দুটি সংবাদ ও একটি পর্যালোচনা: ‘আইএমএফ-এর শর্ত মেনেই অর্থ নেবে সরকার’ এবং ‘গ্রিসকে কংকাল বানিয়েছে আইএমএফ’


গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল মুহিত বলেছে, ‘আইএমএফ’র যাবতীয় শর্ত মেনেই ঋণগ্রহণ করা হবে’। (সংবাদ: দৈনিক ইত্তেফাক, ২২ জুলাই, ২০১৫) রক্তচোষা খ্যাত কথিত দাতা সংস্থা আইএমএফ’র দেয়া এই ঋণের অর্থের পরিমাণ হচ্ছে মাত্র ২৮ কোটি ডলার বা ২২৪০ কোটি টাকা। যদিও ২২৪০ কোটি টাকা বর্তমান বাংলাদেশের জন্য এমন কিছু নয়, যে সেটা চড়া সুদ ও কঠিন শর্ত দিয়ে বিদেশ থেকে নিয়ে আসতে হবে।
এবার আসি দ্বিতীয় সংবাদে। ‘গ্রিসকে কংকাল বানিয়েছে আইএমএফ’ এ শিরোনামে গত ৬ জুলাই, ২০১৫ ঈসায়ী তারিখে সংবাদ প্রকাশ করে দৈনিক যুগান্তর। খবরে বলা হয়, অর্থনৈতিক মন্দায় বিপর্যস্ত গ্রিসের রোগ সারাতে ‘কৃচ্ছ্রসাধন ওষুধ’ দিয়ে তাকে কংকাল বানিয়ে ফেলেছে আইএমএফ। ঋণ সহায়তার শর্তের নামে জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে, সরকারি ব্যয় সংকোচন করে, বেকারত্ব বাড়িয়ে লেবুর মতো চিপে চিপে রস বের করেছে এথেন্সের। মুমূর্ষু গ্রিসের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। অর্থনৈতিক সংকট থেকে উদ্ধারের নামে ধুরন্দর শিয়ালের ভূমিকায় এগিয়ে আসে ইহুদীদের আইএমএফ। ঋণ সহায়তার সঙ্গে আবারো জুড়ে দেয় কঠিন সব শর্ত। সেই সাথে অর্থনীতিতে বিপর্যয়কারী ভয়াবহ প্রেসক্রিপশন। সেই সংকট থেকে উদ্ধারে আবারও কঠিন শর্তে ঋণ। অথচ চলমান বিপদ দেখেও পূর্ববর্তী দেয়া ঋণ মওকুফতো দূরে থাক ফেরত নিতেও রাজি নয় রক্তচোষা আইএমএফ। এই ফাঁদ থেকে আর বের হতে পারবে না গ্রিস। এখন উচিত শিক্ষা পেয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপরাস অর্থনৈতিক ঘাতক আইএমএফ’র শর্ত মানতে নারাজ। এখন সিদ্ধান্তের ভার দিয়েছে জনগণের ওপর।
এখানে আমাদের উপলদ্ধি করার ও শিক্ষা নেয়ার অনেক কিছু আছে। আইএমএফ কিংবা বিশ্বব্যাংক যখন কোন খাতে ঋণ দেয় তা অবশ্যই ঐ খাতের জন্য বিশেষ অশনী সংকেত। যেমন: পাট শিল্প উন্নয়নের নামে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ১,৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে এখন সেই পাট শিল্প ধ্বংসের কলকব্জা হয়ে পড়ে আছে। কিন্তু দেশ গ্রিসের মতো ফকির হলেই বা সরকারের কি? কষ্ট করবে ক্রিকেট ও বিনোদনাসক্ত জনগণ।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে