সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত। ব্লগের উন্নয়নের কাজ চলছে। অতিশীঘ্রই আমরা নতুনভাবে ব্লগকে উপস্থাপন করবো। ইনশাআল্লাহ।

“দাদা অর্ধেকটা দিলুম পুরোটা খাবেন কিন্তু !” হা হা হা


12938292_1605920439728759_6366604865212934491_n

অনলাইন জগতে প্রায়ই হিন্দুদের বলতে শুনা যায়, এই বাংলাদেশের সব জমি নাকি হিন্দুদের। তারা মুসলমানদের ওপর হিন্দুদের জমি কেড়ে নেয়ার অপবাদ দেয়। নাউযুবিল্লাহ!

অথচ আসলে ইতিহাস বলছে সম্পূর্ণ উল্টো কথা। ইতিহাসের সত্য হচ্ছে, ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করে মুসলমানদের জমিগুলো কেড়ে নিয়ে হিন্দুদের দেয়া হয়। শুধু তাই নয়, সেসব জমি ব্রিটিশরা দেয় তাদের কিছু চাকরশ্রেণীর হিন্দুদের।এই চাকরশ্রেণীর হিন্দুদের মধ্যে রবীন্দ্র ঠগের পূর্বপুরুষও রয়েছে। এসব চাকর থেকে জমিদার হওয়া হিন্দুদের তালিকা ইতিহাসে আজও সংরক্ষিত আছে। নীচে চাকর থেকে হিন্দুদের জমিদার হওয়ার ইতিহাস ও তাদের তালিকাঃ

১) মতিলাল শীল প্রথমে ছিল খুব গরীব। ইংরেজের সহযোগী হওয়ার ফলে এত জমি ও জমিদারির মালিক হল যে তার থেকে বার্ষিক আয় হতো ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
২) মুর্শিদাবাদের কান্দি ও পাইকপাড়ার জমিদার রাধাকান্ত সিংহ ছিল সিরাজউদ্দৌলার একজন কর্মচারী মাত্র। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীকে দলিলপত্র পাচারের জন্য কোম্পানী তাকে বিশেষভাবে পুরষ্কৃত করে।
৩) কান্তমুদি প্রকৃত অর্থেই ছিল মুদির দোকানদার। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রণেতা হেস্টিংসের অত্যাচারের সহযোগিতায় সে ও তার পুত্র লোকনাথ নন্দী ‘রাজা’ পদ পেয়েছিল। বহু জমিদারির মালিক হয়েছিল তারা। যার বার্ষিক জমার মোট পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ১০৫ সিক্কা টাকা।
৪) হাওড়ার আন্দুল রাজপরিবারের প্রতিষ্ঠাতা রামচরণ রায়। গভর্নর ভান্সিটার্ট ও জেনারেল স্মিথের অধীনে চাকর থেকে, তাদের অত্যাচারের সহযোগী হয়ে সেও তার আখের গুছিয়ে নিয়েছিল সর্বতোভাবে।
৫) খিদিরপুর ভুকৈলাশ রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা গোকুলচন্দ্র ঘোষাল। সেও ভেরেলস্ট সাহেবের দেওয়ান বাচাকর ছিল। শেষে সন্দ্বীপের জমিদারিটি গুছিয়ে নিয়েছিল।
৬) কালীশংকর রায় গুণ্ডা বা লাঠিয়াল ছিল। সাহেবদের গোলামি করে জমিদারির মালিক হয়ে ‘রাজা’ বলে বিখ্যাত হয়েছিল সে।
৭) দিনাজপুরের রাজপরিবারের প্রতিষ্ঠাতা মানিকচাঁদ ছিল মি. জন ইলিয়টের চাকর। তার পৌত্র ফুলচাঁদ ইংরেজদের দেওয়ানী পদ পেয়ে কিনে নিয়েছিল দিনাজপুরের জমিদারি।
৮) রানাঘাটের কৃষ্ণপাল ও শম্ভুপাল ছিল পান ব্যবসায়ী।ইংরেজের গোলামি করে বিরাট ধনী হয়েছিল তারা।
৯) সিঙ্গুরের দ্বারকানাথের বাবা প্রথমে গৃহভৃত্যের কাজ করত। ১৮০৭ সালে দ্বারকানাথ ইংরেজদের নজরে পড়ে হয়ে যায় বিরাট ধনী। উল্লেখ্য, এই দ্বারকানাথই রবীন্দ্রর দাদা।
১০) হরিঘোষ ইংরেজদের অধীনে মুঙ্গের দুর্গের চাকর ছিল। সে এত বড় ধনী হয়েছিল যে ‘হরিঘোষের গোয়াল’ প্রবাদটি তার নামেই প্রচলিত হয়।
১১) এমনিভাবে ধনী হয়েছিল জোড়াসাঁকোর সিংহপরিবার। শান্তিরাম সিংহ মিডলটন ও স্যার টমাস রামবোল্ডের চাকর ছিল।

(তালিকাটি গোলাম আহমাদ মোর্তজার ‘বজ্রকলম’ বই থেকে নেয়া। বইয়ে দেয়া তালিকাটি আরও বড়ো, পাঠকের সুবিধার্থে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা দেয়া হয়েছে)প্রকৃতপক্ষে হিন্দুরা কখনোই উচ্চশ্রেণীর ছিল না, তারা সবসময়ই নীচে ছিল, আছে এবং থাকবে। ব্রিটিশ আমল ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ছিল একটি দুর্ঘটনা, যার বলে কিছু চাকরশ্রেণীর হিন্দু জমিদার সাজতে পেরেছিল। কিন্তু তাদের রক্তে এখনও ছোটলোকি রয়ে গিয়েছে, যার ফলে কলকাতার হিন্দুরা এখন কেন্দ্রের কাছে ভিক্ষা করে। অতিথি বাসায় আসলে তারা বলে, “দাদা অর্ধেকটা দিলুম পুরোটা খাবেন কিন্তু!”

এসব হিন্দুদের দখলকৃত সম্পত্তি উদ্ধার করতে ১৯৩৫ সালে একে ফজলুল হক তার নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ক্ষমতায় গেলে তিনি ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ তুলে দিবেন। তবে ব্রিটিশ আমলে ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ রদ করা সম্ভব হয়নি, পাকিস্তান আমলে গিয়ে ১৯৫০ সালে চূড়ান্তভাবে ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ রদ হয়।এই ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ রদের ফলেই নিচুশ্রেণীর হিন্দুদের লম্ফঝম্ফ থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ একটি আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত হতে পেরেছে। সেই কালো অধ্যায় শেষ হয়েছে ৫০ বছরেরও বেশি সময় আগে, সেক্ষেত্রে এদেশে কোন ‘জমিদার বাড়ি’ আর হিন্দুদের মালিকানায় থাকার কথা নয়।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে