দুই সিজদাহর মাঝখানে দোয়া পাঠ করার আহকাম ও মাসয়ালা


দুই সিজদার মাঝখানে দোয়া পড়ার সময় সাবধান থাকতে হবে। কারণ দুই সিজদার মাঝখানে দোয়া পড়ার দুই রকমের হুকুম রয়েছে। যথাঃ
(১) ফরয, ওয়াজীব, সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামায জন্য এক ধরনের হুকুম।
(২) নফল ও সুন্নতে যায়েদা নামাযের জন্য আলাদা হুকুম।

(১)ফরয,ওয়াজীব, সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামায জন্য এক ধরনের হুকুমঃ
দুই সিজদার মাঝে ফরয, ওয়াজীব ও সুন্নাতে মুয়াক্কাদা নামাযে শুধুমাত্র একবার পাঠ করতে পারেন
اَللَّهُمَّ اغْفِرْ لِيْ
“আল্লাহুম্মাগফিরলী,

সাবধান! সাবধান!! সাবধান!!! ফরয নামাযে এর চেয়ে বেশি পড়লে সিজদায়ে সাহু ওয়াজীব হবে। আর সেজদায়ে সাহু না করলে নামায ফাসিদ বা ভঙ্গ হবে।

(২) নফল ও সুন্নতে যায়েদা নামাযের জন্য আলাদা হুকুমঃ
আর শুধু মাত্র নফল নামাজে দুই সিজদার মাঝখানে পড়ুন
اَللَّهُمَّ اغْفِرْ لِيْ وَارْحَمْنِيْ وَاهْدِنِيْ وَعَافِنِيْ وَارْزُقْنِيْ

“আল্লাহুম্মাগফিরলী, ওয়ারহামনী, ওয়াহদিনী, ওয়াজবুরনী, ওয়া‘আফিনী, ওয়ারযুকনী, ওয়ারফা’নী”
অর্থঃ হে মহান আল্লাহ পাক! আপনি আমাকে মাফ করে দিন, আমার উপর রহমত মুবারকত দান করুন, আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন, আমার জীবনের সমস্ত ক্ষয়ক্ষতি পুরন করে দিন, আমাকে নিরাপত্তা দান করুন এবং আমাকে রিজিক দান করুন, ও আমার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিন। [সহীহ আত-তিরমিযী শরীফ ১/৯০]

মাসয়ালা বিস্তারিতঃ

মুহতারাম! যে সকল কারণে সাহু সিজদা দিতে হয় তাহলো,
(১) নামাজের মধ্যে কোন ফরজ বা ওয়াজিব আদায়ে বিলম্ব হলে।
(২) কোন ফরজ দুইবার আদায় হলে।
(৩) নামাজের মধ্যে কোন ফরজ আগ-পর করে ফেললে।
(৪) ভুলে বা অনিচ্ছাকৃত কোন একটি বা কয়েকটি ওয়াজিব বাদ পড়লে।
(৫) কোন ওয়াজিব পরিবর্তন করলে। (নাজমুল ফাতাওয়া ২/৪৫৪)
মুহতারাম! ফরয, ওয়াজীব, সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ নামাযে দুই সিজদার মাঝখানে্ এক তসবীহ থেকে তিন তসবীহ পরিমান সময় বসা ওয়াজীব।

কেউ যদি এক তসবীহ এর চেয়ে কম অথবা তিন তসবী এর চেয়ে বেশী পরিমান সময় দুই সিজদার মাঝে বসে তাহলে সাহু সিজদা ওয়াজীব হবার দুটি কারণ সংঘটিত হবে আর তা হলোঃ
(১) ফরয, ওয়াজীব, সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ নামাযে দুই সিজদার মাঝখানে্ এক তসবীহ এর চেয়ে কম পরিমান বসলে ওয়াজীব তরক হবে। ফলে সিজদায়ে সাহু ওয়াজীব হবে।
(২) ফরয, ওয়াজীব, সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ নামাযে দুই সিজদার মাঝখানে তিন তসবীহ এর চেয়ে বেশী পরিমান সময় বসলে পরবর্তী ফরয ”দ্বিতীয় সিজদাহ” দিতে বিলম্ব হবে ফলে সিজদায়ে সাহু ওয়াজীব হবে।

মনে রাখতে হবে যে, সিজদায়ে সাহু ওয়াজীব হবার পর কেউ যদি সিজদায়ে সাহু না দেয় তাহলে তার নামায বাতিল হয়ে যাবে। পুনরায় তাকে আবার নামায দোহরায়ে পরতে হবে। (নুরুল ঈযাহ)

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে