সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত। ব্লগের উন্নয়নের কাজ চলছে। অতিশীঘ্রই আমরা নতুনভাবে ব্লগকে উপস্থাপন করবো। ইনশাআল্লাহ।

তিনি ইলমে গইব উনার অধিকারী-২


একবার হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে সদকায়ে ফিতরের মালামাল হেফাজতের জন্য নিয়োজিত করেছিলেন। হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু , উনি দিনরাত সেই মাল হেফাজত করতে লাগলেন।

এক রাতে এক চোর এসলো এবং মাল চুরি করতে লাগলো। হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তাকে ধরে ফেললেন এবং বললেন আমি তোমাকে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খেদমত মুবারকে হাজির করবো। চোর কাকুতি মিনতি করে বলতে লাগলো, আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে ছেড়ে দিন। আমার পরিবার পরিজন আছে। আমি খুবই অভাবী।
একথা শুনে হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার দয়া হলো এবং তাকে ছেড়ে দিলেন।সকালে হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যখন দরগাহে রিসালতে হাজির হলেন, তখন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি মুচকি হেসে বললেন, হে আবু হুরায়রা ! তোমার রাতের কয়েদী (চোর) কি বললো?
হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আরয করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সে স্বীয় পরিবার পরিজন ও অভাব অনটনের কথা বলায় আমার দয়া হলো। তাই ছেড়ে দিয়েছি।
হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সে মিথ্যা বলেছে। সাবধান থেকো, আজ রাতেও সে আসবে।
হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, দ্বিতীয় রাতেও আমি ওর অপেক্ষায় রইলাম। দেখতে দেখতে সে ঠিকই আসলো এবং মাল চুরি করতে শুরু করলো। আমি পুনরায় তাকে ধরে ফেললাম। এবারও সে কাকুতি মিনতি করতে লাগলো। আমারও দয়া হলো, তাই আবার ছেড়ে দিলাম।
সকালে দরবার শরীফে হাজির হলে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, তোমার রাতের কয়েদী কি বললো?
আমি আরয করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আজও সে তার অভাব অনটনের কথা বলছে। তাই আমার দয়া হওয়ায় আজও তাকে ছেড়ে দিয়েছি।
হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সে তোমার কাছে মিথ্যা বলেছে। সাবধান সে আজও আসবে !
হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, তৃতীয় রাতে সে আবারও আসলো এবং আমি তাকে ধরে ফেললাম এবং বললাম, কমবখত! আজ তোমাকে আর ছাড়বো না, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দরবার শরীফে নিয়েই যাবো।
সে বললো জনাব আবু হুরায়রা! আমি আপনাকে একটি দোয়া শিখিয়ে যেতে চাই, সেটা পাঠ করার দ্বারা আপনার উপকার হবে। শুনেন যখন ঘুমাতে যাবেন তখন আয়তাল কুরসী পাঠ করবেন। এর দ্বারা আল্লাহপাক আপনার হেফাজত করবেন এবং শয়তান আপনার কাছে আসতে পারবে না।
হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, সে আমাকে এ বাক্যগুলো শিখিয়ে এবারও আমার থেকে রেহাই পেয়ে গেল। সকালে আমি যখন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দরবার শরীফে পুরো কাহিনী বর্ণনা করলাম, তখন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, সে এ কথাটি সত্য বলেছে অথচ সে বড় মিথ্যুক। তুমি কি জানো হে আবু হুরায়রা! এ তিন রাতের চোরটা কে? আমি আরয করলাম, জ্বী না ইয়া রাসুলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি জানিনা। তিনি বললেন, সে ছিল শয়তান।

কারো কারো আক্বীদা হচ্ছে আল্লাহ পাক ব্যতীত আর কেউ ইলমে গইবের অধিকারী নন। এমনকি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও নাকি ইলমে গইব সম্পর্কে অবহিত নন।
(নাঊযুবিল্লাহ)
বস্তুত প্রত্যেক হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা সকলে ইলমে গইবের অধিকারী।শুধু তাই নয়, হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারাও পবিত্র ইলমে গইব উনার অধিকারী হয়ে থাকেন। যেখানে অন্যান্য হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম এবং হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা ইলমে গইবের অধিকারী সেখানে উনাদের যিনি নবী হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কিভাবে ইলমে গইব অজানা থাকতে পারে?
কাজেই উপরের ঘটনা জেনে অস্বীকার করার উপায় নেই, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা হয়েছে, হচ্ছে, হবে সব বিষয়ে জ্ঞাত।তিনি ইলমে গইবের অধিকারী।

(সুবহানাল্লাহ্)

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে