দক্ষিণ আফ্রিকায় ছুরিকাঘাতে নিহত জুয়েলের লাশ সোনাইমুড়ীতে দাফন


দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে সন্ত্রাসীদের হাতে ছুরিকাঘাতে নিহত ইমরান হোসেন জুয়েল’র (৩৫) লাশ গ্রামের বাড়িতেদাফন করা হয়েছে। ২৩ ডিসেম্বর রবিবার সকাল ১১ সোনাইমুড়ি উপজেলার বজরা ইউনিয়নের পূর্ব চাঁদপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়। জুয়েল ওই গ্রামের মুন্সী বাড়ির আবদুল বারেক মিয়ার ছোট পুত্র। এর আগে শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশীদের সহায়তায় জুয়েলের লাশ নিজ বাড়িতে পৌঁছে। লাশ পৌঁছার পর হাজার হাজার মানুষ লাশ এক নজর দেখার জন্য ছুটে আসে। লাশ দেখে মা-বাবাসহ পরিবারের সবাই শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে।

জুয়েলের ভাই কবির হোসেন জানান,‘ জুয়েল ২০০৫সালের ২৬মার্চ দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। আফ্রিকার ইস্টেনক্যাপ দাবাগাজি নামক এলাকায় জুয়েল ব্যবসা করতেন। গত কয়েক মাস পূর্বে স্থানীয় কয়েকজন কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসী তার দোকানে এসে চাঁদাদাবি ও তার মারধর করে। এ ঘটনায় জুয়েল একটি মামলা করলে পুলিশ তাদের গ্রেফতারকরে। জামিনে বের হওয়ার পর সন্ত্রাসীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। বৃহস্পতিবার একটি বাড়ি থেকে ওই সন্ত্রাসীরা জুয়েলকে ধরে নিয়ে যায়। শুক্রবার সকালে জুয়েলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে কেপটাউন নামক স্থানে জুয়েলের গলাকাটা লাশ দেখে স্থানীয় বাংলাদেশীরা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। শুক্রবার রাতে আফ্রিকা থেকে বাংলাদেশীরা জুয়েলের মৃত্যু সংবাদটি জানায়। জুয়েলের মৃত্যুর খবরে পরিবারের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

তিনি আরো জানান, ২০১০সালে জুয়েল দেশে আসেন। তিন মাস থেকে আবার ফিরে যান। সাত বছরের শ্রাবণ ও দেড় বছরের বর্ষা নামের দুই সন্তান রয়েছে জুয়েলের। জুয়েল আগামি ৭ জানুয়ারি দেশে আসার কথা ছিল।

উল্লেখ্য, গত কয়েকমাসে দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের দ্বারা নোয়াখালীর কয়েকজন যুবক নির্মমভাবে নিহত হয়। নিহতদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও টাকা লুট পাট করার জন্য একটি চক্র এ হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে আসছে।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে