দিনশেষে সে একজন মেয়ে-ই!


rfgrrএকদা ট্রেনে করে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলাম ফ্যামিলির বেশ কয়েকজন মিলে।আমাদের পাশেই এক মেয়ে বসেছিল মোটামুটি লম্বা-ই শ্যামলা গড়নের।অনেকক্ষণ পর মেয়েটাই প্রথম কথা বললো আমার বোনের সাথে।যাত্রা দীর্ঘই ছিলো প্রায়, এতোটা সময়ে মেয়েটার সাথে অনেক কথা বলতে বলতে মোটামুটি এ বিষয়টা জানা গেলো যে মেয়েটা ভুল ট্রেনে উঠেছে।গন্তব্যস্থলও তার অজানা।কেননা ও পথে সে এই প্রথমই যাচ্ছে।যাচ্ছিলো তার বয়ফ্রেন্ড এর বাড়ি এবং নিজের বাসায় না বলেই!আমরা যখন আমাদের স্থানে পৌছে গেলাম,নেমে যাবো।তখন মেয়েটার বিষয়েও ঠিক হলো সে আমাদের সাথেই নেমে আরেক ট্রেন ধরে তার স্টেশনে চলে যাবে এবং সেখান থেকে তার bf নিয়ে যাবে!কিন্তু বিধিবাম!নামতে নামতে রাত ৯টার মতো ,ওদিকে মেয়েটার যে ট্রেনে যাওয়ার কথা সেটাও চলে গিয়েছে। এতোরাতে একটা মেয়ে একলা কীভাবে যাবে?! তাও আবার অচেনা জায়গা!মেয়েটাও ভয়ে অস্থির। কি করবে তাও চিন্তা করতে পারছে না। এদিকে আমরাও এই মেয়েকে একলা রেখেও যেতে পারছি না,আবার সাথেও নিতে পারছি না! কে কাকে বিশ্বাস করবে বলুন!মেয়েটার কাছে আমাদেরকে বিশ্বাস করার মতো মনে হয়েছিলো কেননা আমরা একই পরিবারের অনেকেই ছিলাম।কিন্তু এই মেয়ে তো একা,একেবারেই অচেনা!সে ডাকাত গ্রুপের সদস্য কি-না কে বলবে!
মেয়ের bf এর সাথে আমাদেরও কথা হলো (মোবাইলে)। সে জানালো সে এসেই নিয়ে যাবে,কিন্তু ওদিকে আবার হরতাল থাকার কারণে রাস্তায় গাড়ি বন্ধ,তাই ছেলের বাবাও ছেলেকে বের হতে দিচ্ছিলো না! কঠিন বিপদ! মেয়েতো প্রায় কেঁদেই দিচ্ছিলো।কিন্তু আমরাও নিরুপায়!সাধারণ মানুষ,ঝামেলায় জড়াতে অনিচ্ছুক।মেয়ে অবশেষে জানালো যে সে আসলে পুলিশ এর চাকরী করে এবং মহিলা হোস্টেলে থাকে।তার আইডি কার্ডও দেখালো!যাইহোক শেষমেশ ফয়সালা হলো সেই ছেলেই এম্বুলেন্স ভাড়া করে আসবে।
এতো বড় একটা ঘটনা শেয়ার করলাম কেন জানেন???মেয়েটা কিন্তু পুলিশ ছিলো,কর্মজীবী মহিলা!কিন্তু সেও কিন্তু তার নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না।দিনশেষে সে একজন মেয়ে-ই,একজন নারী।
এটা তাকে মেনে নিতেই হবে যে শারীরীকভাবে বা শক্তির দিক দিয়ে যেভাবেই বলা হোক,সৃষ্টিগতভাবেই সে দুর্বল।অনেক কিছু করার ক্ষমতাই তার নেই।তাকে অবশ্যই নিরাপত্তার জন্য তার ফ্যামিলি,তার মাহরামের উপর নির্ভর করতেই হয়।চাকরী একটা মেয়েকে কখনোই নিরাপত্তা দেয় না!কখনোই না!
একটা মেয়ের অধিকার,তার ফ্যামিলির মাহরাম পুরুষ যারা রয়েছে তাদের কাছ থেকে পূর্ণ নিরাপত্তা প্রত্যাশা করা এবং তার মাহরামগণও সে বিষয় নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর এবং সচেষ্ট।তবুও দেখা যায় নারীবাদীতার ভুল থিউরীতে মেয়েগুলো এখন একলা চলতে বেশি পছন্দ করে এবং কখনো কখনো বিপদের সম্মুখীন হয়ে ওঠে।
নিজের ভালো তো পাগলেও বুঝে!তাই মেয়েদের উচিত যথাসম্ভব মাহরামদের সাথেই ঘর থেকে বের হওয়া।অবশ্যই একজন মেয়ের, তার স্বামী,বাবা,ভাই,আপন মামা এবং আপন চাচা অর্থাৎ মাহরাম পুরুষ ছাড়া আর কাউকে বিশ্বাস না করাটাই মঙ্গলজনক।
মহান আল্লাহ্‌ পাক সকল নারীকে সুবুদ্ধি দান করুন এবং হেফাজত করুন।আমীন।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে