থিউরি অব ‘প্রপাগান্ডা এ্যান্ড ‘ইল্যুশন অফ ট্রুথ’: সুন্নতি বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে যেভাবে অপপ্রচার চালানো হয়েছে এবং হচ্ছে!


ইহুদী-নাছারা নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রপাগান্ডা ও ইল্যুশন অফ ট্রুথ ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষ সত্য-মিথ্যা যাচাই-বাছাই করতে পারছে না। মিথ্যার গোলক ধাঁধাঁয় সাধারণরা খাচ্ছে হাবুডুবু। এই লেখাটির মাধ্যমে আমরা ইহুদী-নাছারাদের ছড়ানো ‘প্রপাগান্ডা ও ইল্যুশন অফ ট্রুথ’ বিষয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করব। ইনশাল্লাহ!
কোনো সত্য বিষয় অন্যকে জানানোর প্রচেষ্টা হচ্ছে ‘পাবলিসিটি বা প্রচার’; অপরদিকে- কোনো অসত্য বা মিথ্যাকে সত্য হিসেবে জানানোর চেষ্টা করাকে বলা হয় প্রোপাগান্ডা তথা অপপ্রচার বা উদ্দেশ্যপ্রনোদিত প্রচারণা।
উইকিপিডিয়ায় এ ব্যাপারে যা বলা হয়েছে- “প্রপাগান্ডা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা সাধারণত আংশিক সত্য বা আংশিক মিথ্যা কিংবা সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রচার করে। জনগণের আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গীর কাঙ্খিত পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত প্রপাগান্ডার পুনরাবৃত্তি ঘটানো হয় এবং সব ধরনের প্রচার মাধ্যম ব্যবহার করা হয়। বক্তৃতা, প্রচারপত্র, পোস্টার, সংবাদপত্রে বিবৃতি, চলচ্চিত্র, চিত্রকর্ম, কার্টুন, ব্যাক্তিগত ক্যানভাসিং, সংবাদ সম্মেলন, রেডিও-টেলিভিশনে প্রচার, সেমিনার, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম, অনলাইন রেডিও, ব্লগ, ক্ষুদে বার্তা ইত্যাদি প্রপাগান্ডা বিস্তারের অন্যতম মাধ্যম। প্রপাগান্ডার উদ্দেশ্যে এসব মাধ্যমে যে বার্তা প্রেরণ করা হয় সেখানে প্রকাশিত তথ্যে যৌক্তিকতার বদলে আবেগের ব্যবহার করা হয়। আদর্শগত বা অন্য কোনো দ্বন্দ্বের একটি বড় হাতিয়ার এই প্রপাগান্ডা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা।”
আর প্রপাগান্ডাকে অধিক কার্যকর ও সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যে ফর্মুলা তৈরা করা হয়েছে সেটাই হচ্ছে মূলত ‘ইল্যুশন অফ ট্রুথ’।
হিটলারের মন্ত্রী গোয়েবলস ছিলো প্রপাগান্ডা মিনিস্টার। গোয়েবলস-এর প্রপাগান্ডাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আরো কার্যকরি করার জন্যে আধুনিক মনোবিজ্ঞানে এর একটা রূপকে বলা হয়েছে ‘ইল্যুশন অফ ট্রুথ’ বা ‘সত্য বিভ্রম’। মনোবিজ্ঞানে প্রপাগান্ডা বা গুজবের একটা নীতি লেখা রয়েছে- একটি মিথ্যাকে বারবার বলাবলি করতে থাকলে সেই মিথ্যাটা সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।” বাংলায় যেটাকে আমরা বলি- দশ চক্রে ভগবান ভূত।
আমাদের সমাজের এক শ্রেণীর মানুষের মনে বাল্যবিবাহ সম্পর্কে যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে সেটা ইসলামবিদ্বেষী বিধর্মী কাফির-মুশরিকদেরই প্রপাগান্ডারই ফসল। আমাদের সমাজে বাল্য বিবাহকে খারাপ হিসেবে প্রচলন করার যে অবিরাম চেষ্টা করা হচ্ছে সেটি একটি প্রতিষ্ঠিত মিথ্যা অপপ্রচার তথা ‘ইল্যুশন অফ ট্রুথ’ বা ‘সত্য বিভ্রম’।
যারা বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে ‘ইল্যুশন অফ ট্রুথ’ ছড়িয়েছে তারা কিন্তু বাল্যবিবাহ যে শরীয়ত সম্মত ও খাছ সুন্নত মুবারক- এই বিষয়টি সামনে আনেনি। কারণ দ্বীন ইসলাম উনার বিষয়টা আনলে মুসলমানরা কখনও বাল্যবিবাহ বিরোধী প্রপাগান্ডা মেনে নিতো না। তাছাড়া ব্রিটিশদের প্রায় দুই’শ বছরের শোষণ ও বঞ্চণার ফলে মুসলমানরা দ্বীন ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞান থেকে দূরে সরে যাওয়ায় মুসলিম দেশগুলোতে কাফের-মুশরেকদের ছড়ানো গুজব ও অপপ্রচারকে আঁচ করতেও পারে নি।
উপরে যেটা উল্লেখ করেছি যে, কাফেররা কিন্তু বাল্যবিবাহের ব্যাপারটি ধর্মীয় আবরণে বলেনি। ওরা বরং প্রবেশ করেছিল বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও সামাজিক ছদ্মাবরণে। যেমন- “বাল্যবিয়ে অশিক্ষিতদের কাজ! বাল্যবিয়ে মা ও শিশুর স্বাস্থের জন্য ঝুকিপূর্ণ! নারী শিক্ষার অন্তরায় এই বাল্য বিয়ে! ইত্যাদি”- এসব প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে তারা বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে জনমত তৈরির অপচেষ্টা করেছে। নাঊযুবিল্লাহ!
উপরের কথাগুলো বিভিন্ন মাধ্যম ও দৃষ্টিকোণ থেকে শুনতে শুনতে স্বাভাবিক হয়ে গেছে। নাঊযুবিল্লাহ! এতো বেশি স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে, কেউ বাল্য বিবাহের পক্ষে কিছু বলা দূরে থাক ‘বাল্যবিবাহ মন্দ কি ভাল’ এতোটুকু চিন্তা করার প্রবণতাটাও হারিয়ে ফেলেছে। নাঊযুবিল্লাহ!
এর কারণ হচ্ছে- একই কথা বার বার বিভিন্ন মাধ্যম ও দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলে বলে ‘বাল্যবিবাহ মন্দ’ নামক একটি ফল’স বিলিফ তথা একটি ‘ভূয়া ও মিথ্যা বিশ্বাস’কে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।
এখানে বিভিন্ন মাধ্যম ও দৃষ্টিভঙ্গি বলতে বুঝানো হচ্ছে যে, আমাদের পাঠ্য পুস্তকে পড়ানো হচ্ছে- বাল্যবিবাহ করা হচ্ছে পশ্চাদপদ ও অশিক্ষিত শ্রেণীর কাজ; নাঊযুবিল্লাহ! সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে- বাল্যবিবাহ অভিশাপ; নাঊযুবিল্লাহ! সভা-সেমিনারগুলোতে বলা হচ্ছে- বাল্যবিবাহ ঠেকাতে সচেতনতা তৈরি করতে হবে; নাঊযুবিল্লাহ! ডাক্তাররা বিবৃতি দিচ্ছে- বাল্যবিয়ে মা ও শিশুর স্বাস্থের জন্য খুবই ঝুকিপূর্ণ এবং এটা জরায়ু ক্যান্সারেরও কারণ ইত্যাদি ইত্যাদি। নাঊযুবিল্লাহ! সেই ১৯২৯ সালে ব্রিটিশ কর্তৃক বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন হওয়ার পর থেকেই ব্রিটিশদের তৈরি করা লেখক, বুদ্ধিজীবী, কবি, সাহিত্যিক ও রাজনীতিকরা প্রায় ১০০ বছর যাবত বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে লিখে যাচ্ছে ও বলে যাচ্ছে তথা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। নাঊযুবিল্লাহ!
কিন্তু এতোগুলো বছর পার হয়ে গেলেও সাধারণ মুসলমান দূরের কথা আলেম-ওলামাগণও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সুদীর্ঘ সময় যাবত চলে আসা এসব অপপ্রচারের কার্যকরী কোনো জবাব বা পদক্ষেপে আসতে পারেনি। এজন্য এক সময় যে বাল্য বিয়ের প্রচলনকে সভ্য সমাজের পবিত্রতা ও শালীনতার অন্যতম একটা মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হত মুসলমান সমাজে, আজ সেই মুসলিম পরিবারের সন্তানরাই বাল্য বিয়ের বিরোধীতা করছে। নাঊযুবিল্লাহ!
বাল্যবিয়ের বিরোধিতা করার অন্তরালে অমুসলিমদের রয়ে গেছে ইসলামবিদ্বেষ ও মুসলমানদের জন্মহার কমানো। নাউযুুবিল্লাহ! কিন্তু মুসলমান সন্তানরা বাল্যবিয়ের বিরোধীতা করে কীভাবে? মুসলমানদের তো জানাটা স্বাভাবিক যেখানে স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বাল্যবিবাহ মুবারক করেছেন এবং দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! অর্থ্যাৎ বাল্য বিয়ে হচ্ছে খাছ সুন্নত। দ্বীন ইসলাম বিয়ের নির্দিষ্ট কোনো বয়স বেঁধে দেয়নি। মূলত অপপ্রচার আর অজ্ঞতার ঘেরাঢোপে পড়ে মুসলমান নিজেরাই আজ নিজেদের বিরোধিতা করছে। নাউযুবিল্লাহ!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে