“তোমরা গিরগিট হত্যা করো যদিও তা পবিত্র কা’বা ঘরের অভ্যন্তরে থাকে” কিন্তু এর কারন কি?


গিরগিটি পরোক্ষভাবে মূর্তির সাথে সংশ্লিষ্ট থাকায় , মুসলমানদের জন্য গিরগিটি বা কাকলাস এক নিঃশ্বাসে মারার নির্দেশ রয়েছে। সাধারনত মক্কা শরীফে রক্তপাত করা হারাম, কিন্তু হযরত ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম রহমাতুল্লাহি আলাইহিমা উনারা উনাদের ছহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেন, “তোমরা গিরগিট হত্যা করো যদিও তা পবিত্র কা’বা ঘরের অভ্যন্তরে থাকে।
সূরাতুল আম্বিয়া শরীফে , ৫১-৭০ নং আয়াত শরীফের শানে নুযূল এ উল্লেখ আছে,

হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম যখন মূর্তির বিরুদ্ধে বলেছিলেন ,তখন নমরূদ বলেছিল ‘তোমরা উনাকে জ্বালিয়ে দাও ’।এবং তোমাদের দেবতাগুলোকে সাহায্যে করো, যদি কিছূ করতে চাও’।
নামরূদ ও তার সম্প্রদায় যখন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনাকে জ্বালিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলো, তখন তারা উনাকে একটি ঘরে বন্দী করলো এবং তার চারদিকে প্রাচীরের ন্যায় একটি ঘর তৈরি করলো। কেউ কেউ বলেন, নামরূদ ও তার সম্প্রদায়ের লোকরা ‘কূছা’ নামক এক গ্রামে খুবই বড় এক গর্ত খনন করলো এবং হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনাকে জ্বালিয়ে দেয়ার জন্য তারা দীর্ঘকাল যাবৎ মজবূত ও শক্ত কাঠ জমা করলো। এ ব্যাপারে জনসাধারণের এত অধিক উৎসাহ ছিল যে, তাদের কেউ রোগাক্রান্ত হলে সে মানত করতো যে, ‘মহান আল্লাহ তায়ালা আমাকে রোগ মুক্ত করলে আমি হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনাকে পুড়িয়ে দেয়ার জন্য কাষ্ঠ জমা করবো’। নাউযুল্লিাহ! মহিলারা তাদের উদ্দেশ্য হাছিলের জন্য মানত করতো, ‘যদি তার উদ্দেশ্য সফল হয়, তবে সে অবশ্যই হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনাকে জ্বালিয়ে দেয়ার জন্য প্রজ্বলিত আগুনে কাঠ নিক্ষেপ করবে’। নাউযুবিল্লাহ! পুরুষরা ওয়াসিয়াত করে যেত যে, আমার পরে কাঠ ক্রয় করে যেন আগুনে নিক্ষেপ করা হয়। মহিলারা চরখা দ্বারা সূতা কেটে তার পয়সা দ্বারা কাঠ ক্রয় করতো এবং ছাওয়াবের আশায় তারা সে কাঠ আগুনে নিক্ষেপ করতো। নাউযুবিল্লাহ!
এক মাস পর্যন্ত তারা কাঠ জমা করতে থাকে। যে পরিমাণ কাঠ তারা জমা করার ইচ্ছা করেছিল, তা যখন জমা হলো, তখন তারা চারদিক থেকে আগুন জ্বালিয়ে দিল। আগুনের লেলিহান শিখা যখন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লো এবং তার তীব্রতা এমন প্রচন্ডরূপ ধারণ করলো যে, কোন পাখী তার পাশ দিয়ে যাবার চেষ্টা করলে সে জ্বলে যেত।
এভাবে তারা সাত দিন যাবত অগ্নি প্রজ্বলিত করলো, এরপর তার মধ্যে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনাকে নিক্ষেপ করতে ইচ্ছা করলো। কিন্তু এ ভয়াবহ আগুনে তারা কিভাবে উনাকে নিক্ষেপ করবে, তা তাদের বোধগম্য হলো না। এ সময় ইবলীস শয়তান এসে ‘মিনজানীক বা ক্ষেপণাস্ত্র’ অর্থাৎ চড়ক গাছ দ্বারা নিক্ষেপ করার নিয়ম শিক্ষা দিল। এ শিক্ষা লাভ করে তারা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনাকে এক উঁচু অট্রালিকার উপর উঠালো এবং উনাকে বেঁধে মিনজানীকের উপর রেখে দিল।
এ দৃশ্য দেখে আকাশমন্ডলী, পৃথিবী, এর মধ্যস্থিত সব, হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা এবং মানুষ ও জিন ব্যতীত সকল মাখলূকাত চীৎকার করে বললো, হে আমাদের রব! হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি তো আপনার খলীল, আপনার বন্ধু, উনাকে আগুনে নিক্ষেপ করা হচ্ছে। তিনি ব্যতীত পৃথিবীতে এমন কেউ নেই যে আপনার ইবাদত করে। অতএব উনাকে সাহায্য করার জন্য এদেরকে অনুমতি দান করুন। মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি বললেন, তিনি তো আমার খলীল তিনি ব্যতীত পৃথিবীতে আমার অন্য কোন খলীল নেই। আমি উনার ইলাহ, আমি ব্যতীত উনার আর কেউ ইলাহ নেই। যদি তিনি তোমাদের কারোর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেন, তবে সে যেন উনাকে সাহায্য করে, আমি তাকে অনুমতি দিলাম। আর যদি তিনি আমাকে ব্যতীত অন্য কারোর কাছে সাহায্য না চান, কাউকে না ডাকেন, তবে আমি উনাকে খুব জানি, আমিই উনার অভিভাবক। অতএব তোমরা উনার ব্যাপারটা আমার উপর ছেড়ে দাও। যখনই তারা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনাকে আগুনে নিক্ষেপ করতে উদ্যত হলো তখন পানির দায়িত্বে নিয়োজিত হযরত ফেরেশতা আলাইহিস সালাম তিনি উপস্থিত হয়ে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনাকে বললেন, আপনি চাইলে আগুন নিভিয়ে দিবো। বায়ুর জন্য নিয়োজিত হযরত ফেরেশতা আলাইহিস সালাম তিনি উপস্থিত হয়ে বললেন, আপনি ইচ্ছা করলে আমি আগুন উড়িয়ে নিবো। হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, তোমাদের সাহায্যের আমার কোনো প্রয়োজন নেই। আমার জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা তিনিই যথেষ্ট, তিনিই আমার উত্তম অভিভাবক।
যালিম নামরূদের লোকেরা যখন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনাকে আগুনে নিক্ষেপের জন্য উনার হাত-পা মুবারক বাঁধছিলো, তখন তিনি বলেছিলেন, আয় মহান আল্লাহপাক! আপনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। আপনি পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আপনারই, রাজত্ব আপনারই, আপনার কোন শরীক নেই ।
এরপর তারা চড়ক গাছের মাধ্যমে উনাকে আগুনে নিক্ষেপ করেছিল। এ সময় হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তিনি উনার কাছে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার কি কোন সাহায্যের প্রয়োজন আছে? তিনি জবাবে বলেছিলেন, আপনার কাছে আমার কোন প্রয়োজন নেই। হযরত জিবরাঈল ইলাইহিস সালাম তিনি আবার জিজ্ঞেস করেন, আপনার রব উনার কাছে? তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি আমার অবস্থা ভালো ভাবেই জানেন। কাজেই উনার কাছে নতুন করে আমার কিছু চাওয়ার নেই।

তাবিয়ী হযরত কা’ব আহবার রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,  হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার আগুন নিভিয়ে দেয়ার জন্য সকলেই চেষ্টা করেছিল।
কিন্তু কেবল গিরগিট বা কাকলাস সে আগুনে ফুঁক দিয়ে এর তীব্রতা বাড়াবার চেষ্টা করছিল।
আল্লামা হযরত ইমাম বাগাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার সূত্রে হযরত উম্মু শুরাইক রদ্বিয়াল্লাহু আনহা উনার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন- “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘ওয়াযাগ্ বা কাকলাশ’ হত্যা করতে আদেশ করেছেন এবং বলেছেন, হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার আগুনের তীব্রতা বাড়াবার জন্য গিরগিট তাতে ফুঁক দিয়েছিল।”

হযরত সা’দ বিন আবূ ওয়াক্কাছ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু, তিনি বলেন,

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি গিরগিট মারার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাকে ‘ফুওয়াইসিক বা ছোট অপরাধী’ বলে নামকরণ করেছেন। পবিত্র হাদীছ শরীফখানা হযরত ইমাম মুসলিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেছেন।
হযরত আবূ হুরায়রাহ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি বলেন,

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, যে ব্যক্তি প্রথম আঘাতেই গিরগিট হত্যা করতে পারবে, তার জন্য তার আমলনামায় একশ’ ছাওয়াব লেখা হবে। আর যে ব্যক্তি দ্বিতীয় আঘাতে হত্যা করবে, তার জন্য এর চাইতে কম ছাওয়াব এবং যে ব্যক্তি তৃতীয় আঘাতে হত্যা করবে, তার জন্য এর চাইতেও কম ছাওয়াব লেখা হবে। (ছহীহ মুসলিম শরীফ)

ফিকিরের বিষয়, গিরিগিটি একজন নবী উনার বিরোধীতা এবং পরোক্ষভাবে মূর্তির সাথে জড়িত হওয়ার ফলে যত দ্রুত সম্ভব গিরিগিটিকে মারার নির্দেশ রয়েছে। গিরগিটিকে এক নিঃশ্বাসে মারতে হয় কারন গিরগিটি মূর্তির সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল, কাল বিবর্তনে মানুষ গিরগিটি যারা প্রত্যেক্ষভাবে মূর্তির সাথে সংশ্লিষ্ট তাদের পরকালের ঘোষিত নিদরুন শাস্তির পাশাপাশি ইহকালে পরিহাসের কথা ভাবে কি? সুলতানা কামাল, মৃণাল হক , আমিনুল হক্ব, আরো যারা আছে এবং যারা মূর্তি থাকায় না থাকায় নিরব দর্শকের ভূমিকায় আছে সবাই, মানুষ গিরগিটির অন্তর্ভূক্ত।

এছাড়াও মূর্তি তৈরিকারীদের সম্পর্কে হাদীস শরীফে এসেছে,

“ নিশ্চয় ক্বিয়ামতের দিন ঐ ব্যক্তির কঠিন শাস্তি হবে, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টির সদৃশ্য কোন প্রাণীর ছুরত তৈরী করবে।”
(মিশকাত শরীফ)
যারা বলে, মূর্তি না থাকলে মসজিদ ও থাকবে না ।তাদের অবস্থা কি হবে? আর তাদের বিরুদ্ধে মুসলমান হিসেবে কি ব্যবস্থা নিতে হবে ? ভাববার বিষয়!

 

Views All Time
2
Views Today
7
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

  1. মৃণাল, ক্যামেল চক্রবর্তী এরা খন্নাস

  2. dr.faisal says:

    সুন্দর লিখেছেন ।

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে