ত্বাহিরা, আউওয়ালুল মু’মীনা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল বৈশিষ্ট্য মুবারক


মহান রব্বুল আলামীন তিনি স্বয়ং উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার শান, মান ও মর্যাদা মুবারককে বুলন্দ করেছেন এবং আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং উনার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন, ছানা-ছিফত করেছেন। কাজেই কোনো মাখলুকাত উনার ছানা-ছিফত, মর্যাদা মুবারক বর্ণনা করে কস্মিনকালেও শেষ করতে পারবে না। মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলিয়াগণ! আপনারা অন্য কোনো নারীদের মতো নন।” (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩২) অর্থাৎ উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি অন্য কোনো সাধারণ নারীদের মতো নন। উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সবচেয়ে বড় খুছুছিয়াত তিনি যাওজাতু রাসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এছাড়াও উনার অসংখ্য অগণিত খুছুছিয়াত মুবারক রয়েছে, যা খাতা কলমে লিখা সম্ভব নয়। তারপরেও কিছু বৈশিষ্ট্য মুবারক উল্লেখ করার চেষ্টা করবো। * নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে বেশ কয়েকজন উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ছিলেন এবং একই সাথে একই সময়ে অনেকজনই ছিলেন। কিন্তু উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন একা। উনার সময়ে অন্য কোনো উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ছিলেন না। * উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে শুধু একজন আওলাদ ব্যতীত সকল আওলাদ উনারা তাশরীফ মুবারক এনেছেন। * মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নসব মুবারক জারি হয়েছে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে। * উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার কবরে মুনকার-নাকিরের প্রশ্নের জওয়াব স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি দিয়ে দিয়েছেন। * স্বয়ং মহান রব্বুল আলামীন তিনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার প্রতি সালাম পাঠান। * মহান আল্লাহ পাক তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে শান্তিপূর্ণ ও কোলাহলমুক্ত জান্নাত উনার সুসংবাদ দান করেছেন। * স্বয়ং আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্পর্কে বলেছেন- “যমীনের বুকে সর্বোত্তম উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম হচ্ছেন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম।” * তিনি ছিলেন পরিপূর্ণ পবিত্রা। জাহেলিযুগেও তিনি মূর্তিপূজা থেকে পবিত্রা ছিলেন। * উনার খিদমত মুবারকের উনার আঞ্জাম দিয়েছেন জান্নাতী চার মহিলা। যথা- (১) সাইয়্যিদাতুনা হযরত হাওয়া আলাইহাস সালাম। (২) সাইয়্যিদাতুনা হযরত সারাহ আলাইহাস সালাম। (৩) সাইয়্যিদাতুনা হযরত মারইয়াম আলাইহাস সালাম। (৪) সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মে কুলসুম আলাইহাস সালাম। মোদ্দাকথা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মর্যাদা খুছুছিয়ত মুবারক কোনো কাগজ ও কোনো কলম লিখতে পারবে না, চিন্তা করাও সম্ভব নয়। উনাদের খুছুছিয়ত ওয়ারাউল ওয়ারা, ওয়ারাউল ওয়ারা, ওয়ারাউল ওয়ারা। এখন আমাদের দায়িত্ব কর্তব্য হবে উনাকে তা’যীম-তাকরীম করা, খিদমত উনার আনজাম দেয়া। তবে তা কিভাবে সম্ভব? বর্তমানে যিনি নারীদের হিদায়েতের আলোকবর্তিকা, নকশায়ে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার খিদমত মুবারক উনার আনজাম দিলে, উনাকে তা’যীম-তাকরীম করলেই সেই ফযীলত হাছিল করা সম্ভব। হে মুসলিমা! যদি চাও সেই নিয়ামত হাছিল করতে তাহলে আজি চলে আসুন আযীমুশ শান রাজারবাগ শরীফে।
Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে