‘দুই প্রকার ইলম অর্জন করা সকলের জন্য ফরয, ১. ইলমে ফিক্বাহ, ২. ইলমে তাছাউফ।’


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘তোমরা সকলে আল্লাহওয়ালা হয়ে যাও।”

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘দুই প্রকার ইলম অর্জন করা সকলের জন্য ফরয, ১. ইলমে ফিক্বাহ, ২. ইলমে তাছাউফ।’

আল্লাহওয়ালা হতে হলে উক্ত উভয় প্রকার ইলমই অর্জন করতে হবে। তাই পিতা-মাতা জীবিত থাকা অবস্থায় যেরূপ ইলমে ফিক্বাহ বা দুনিয়াবী শিক্ষার জন্য মাদরাসা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা হয়। তদ্রƒপ পিতা-মাতা জীবিত থাকতেই ইলমে তাছাউফ অর্জন করার জন্য পিতা-মাতা ও সন্তান সকলকেই হক্কানী-রব্বানী শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হতে হবে। যারা বলে ‘পিতা-মাতা জীবিত থাকতে মুরীদ হওয়া যায় না’- তাদের এ বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে কুফরীমূলক। কারণ এ বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে মহাপবিত্র কুরআন শরীফ ও মহাপবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের খিলাফ। যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যূল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদে রসূল, মাওলানা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, প্রত্যেক পিতা-মাতার কর্তব্য- কোনো হক্কানী-রব্বানী মুর্শিদ ক্বিবলা গ্রহণ করে ইলমে তাছাউফ শিক্ষা করা। আর তাদের দায়িত্ব তারা স্বীয় সন্তানদের যেভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেয়, ঠিক অনুরূপভাবেই কোনো হক্কানী-রব্বানী মুর্শিদ ক্বিবলা উনার দরবার শরীফ-এ পৌঁছে দেয়া। মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আজকাল অনেক লোক ‘কিল্লতে ইলম কিল্লতে ফাহম’ অর্থাৎ কম জ্ঞান, কম বুঝের কারণে মনে করে ও বলে থাকে যে- ‘পিতা-মাতা জীবিত থাকাকালীন অথবা পিতা-মাতার অনুমতি ব্যতীত কোনো মুর্শিদ ক্বিবলা গ্রহণ করা যাবে না’। এ সমস্ত বক্তব্য সম্পূর্ণরূপেই অজ্ঞতামূলক। এর সাথে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কোনোই সম্পর্ক নেই। মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, “ইলম অর্জন করা ফরয।” অন্য মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, “ইলম দু’প্রকার। (১) ইলমে ফিক্বাহ (২) ইলমে তাছাউফ।” মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, ইলমে তাছাউফ শিক্ষা করা ও মুর্শিদ ক্বিবলা গ্রহণ করা ফরয। যেমন ফরয ইলমে ফিক্বাহ শিক্ষা করা। আর ইলমে ফিক্বাহ শিক্ষা করার জন্যই প্রত্যেকের পিতা-মাতা অথবা মুরুব্বীরাই তাদের সন্তানদেরকে মাদরাসায় ভর্তি করিয়ে থাকেন। ইলমে ফিক্বাহ হচ্ছে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার অর্ধেক ইলম। কারো যদি পিতা-মাতা অথবা মুরুব্বী জীবিত না থাকে, তাহলে তার পক্ষে ইলমে ফিক্বাহ শিক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ ইলম শিক্ষা করা অবস্থায় থাকা, খাওয়া, পরা ইত্যাদি যেমন জরুরত রয়েছে; তদ্রƒপ ইলমে তাছাউফ শিক্ষা করার সময়ও থাকা, খাওয়া, পরা ইত্যাদির জরুরত রয়েছে। তাই পিতা-মাতা উনাদেরও জীবিত থাকা দরকার রয়েছে। মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, যদি পিতা-মাতা অথবা মুরুব্বী জীবিত থাকা অবস্থায় ইলমে তাছাউফ শিক্ষা করা না যায়, তাহলে যে সন্তানেরা পিতা-মাতা জীবিত থাকা অবস্থায় মারা যাবে তাদের পক্ষে ইলমে তাছাউফ শিক্ষা করা সম্ভব হবে না; ফলে তারা একটি ফরয পালন করা থেকে মাহরূম থেকে যাবে। আর যারা বেঁচে রইলো তাদের ইলমে তাছাউফ শিক্ষা করার জন্য পিতা-মাতার মৃত্যু কামনা করতে হবে। নাউযুবিল্লাহ! অথচ পিতা-মাতার মৃত্যু কামনা করা একটি শক্ত কবীরা গুনাহর কাজ। নাউযুবিল্লাহ! মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হালাল কামাই করা ফরয। হালাল কামাই করার জন্য মানুষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশুনা করে অথবা কোনো কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়। এই শিক্ষা গ্রহণ করার সময়ও পিতা-মাতার জীবিত থাকার দরকার আছে। যাদের পিতা-মাতা জীবিত থাকে না, তাদের পক্ষে উপযুক্ত শিক্ষা গ্রহণ করা সাধারণত সম্ভব হয় না। এর যথেষ্ট প্রমাণ আছে। আর যা ব্যতিক্রম তা সম্পর্কে বলা হয়- নগণ্য ধর্তব্য নয়। মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, যেকোনো কাজ করার পূর্বে পিতা-মাতার অনুমতি নিয়েই করা বরকতের কারণ। সেজন্য যে বিষয়ে পিতা-মাতার জ্ঞান নেই, সে বিষয়ে দোয়া চাবে। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে হুকুম হলো- মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যদি তোমরা না জানো, তাহলে যারা জানেন তাদেরকে জিজ্ঞাসা করে জেনে নাও।” মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হ্যাঁ, যদি কারো পিতা-মাতা, পীর, বুযূর্গ, ওলীআল্লাহ অথবা হক্কানী আলিম হন, তাহলে উনাদেরকে জিজ্ঞেস করে নিতে হবে। যার পিতা-মাতার ইলম-কালাম নেই, তাদের যদি মুর্শিদ ক্বিবলা গ্রহণ সম্পর্কে জানানো হয় এবং যদি তারা অনুমতি দেন তাহলে আলহামদুলিল্লাহ। আর যদি পিতা-মাতা মুর্শিদ ক্বিবলা গ্রহণ করতে নিষেধ করেন- তা কি মানতে হবে? অবশ্যই নয়। সেটাই মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন, “যদি তারা তোমাদেরকে শিরক করার জন্য আদেশ করেন যে বিষয়ে তাদের জ্ঞান নেই, তাহলে তাদের অনুসরণ করো না। দুনিয়াতে তাদের সাথে সৎভাবে জীবনযাপন করো।” মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারা এটাই বুঝা যায় যে, পিতা-মাতা যদি কোনো হুকুম করেন আর তা যদি সম্মানিত ইসলামী শরীয়তসম্মত হয়, তাহলেই তা পালন করা যাবে। আর যদি সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার খিলাফ হয়, তবে তা অবশ্যই পালন করা যাবে না। তাই প্রত্যেক পিতা-মাতার জন্য ফরয হচ্ছে- কোনো হক্কানী-রব্বানী মুর্শিদ ক্বিবলা গ্রহণ করে ইলমে তাছাউফ শিক্ষা করা। আর স্বীয় সন্তানদের যেভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেয়, ঠিক অনুরূপভাবেই কোনো হক্কানী-রব্বানী মুর্শিদ ক্বিবলা উনার ছোহবত মুবারকে পৌঁছে দেয়া।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে