“তোমরা ততোক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবেনা যতোক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের নিকট আল্লাহ পাক ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা তোমাদের জান-মাল, পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি ও সমস্ত মানুষ হতে বেশি প্রিয় না হবেন।”


হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উক্ত বাণীর সত্যতা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম নিজেদের আমল দিয়ে এমনভাবে প্রমাণ করেছিলেন; যা বিশ্বের ইতিহাসে শুধু বিস্ময়কর নয় বরং কল্পনাতীত। নিচে কয়েকটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হলো-

**তাবুকের যুদ্ধের সময় হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে সাধ্য-সামর্থ্য অনুযায়ী আল্লাহ পাক উনার পথে দান করতে আহ্বান করলেন। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহ্বানে উনার সমস্ত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নিজেদের সাধ্য-সামর্থ্যরে চেয়ে বেশি সম্পদ দান করলেন। কিন্তু হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হুব্বে নবী হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এক বিরল ইতিহাস সৃষ্টি করলেন। তিনি ঘরের সেলাইয়ের সুতা থেকে এমনকি চুলার ছাই পর্যন্ত সমস্ত কিছু এনে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ক্বদম মুবারক-এ পেশ করলেন। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জিজ্ঞেস করলেন: আপনি ঘরে কিছু রেখে এসেছেন তো? জবাবে হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন: ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আল্লাহ পাক ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত রেখে এসেছি। ইহাই আমার পরিবারের জন্য যথেষ্ট।

**উহুদ যুদ্ধের ঘটনা: কাফিররা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করেছিলো। তখন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু এতোটুকু বললেন যে, কে আছো যে আমার ঠিক সম্মুখে দাঁড়াতে পারো? একথা শ্রবণ করা মাত্র একজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সম্মুখে এসে দাঁড়ালেন আর দুশমনের নিক্ষিপ্ত তীরগুলো আপন বুকে পেতে নিলেন। যুদ্ধ শেষে দেখা গেলো উনার দেহে ৮০টি তীর নিক্ষিপ্ত হয়েছে। কিন্তু একটিও পৃষ্ঠদেশে বা পাঁজরে নিক্ষিপ্ত হয়নি বরং সবই উনার দেহের সম্মুখভাগেই নিক্ষিপ্ত হয়েছে।

**বদর যুদ্ধের সময় হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ছেলে কাফিরদের পক্ষ হয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসেছিলো। অবশ্য পরে তিনি মুসলমান হয়েছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি কথা প্রসঙ্গে উনার পিতা হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বললেন, আব্বাজান! বদর রণাঙ্গনে আমি কয়েকবার আপনাকে হাতের মুঠোয় পেয়েও কতল করিনি, যেহেতু আপনি আমার পিতা তাই তা থেকে বিরত থেকেছিলাম। তখন হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, আমি তোমাকে বদর রণাঙ্গনে দেখিনি। যদি দেখতাম তবে নিজ হাতে কতল করতাম। কেনোনা তুমি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসেছিলে। এভাবে হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সমস্ত জীবনটাই ছিলো নবী প্রেমের নিদর্শনে ভরপুর।

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের যে অসাধারণ মুহব্বত এবং আনুগত্যতা ছিলো তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আয় আল্লাহ পাক! আমাদের সকলকে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের অনুসরণ-অনুকরণ করে উনার খাছ মুহব্বত হাছিল করার এবং উপরোক্ত হাদীছ শরীফসমূহের পরিপূর্ণ মিছদাক হওয়ার তাওফিক দান করুন। (আমীন)

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

  1. সিরাত্বল মুস্তাক্বীমসিরাত্বল মুস্তাক্বীম says:

    আমীন আমীন আমীন ।

  2. আয় আল্লাহ পাক! আমাদের সকলকে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের অনুসরণ-অনুকরণ করে উনার খাছ মুহব্বত হাছিল করার এবং উপরোক্ত হাদীছ শরীফসমূহের পরিপূর্ণ মিছদাক হওয়ার তাওফিক দান করুন। (আমীন)

  3. সত্যিই কঠিন ব্যাপার। আল্লাহ পাক নসীব করুন। আমীন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে