দাম কম, গরু নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন বেপারিরা,,,


রাজধানিতে অত্যাধিক দাম কমে যাওয়ায় বাজারের গরু বিক্রি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। আশানুরুপ দামে বিক্রি করতে না পেরে বিক্রেতারা গরু নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন বাড়ি।

শুক্রবার রাজধানির গাবতলী, আগারগাঁও, তালতলাসহ বিভিন্ন গরুর হাট ঘুরে এ দৃশ্য দেখা গেছে।

বুধবারের দিকে গরুর দাম কিছুটা স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু গতকাল থেকে দাম অনেক কমতে শুরু করে। আজ একেবারেই দাম পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন বেপারিরা। তার‍া বলেন, আগে যে গরু ৪০ হাজার টাকা দাম উঠেছে- আজ সেই গরুর দাম ২৫ হাজার টাকাও বলছেন না ক্রেতারা।

সকাল থেকেই গাবতলী গরুরহাট থেকে অনেক ব্যবসায়ী গরু বিক্রি না করে বাড়ে ফিরে যাচ্ছেন।

বেলা ১১টার দিকে ট্রাকে গরু নিয়ে হাট ছেড়ে চলে গেছেন সিরাজগঞ্জের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শাহ আলম। তিনি বাংলানিউজকে জানান, ২০টি গরু নিয়ে গত ১৯ তারিখে গাবতলী এসেছেন। তার মধ্যে মাত্র ৩টি গরু বিক্রি করতে পেরেছেন। বাকি গরু বিক্রির কোন সম্ভবনা না থাকায় ফিরে যাচ্ছেন।

সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরের পোতাজিয়া গ্রামের আরেক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ফজলুল হক ২৫টি গরু নিয়ে এসে একটিও বিক্রি করতে পারেন নি। মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানার জামাল মোল্লা ৫টি গরু নিয়ে এসেছেন। ১টি গরুও বিক্রি করতে না পেরে তিনি প্রায় কেদেঁই ফেলেন।

শুধু গাবতলী নয়- ঢাকার অন্যান্য হাট এমনকি ঢাকার বাইরেও গরুর দাম পাচ্ছে না ব্যবসায়ীরা। ঢাকার বাইরে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার আলীগঞ্জ বাজারে ১৪টি গরু নিয়ে যান ফজলুল হকের ধর্ম জামাই মোহাম্মদ ইউসুফ।

তিনি মাত্র ২টি গরু বিক্রি করতে পেরেছেন। গরুর দাম কম থাকা প্রসঙ্গে ফজলুল হক বলেন, এবার বর্ডার দিয়ে বেশি পরিমাণ গরু এসেছে। সরকার বর্ডার লুজ করে দেয়াতে এ অবস্থা।

তাছাড়া রাজশাহীসহ বিভিন্নস্থানে যৌথ হাট বসেছে। এসব হাটে গরু নিয়ে আসেন ভারতীয়রা। সেখান থেকে বাংলাদেশি বেপারীরা কোন রকম ট্যাক্স না দিয়েই দেশের ভেতরে গরু নিয়ে আসেন। ট্যাক্স ছাড়া বিভিন্নভাবে আসা গরুর দামের সঙ্গে দেশি ব্যবসায়ীদের খরচ বিশাল ফারাক তৈরি হয়েছে।

ফলে ভারত থেকে আনা একটা ১০ মন ওজনের গরু ৫০/৬০ হাজার টাকা বিক্রি করে দিচ্ছেন। অন্যদিকে একই সাইজের একটা দেশি ষাঁড়ের দাম পড়বে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। তাই মানুষ ভারতীয় গরুর দিকে ঝুকেঁ পড়ছে।

তবে গরুর দাম কমার কারণ সর্ম্পকে ভিন্ন কথা বলেন ভারতীয় গরু ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, এবার বাজারে দেশি কি ভারতীয় সব ধরণের গরুই অনেক বেশি এসেছে। ফলে দেশি কিংবা ভারতীয় বলে কথা নেই সব গরুর দামই অনেক কম।

গাবতলী হাটের ৫ নম্বর হাসিল উত্তোলন কাউন্টারের ইনচার্জ মোহাম্মদ সফিকুর রহমানও দাম কমার জন্য এককভাবে সদ্য আনা ভারতীয় গরুকে দায়ী করতে নারাজ।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, গত ১০/১২ বছর থেকে গাবতলী হাটের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু এবারের মত এত গরু কখনোই দেখেননি। আগে টাওয়ার পর্যন্ত গরুর হাট বিস্তৃত হতো না। অথচ এবার স্লুইসগেট পর্যন্ত শুধু গরু আর গরু। এ জন্যই দাম কম। তবে এর জন্য বেশি পরিমাণ ভারতীয় গরু আসাটাও দায়ী।

মোহাম্মদ সফিকুর রহমান আরো বলেন, দাম কমার আরেকটা কারণ মানুষের পকেটে টাকা নাই। মানুষ ব্যয় সংকোচন করছে। ফলে যে লোক গত বছর ১ লাখ টাকা দিয়ে গরু কিনেছেন এবার তিনি ৭০/৭৫ হাজার টাকার মধ্যেই গরু কিনতে চাচ্ছেন।

তিনি বলেন, আমি নিজেও গতবার ১ লাখ টাকা দিয়ে গরু কিনেছি। অথচ এবার ৭০ টাকা বাজেটের গরু কিনেছি।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে