## দেশীয় সম্পদ বিদেশীদের দিয়ে দিলে আমরা কেনো বিরোধিতা করব না!–৪র্থ পর্ব।


## দেশীয় সম্পদ বিদেশীদের দিয়ে দিলে আমরা কেনো বিরোধিতা করব না!–৪র্থ পর্ব।

সমুদ্রবক্ষের গ্যাসব্লকঃ
‘মডেল পিএসসি ২০০৮’ – এর অধীনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সমুদ্রবক্ষের গ্যাসক্ষেত্রকে ২৮ টি ব্লকে বিভক্ত করে টেন্ডার আহবান করা হয়। সমুদ্রের ৮ টি ব্লক কনোকো ফিলিপস নামক কোম্পানিকে এবং ১টি আইরিশ টাল্লোকে ইজারা দেবার সিদ্ধান্ত হাতে নিয়েছিল। তাদের বৈধতার সঙ্কট, ৮ টি ব্লকের মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের সমুদ্রসীমা আপত্তি (তখন সুমদ্রসীমা নির্ধারন করা হয়নি) এসব কারনে শেষ পর্যন্ত আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে সমুদ্রবক্ষের ১০ ও ১১ নং ব্লক কনোকো ফিলিপস ও ৫ নং ব্লক টাল্লোকে ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
চুক্তিঃ
-পেট্রোবাংলা স্থানীয় চাহিদা মেটাতে পরিবহন ব্যবস্থা চালু করতে পারলে তার অংশের গ্যাস রাখার অধিকার পাবে, তবে তা কোনোমতেই মোট বাজারজাতকরণ উপযোগী গ্যাসের ২০ ভাগের বেশি হবে না। ……. পেট্রোবাংলা অনুরোধ করলে ১১তম বছরের শুরু থেকে ২০ ভাগ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ ভাগ পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।
– অন্তত ৮০ ভাগ গ্যাস রফতানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
– দেশের চাহিদা কিংবা জ্বালানি নিরাপত্তা নয়, অগ্রাধিকার হলো কোম্পানির মুনাফা।
এখানে একটা বিষয় স্পষ্ট আমাদেরকে কোম্পানি দেয় সুযোগ, আর তাদের হাতে থাকে অধিকার! সরকারের এই নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করে কি মুখ বুজে থাকবে সচেতন মানুষ?
বিশেষজ্ঞরা গ্যাস সংকটের কারন ও সমাধানের পথ দেখিয়ে দিয়েছেন, তাদের মতে…… আমাদের দেশের গ্যাস এর পরিমান সরকারি হিসাবে রিজার্ভ ৭.৩ টিসিএফ, বর্তমানে প্রতিদিন ঘাটতি আছে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট, গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে শতকরা ১০ ভাগ হারে। জ্বালানি চাহিদা পুরণ হয় শতকরা ৭০ ভাগ গ্যাস থেকে, শতকরা ২৫ আমদানিকৃত তেল থেকে, শতকরা ৫ ভাগ কয়লা এবং জলবিদ্যুৎ থেকে (প্রকাশ ২০১০) ।
সরকারের মধ্যকার জাতীয় স্বার্থবিরোধী একটা অংশের অপতৎপরতার ফলে বাপেক্সকে (BAPEX – Bangladesh Petroleum Exploration & Production Company Limited) শক্তিশালী করা যাচ্ছে না। তাই গ্যাস ও পাওয়া যাচ্ছে না প্রত্যাশা মত। জাতীয় কমিটি বার বার একটি কথা বলে যাচ্ছে যে, প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিয়ে বাপেক্সকে শক্তিশালী করা হলে, চলমান কুপগুলো ওয়ার্কওভার এবং উন্নয়নের মাধম্যে স্বল্প সময়ের মধ্যেই বর্তমান সংকট কাটিয়ে গ্যাস উদ্বৃত্ব করা সম্ভব।
দেশের গ্যাস সম্পদ যখন আমরা শুনি বিদেশে রফতানি হবে এবং কোন চুক্তি হবে ৮০ ভাগ বনাম ২০ ভাগ তখন আমরা এমন উন্নয়নের বিরোধিতা করি। জী, আমরা উন্নয়ন বিরোধী।
কুইক রেন্টাল, লুটপাটের অন্য নামঃ
বিদ্যুতের সীমাহীন ঘাটতি পূরণের জন্য সরকার রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ প্ল্যান্টের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। প্রস্তাবিত রেন্টাল , কুইক রেন্টাল ও আইপিপি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মোট ৩৩ টি। রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট ১৩টি ও বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা (আইপিপি) ৬টি। ২০১১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ১৪ টি প্রতিষ্ঠান তাদের প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি মত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারেনি। এদের সাথে যদি চুক্তি হয় দৈনিক ৫০ মেগাওয়াট করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবে, কিন্তু এরা তা সরবরাহ করতে না পারলেও চুক্তির উপর ভিত্তি করে ৫০ মেগাওয়াটের টাকা তুলে নেয়!

উদাহরণ হিসেবে এখানে একটি খবর উল্লেখ করা যেতে পারে ……
“২০১৪-১৫ অর্থবছরে ডিসেম্বরের প্রায় পুরো সময়ই সামিট মেঘনাঘাট কেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ ছিল। ওই সময় মাত্র ১ লাখ ৮০ হাজার কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় কেন্দ্রটিতে। তবে চুক্তির শর্তের কারণে বসিয়ে রেখেও বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হয় পিডিবিকে। ফলে ওই মাসে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম পড়ে ৬৭৭ টাকা ৮০ পয়সা। এছাড়া অর্থবছরের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চার মাসে কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ কেনায় ইউনিটপ্রতি খরচ হয় যথাক্রমে ৩০ টাকা ৬৫ পয়সা, ৩২ টাকা ৩৮ পয়সা, ৩৪ টাকা ৭০ পয়সা ও ৪১ টাকা ২০ পয়সা। তবে অর্থবছরের পরের ছয় মাস (জানুয়ারি-জুন) কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ কেনায় ব্যয় কিছুটা কম হয়।”
“ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশ এনার্জি থেকে গত অর্থবছর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামে বিদ্যুৎ কেনে পিডিবি। সিদ্ধিরগঞ্জের ডিজেলচালিত ভাড়াভিত্তিক ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রটি থেকে ওই সময় বিদ্যুৎ কেনা হয় ১৮ কোটি ৩৭ লাখ কিলোওয়াট ঘণ্টা। ইউনিটপ্রতি দাম পড়ে ২৫ টাকা ৮৯ পয়সা। এ কেন্দ্রও ডিসেম্বরের বড় একটা সময় বন্ধ ছিল। ওই মাসে মাত্র ২৭ লাখ ২০ হাজার কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এতে ডিসেম্বরে কেন্দ্রটির ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম পড়ে ১০০ টাকার বেশি।”
এখন কথা হচ্ছে আমরা তো এতো টাকা দিয়ে বিদ্যুৎ কিনি না , তাহলে এই টাকা কোম্পানিকে দিচ্ছে কে? দিচ্ছে সরকার, ভর্তুকি দিচ্ছে, দিনশেষে আপনার আর আমার পকেট থেকেই এই ভর্তুকির টাকা লুটেরাদের পকেটে যাচ্ছে। হ্যাঁ আমরা এমন বিদ্যুতের বিরোধীতা করি।

প্রস্তাবনাঃ
(জাতীয় কমটির সুপারিশ)
* পুরনো অদক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদনগুলোকে নবায়ন করে ২০০০ মেগাওয়াট।
* কো-জেনারাশনের মাধ্যমে ৫০০ মেগাওয়াট।
* নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধম্যে ১০০০ মেগাওয়াট।
* লোড ব্যবস্থাপনা ও সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধম্যে নুন্যতম ১০০০ মেগাওয়াট সাশ্রয়।
## ৪৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে ১ বছরের মত সময় লাগবে। ৩০০০-৪০০০ কোটি টাকা লাগবে। যা লুটের উদ্দেশ্যে দেওয়া রেন্টাল খাতের বার্ষিক ভুর্তিকির ৫ ভাগের ও কম
– See more at: http://istishon.com/…

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে