দুনিয়ার সমস্ত ফিতনা-ফাসাদের মূল হলো- বেপর্দা নারীরা-২


 

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে, হযরত আবু সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, দুনিয়া হলো সুস্বাদু এবং সবুজ শ্যামলিয়া। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে এতে প্রতিনিধি করবেন। যাতে করে মহান রব্বুল আলামীন তিনি দেখেন যে, মানুষরা কিভাবে কার্য সম্পাদন করে থাকে। অতএব, তোমরা দুনিয়া সম্পর্কে সতর্ক হও আর সতর্ক হও নারী জাতি সম্পর্কে। কেননা বনী ইসরাইলের প্রতি যে প্রথম বিপদ বা ফিতনা এসেছিল, তা নারীদের মাধ্যমেই এসেছিল।” (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ) বর্তমান সমাজ ও যে কোনো প্রেক্ষাপট দেখলেই আমরা তা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারি, যত ধরনের ফিতনা-ফাসাদ সমাজে দেখা যায় তার মূলে রয়েছে বেপর্দা ও বেহায়া নারীরা। আর এই নারীরা কখন সমাজে, রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে ফিতনা সৃষ্টি করে? যখন মহামূল্যবান এই সম্মানিতা নারীরা বেপর্দা হয়ে বেহায়াপনা করে, তাদের নিজেদের সৌন্দর্যকে প্রদর্শন করে ঘুরে বেড়ায় তখনই তাদের দ্বারা ফিতনা সৃষ্টি হয়। আর এই ফিতনা এক পর্যায়ে চরম আকার ধারণ করে। শুরু হয় বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনা। শ্লীলতাহানি, এসিড নিক্ষেপ, নারীটিজিংয়ের মতো জঘন্যতম ঘটনাগুলো এখন সমাজের একটি পরিচিত রূপ। এই ঘটনাগুলো নিয়ে সমাজের মানুষগুলোর মধ্যে নানা প্রকার চিন্তা-ভাবনাও দেখা যায়। সমাজের চিন্তাশীল ব্যক্তিবর্গরা সবসময় এই অপকর্মগুলোর দায়ভার পুরুষ সমাজের উপর চাপিয়ে দেয়। ছেলেগুলোকে পুলিশ দ্বারা হয়রানি, জেল-জরিমানার ভয় দেখানো ইত্যাদি করে সমাজের ফিতনা-ফাসাদ থেকে সমাজকে মুক্ত রাখতে চায় তথাকথিত সমাজের চিন্তাশীল ব্যক্তিবর্গ। কিন্তু এতে করে কি আদৌ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে নারী নির্যাতন, নারীটিজিং, হত্যা, সম্ভ্রমহরণ ইত্যাদি অপকর্মগুলোর? সম্ভব হয়নি। কারণ মূল যে কারণ তাহলো বেপর্দা নারী। আর এই চিন্তা-ভাবনা থেকে তথাকথিত সমাজবাদীরা অনেক দূরে। আর যতদিন পর্যন্ত বেপর্দা নারীরা পর্দায় না আসবে ততদিন পর্যন্তই সমাজে ফিতনা-ফাসাদ চলতেই থাকবে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “বনী ইসরাইলের সময়কার প্রথম যে ফিতনা সেটা নারীদের মাধ্যমেই হয়েছে।” আর এখন তো আখিরী যামানা। এখন নারীদেরকে কতবেশি সতর্ক থাকতে হবে সেটা অনুধাবনের বিষয়। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণনা করা হয়েছে, হযরত আবু মূসা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “প্রত্যেক চোখ (যখন সে বেগানা নারীর দিকে নজর দেয় সে) ব্যভিচারিনী নারীরা যখন আতর-খুশবু মেখে পুরুষদের মজলিসের পাশ দিয়ে যায় (আর সে চায় যে নিজের সৌন্দর্য তাদের দেখাবে) তখন সে এইরূপ অর্থাৎ ব্যভিচারিনী।” (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ) অর্থাৎ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার থেকে আমরা যেটা বুঝতে পারলাম তা হলো- প্রত্যেক চোখ যা দেখবে দেখার কারণে যেটা ব্যভিচার করার পর্যায়ে যাবে। যে নারী আতর-খুশবু ব্যবহার করে কোনো মজলিসের পাশ দিয়ে যাবে পুরুষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করানোর জন্য সেও ব্যভিচারিনী হবে। অর্থাৎ ব্যভিচারিনীর শাস্তি তার উপর বর্তাবে। যেসব নারীরা নামমাত্র পোশাকে নিজেদেরকে আবৃত করে থাকে পুরুষদের আকর্ষণ লাভ করার জন্য, তাহলে তাদের ফায়সালাও তো পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত আতর-খুশবু মাখা নারীদের অনুরূপ হবে অথবা তার চেয়েও ভয়াবহ হবে। তাই সমাজের ফিতনা-ফাসাদ বন্ধ করতে হলে প্রতিটি নারীকে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আণীত বিধানগুলো মেনে নিতে হবে। তাহলেই মহান রব্বুল আলামীন উনার রহমত আসবে, সমাজের অশান্তি দূর হবে। ইনশাআল্লাহ! মহান রব্বুল আলামীন উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আদেশ-নিষেধ মানার জন্য প্রয়োজন রূহানী কুওওয়ত, চাই ঈমানী শক্তি। আর এর জন্য চাই নেক ছোহবত মুবারক। যামানার যিনি ইমাম ও মুজতাহিদ মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার পাক ক্বদম মুবারকে এসে সকলের অন্তরে যেন হাক্বীক্বী মুহব্বত পয়দা হয়। আমাদের সকলকে সেই সৌভাগ্য নসীব করুন। আমীন!
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে