীকার করতে হয়েছে একুশের বইমেলায় যাতায়াতকারী মানুষদেরকেও। আর এই মিডিয়াও ওদের খবর প্রচারে ব্যস্ত ছিল। তখন কেন এই মিডিয়া প্রচার করেনি জনদুর্ভোগ আর রোগীদের কষ্টের কথা? যখন তাদের হুজ্জতি-বজ্জাতি বিষয় আসে, তখন তাকে বলা হয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, দেশপ্রেম ইত্যাদি ইত্যাদি। আর যখন মুসলমানদের একত্র হওয়ার কোনো বিষয় আসে, তখন সেটাকে আখ্যা দেয়া হয় জনদুর্ভোগ হিসেবে! নাউযুবিল্লাহ!
গরু সুসাস্থ্যবান করা তথা মোটা-তাজাকরণ:
মুসলমানদের কুরবানীর ঈদ আসলেই একশ্রেণীর মিডিয়া শুরু করে গরু গোশত নিয়ে অপপ্রচার। গরুর গোশতে অমুক সমস্যা, তমুক সমস্যাসহ নানান ত্যানা প্যাঁচাতে থাকে। তাদের অনেক কথার কোনো ভিত্তি না থাকলেও ঠিক ঈদের আগে গরুর গোশত বিরোধী নানান অপপ্রচারে লিপ্ত হয় তারা।
এখানে যে কথাটি মনে রাখতে হবে–
(১) গরুর শরীরে মোটা-তাজাকরণ ঔষধ দিলে তা গরুর মল-মূত্র দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অধিকাংশ বের হয়ে যায়। (২) বাকি ঔষধ কিছু থাকলেও তা গোশত রান্নার করার পূর্বে ধৌত ও উচ্চতাপে রান্নার সময় নষ্ট হয়ে যায়।
(২) একটি মাঝারি ওজনের গরু মোটাতাজাকরণে যে স্টেরয়েড নামক উপাদান ব্যবহার করা হয়, একটি ডিমে প্রাকৃতিকভাবে তার থেকে অধিক পরিমাণে স্টেরয়েড থাকে।
(৪) গরু মোটাতাজাকরণ সিস্টেমটি একসময় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যুব উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে শেখানো হয়েছিলো। যে বিষয়টি এতদিন সরকারিভাবে শেখানো হলো, সেটা আজ হঠাৎ করে বিষাক্ত হয়ে গেলো কেন?
পরিবেশ দূষণ কি শুধু কুরবানীর সময়ে হয়ে থাকে?:
(১) ঢাকা শহরের ভিতরে যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা কি শুধু কুরবানীর সময়েই হয়ে থাকে? সারাবছরে যে জনগণ নাক মুখ চেপে রাস্তা দিয়ে হাঁটে তা কি কারণে?
(২) ঢাকার আশেপাশের নদ-নদী মৃতপ্রায়; তা কি কুরবানীর কারণে?
(৩) হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করার পরেও হাতিরঝিল প্রকল্পে ময়লা আবর্জনা কি কুরবানীর কারণে? কাজেই হঠকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সরকারি কর্মকর্তারা এসবের কী জবাব দিবে???
তাহলে যারা কুরবানী এলে এসব অপপ্রচার করে থাকে, তারা কিসের ভিত্তিতে করে থাকে? সরকারি প্রশাসনও বা কি করে এসব অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়? তারা কি বুঝে না এর দ্বারা তারা মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করছে? এদেশ ৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত দেশ। মুসলমানের দ্বীনি অনুভূতিতে আঘাত মুসলমানরা সহ্য করবেন না।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে