দেইল্লা রাজাকারের ফাঁসির রায়ের জন্য কী দেশবাসী দায়ী? তাহলে হরতাল দিয়ে দেশবাসীকে জিম্মি করে রাখা হচ্ছে কেন?


সাধারণ মানুষ থেকে পুলিশ কী দেইল্লা রাজাকারের ফাঁসির রায়ের জন্য দায়ী?
তাহলে তাদেরকে জামাতীরা হত্যা করছে কেন?
জামাতীরা কী জানে না- পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “একজনের গুনাহর জন্য অপরজনকে দায়ী করা চলবে না।”
নির্বিচারে সহিংসতা চালানোর কারণে এক দেইল্লার পরিবর্তে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে হাজারো জামাতী নতুন করে ফাঁসির আসামি হচ্ছে।

একটি দৈনিকে গত ০৪.০৩.২০১৩ ইং তারিখে একটি নিউজের হেডিং হয়েছে,
“ভাঙ্গুড়ায় দুধের দাম দশ টাকা লিটার, খামারিদের কোটি টাকা লোকসান”
খবরে বলা হয়, “একটানা তিন দিনের হরতালের কারণে মিল্ক ভিটা ও ব্র্যাকসহ দুগ্ধ সংগ্রহ প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রয় কার্যক্রম বন্ধ রাখায় ভাঙ্গুড়া উপজেলার খামারিরা তাদের উৎপন্ন দুধ বিক্রি করতে পারছে না। সংরক্ষণও করতে পারছে না। এতে করে তারা আর্থিকভাবে কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। গতকাল রবিবার উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে খামারীদের ভ্যানে ফেরি করে প্রতি লিটার দুধ মাত্র ১০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা যায়।”
অন্য আরেকটি দৈনিকে খবর হয়,

“পাবনা-সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের ৪ হাজার খামারির সাড়ে ৩ লাখ লিটার দুধ পানির দামে বিক্রি!”
খবরে বলা হয়, “হরতালের নেতিবাচক প্রভাবে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের ৪ হাজার খামারি তাদের উৎপাদিত প্রায় সাড়ে ৩ লাখ লিটার দুধ পানির দামে বিক্রি করে চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

এদিকে হরতালের কারণে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দেশের সাধারণ মানুষের যাপিত জীবনও মারাত্মক কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
হরতালের কারণে এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ। সবজির পাশাপাশি অস্থির হয়ে পড়েছে চাল ও ডালের বাজার। সাতদিন আগের ৪০ টাকা কেজি দামের বেগুন গতকাল রাজধানীর বাজারে বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা।

হরতালের কারণে ভয়ে স্থানীয় বাজারে কৃষকরা শাক-সবজি কম উঠাচ্ছে। তাই রাজধানীর বাজারগুলোতে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। হরতালে দেশের সর্বত্রই এখন এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। বেসামাল হয়ে পড়েছে সবকিছু। এর প্রভাবে বাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে।
হরতাল-ভাঙচুর আর পুলিশের গুলি ও হয়রানির ভয়ে রাস্তাঘাটে পরিবহন সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এসব অজুহাতে পরিবহন ব্যবসায়ীরা প্রতি ট্রিপে ১ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি হারে ভাড়া আদায় করছে। যেহেতু সব শাক-সবজি ঢাকার বাইরে থেকে আসে তাই সঙ্গতকারণেই দাম বেড়েছে। সবজির পাশাপাশি বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দামও কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে।”

উল্লেখ্য, টানা তিন দিনের হরতালের ফলে দেশে চলতি বছর হরতালের সংখ্যা হবে ১৬ কর্মদিবস। এতে দেশের মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লক্ষ ৬০ হাজার কোটি টাকা।
জানা গেছে, ২০১১ সালে ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের তৎকালীন সভাপতি এ.কে আজাদ বলেছিলেন- একদিনের হরতালে ক্ষতি হয় ১০ হাজার কোটি টাকা। এ হিসেবে চলতি বছরের ১৬ কর্মদিবসে দেশের ক্ষতির পরিমাণ হবে ১ লক্ষ ৬০ হাজার কোটি টাকা।

এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন- হরতালের কারণে বিদেশি বিনিয়োগ ও রফতানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। পাশাপাশি দেশের ৯৫ ভাগ মানুষ মনে করেন, হরতালে লাভের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণ বেশি।
উপমহাদেশে প্রথম হরতাল পালিত হয় ১৯১৯ সালের ৬ এপ্রিল। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে পাপাত্মা গান্ধী এ হরতালের ডাক দিয়েছিল। ওই হরতালে ৩শ ভারতীয়ের মৃত্যু এবং বিপুল সংখ্যক আহত হওয়ার কারণে গান্ধী আর দ্বিতীয়বার হরতাল ডাকেনি। দেশ বিভাগের পর ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত ৮৪ বার হরতাল পালিত হয়েছে এ দেশে।

১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের ১৪ আগস্ট পর্যন্ত পালিত হয়েছে ২২ বার। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ১৯৮২ সালের ২৩ মার্চ পর্যন্ত ৫৯ বার, ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩শ ২৮ বার, ১৯৯০ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত ৪শ ১৬ বার, ১৯৯৬ সালের ৩১ মার্চ থেকে ২০০০ সালের ১২ জুন পর্যন্ত ২শ ৮৩ বার হরতাল পালিত হয়েছে। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল ক্ষমতায় ছিল বিএনপি। এ সময় আওয়ামী লীগ হরতাল করেছে ১শ ৩০ দিন।

ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের তথ্য মতে, গত বছরের এপ্রিলে বিএনপির ডাকে পালিত টানা তিনদিনের হরতালে আমদানি রফতানিতে ২৪ হাজার কোটি টাকা এবং দোকানদারদের ক্ষতি হয় ১৫শ কোটি টাকা। বিজিএমইএ’র তথ্য মতে, এক দিনের হরতালে শুধু গার্মেন্ট শিল্প খাতে ১শ ৮ কোটি টাকার ক্ষতি হয়।

অপর এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জিডিপিতে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসার অবদান দৈনিক ৩শ ৮ কোটি টাকা, আর স্থলপথে পরিবহনের অবদান ১শ ৩৪ কোটি টাকা। হরতালে বন্ধ হয়ে যায় শিক্ষাখাতের সব কর্মকা- যার আর্থিক মূল্য প্রতিদিন ৬০ কোটি টাকা। একদিনের হরতালে এ তিনটি সেবা খাত থেকেই ৫শ ২ কোটি টাকা বঞ্চিত হচ্ছে দেশের অর্থনীতি।

এদিকে শিল্প (ম্যানুফ্যাকচারিং), নির্মাণ, রিয়েল এস্টেট, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা, কমিউনিটি ও ব্যক্তিগত সেবা, লোক প্রশাসন, হোটেল-রেস্তোরাঁ ইত্যাদিতে হরতালের কারণে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জিডিপিতে এসব খাতের অবদান প্রায় ৫০ শতাংশ। হরতালে এসব খাতের উৎপাদন ও সেবাও ব্যাহত হয়। স্বাস্থ্যসেবা হরতালের আওতামুক্ত থাকলেও পরিবহন না থাকায় মানুষ সেবা পায় না। রাজনৈতিক দলগুলো রফতানিমুখী পোশাক খাতকেও হরতালের বাইরে রাখে, কিন্তু পণ্যবাহী ট্রাক ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় নামে না বলে এ খাতেও ক্ষতি হয় বিপুল।

ব্যবসায়ীদের হিসাবে, হরতালে কলকারখানা খোলা রাখা হলেও পরিবহন বন্ধ থাকার কারণে উৎপাদন হয় অর্ধেক বা তারও কম। জিডিপিতে শিল্প খাতের দৈনিক অবদান প্রায় ৪শ কোটি টাকা। হরতালের দিন যদি অর্ধেক উৎপাদন হয়, তাহলে এ খাতের অবদান নেমে আসে ২০০ কোটি টাকায়।
জানা গেছে, চলতি বাজারমূল্যে গত ২০১০-১১ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা

জিডিপির পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৪শ ৯৫ কোটি টাকা। এসব দেশজ উৎপাদনের খাতগুলো হচ্ছে সার্বিক কৃষি, সার্বিক শিল্প ও সার্বিক সেবা। জিডিপিতে এদের অবদান যথাক্রমে ১৯.৯৫ শতাংশ, ২৯.৯৩ ও ৪৯.৭২ শতাংশ। স্বাভাবিক ছুটির দিনে কেবল শিল্পখাতে ম্যানুফ্যাকচারিং আর সেবাখাতে আর্থিক ও শিক্ষা-প্রাতিষ্ঠানিক সেবা বন্ধ থাকে। আর প্রায় সব খাতেই উৎপাদন অব্যাহত থাকে। কিন্তু হরতাল হলে সার্বিক কৃষি (কৃষি, বনজ ও মৎস্য) ছাড়া সব খাতেই উৎপাদন ও সেবা ব্যাহত হয়। বাকি দুটি খাতই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সার্বিক অর্থনীতিতে এ দুই খাতের অবদান দৈনিক এক হাজার ৭শ ২৫ কোটি টাকা; যা একদিনের জিডিপির প্রায় ৮০ শতাংশ। সুতরাং হরতালে একদিনের জিডিপির ৮০ শতাংশ কমে যায়।

এদিকে দেশে গত এক বছরে হরতালকে কেন্দ্র করে প্রায় ১০ হাজার গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর হয়েছে। আর এতে আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২শ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহনের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই প্রায় ৫শ গাড়ি ভাঙচুর ও পোড়ানো হয়েছে। এতে যে শুধু গণপরিবহনের ক্ষতি হয়েছে তা নয়; মারা গেছেন অনেকেই, আহত হয়েছেন অসংখ্য লোক। হরতালে গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগ বা ভাঙচুরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন গণপরিবহন মালিকরা। কারণ, বেশিরভাগ গাড়ির মালিকই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসায় শুরু করে।

পরিবহন সমিতির তথ্য অনুযায়ী, একটি গ্লাসও যদি ভাঙে বা ছোটখাট ক্ষতিও হয় তা মেরামত করতে গড়ে প্রায় ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়। আর অগ্নিসংযোগে গড়ে প্রতিটি বাসে প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ হয়। অন্যদিকে হরতালের কারণে বাতিল করতে হয় পূর্ব নির্ধারিত টিকিট। (ইনশাআল্লাহ চলবে)

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে