###### দেশীয় সম্পদ বিদেশীদের দিয়ে দিলে আমরা কেনো বিরোধিতা করব না!–৩য় পর্ব।


###### দেশীয় সম্পদ বিদেশীদের দিয়ে দিলে আমরা কেনো বিরোধিতা করব না!–৩য় পর্ব।
বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ – রুপপুর প্রকল্পঃ
২০১৩ সালে ১৫ জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সরকার রাশিয়ার সাথে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে চুক্তি করে। চুক্তি অনুসারে রাশিয়ার রাষ্টয়াত্ত্ব প্রতিষ্ঠান ‘রোসাটোম’ বাংলাদেশের পাবনা জেলার রূপপুর উপজেলায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি ঋণ সহায়তাও আসবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে। প্রাথমিকভাবে রাশিয়ার কাছ থেকে ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ পাওয়া গেছে, যা ব্যয় করা হবে গবেষণা ও প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য। এ ছাড়া পরে আরও ঋণ সহায়তা দেয়ার কথা রয়েছে। তবে রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ স্থাপনের পরিকল্পনা বহু পুরনো। ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার প্রথম এ পরিকল্পনা করে এবং এ লক্ষে পাবনার ঈশ্বরদীতে ২৬০ একর জমি অধিগ্রহন করে। পরে নানা কারনে প্রকল্পের কাজ আর আগায়নি।
প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত বিবরনঃ জমি লাগবে ২৬০ একর, পারমানবিল চুল্লি – রাশিয়ার তৈরি ৩য় প্রজন্মের ‘ভিভিইআর ১০০০ চুল্লি’, রিয়াক্টরের সংখ্যা ২টি, উৎপাদন ক্ষমতা ২০০০ মেগাওয়াট । যাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (১ লাখ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা)।

বিরোধীতার কারণঃ
# পারমাণবিক বর্জ কোথায় ফেলা হবে তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে । অথচ দেশের প্রান-প্রকৃতি-পরিবেশের কথা ভেবে এ বিষয়টি সবার আগে সুরাহা হওয়া দরকার। কেন্দ্র থেকে বর্জ্য হিসেবে নির্গত স্ট্রনসিয়াম ৯০ ও সিজিয়াম ১৩৭ মারাত্মক তেজস্ক্রিয় এবং এগুলোর যথাযথ নিষ্কাশন না করা হলে তা দেশের সর্বনাশ ডেকে আনবে।
# ফারাক্কা বাঁধের কারনে ইতিমধ্যেই শুকিয়ে যাওয়া পদ্মা নদীর তীরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শীতলীকরণের জন্য পর্যাপ্ত পানির প্রাপ্যতা ও পদ্মা নদী থেকে পানি প্রত্যাহারের প্রভাব।
# বাংলাদেশের মতো একটি ইতিমধ্যেই বৈদেশিক ঋণ এবং তার সাথে যুক্ত শর্তের জালে আবদ্ধ দেশের জন্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিপুল আর্থিক দায়।
# বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপুর্ন ও প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকা একটি দেশে আমদানি করে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করার ঝুঁকি।
এছাড়াও এই প্রকল্প বিরোধীতার কারণ হচ্ছে, এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিপর্যয়ের সম্ভাবনা থেকেই যায়।
প্রাসঙ্গিক দুটি উদাহরণ –
এক-
১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিলে ইউক্রেনের চেরনোবিলে অবস্থিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিস্ফোরণ ও পরবর্তী অগ্নিকান্ডে বিপুল পরিমাণে তেজস্ক্রিয় পদার্থ বাতাসে মিশে পশ্চিম সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ইউরোপের বিরাট অংশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বৃহত্তর বিপর্যয় ঠেকাতে প্রায় ১৮ বিলিয়ন সোভিয়েত রুবল ব্যয় হয়। তখনকার সোভিয়েত সরকারের আনুষ্ঠানিক হিসাব অনুসারে মোট ৩১ জন ব্যাক্তি নিহত হয়েছিলেন এবং ক্যান্সার ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার মতো তেজস্ক্রিয়তার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবে আক্রান্ত ব্যাক্তি এখনো সনাক্ত হচ্ছেন। ২০০৮ সালে জাতিসংঘের একটি রিপোর্টে মোট ৬৪ জনের মৃত্যুর কথা বলেছেন। এই বিস্ফোরণের কারণে দীর্ঘমেয়াদী মৃত ব্যাক্তির সংখ্যা ৪০০০ পর্যন্ত পোঁছতে পারে। এছাড়াও ৫০ জন উদ্ধারকর্মী রেডিয়েশান সিনড্রোম এর কারনে মারা যায়। এতে সবচেয়ে বেশি তেজস্ক্রিয় দূষণের শিকার হওয়া এলাকার বসবাসকারী ২ লাখ ৭০ হাজার ব্যাক্তি।
দুই-
আরেকটি বিপর্যয় ঘটে ২০১১ সালের ১১ মার্চ তারিখে ভূমিকম্প স্কেলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প ও এর ফলে সৃষ্ট সুনামির (সামুদ্রিক জ্বলোচ্ছ্বাস) কারণে জাপানের ফুকুশিমায় অবস্থিত দুটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটিতে শীতলীকরণ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার ফলে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে। এ দুর্ঘটনায় তাৎক্ষনিকভাবে হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও তেজস্ক্রিয়তার আক্রমন থেকে জনগণকে রক্ষা করতে জাপান সরকার বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশেপাশে ২০ কিলোমিটার এলাকা থেকে সকল নাগরিককে সরিয়ে নেয় এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ঐ সময় বন্ধ করে দেয়, ২০১৩ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ ছিল।
– See more at: http://istishon.com/…

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে