দেশের গ্যাসখনি থেকেও উঠছে জ্বালানী তেল, তবুও…


গ্যাসফিল্ড থেকে গ্যাস উত্তোলনের সময় গ্যাসের সঙ্গে উচ্চমাত্রার সিসাযুক্ত কনডেনসেট (গ্যাসের সহজাত ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেল) বেরিয়ে আসে। রিগ মেশিনে গ্যাস ও কনডেনসেট আলাদা হয়ে যায়। পরে উত্তোলিত কনডেনসেট রিফাইনারিতে রিফাইনের জন্য পাঠানো হয়।
গ্যাসের এই উপজাত পরিশোধন করে অকটেন, পেট্রল, ডিজেল, জেট ফুয়েল ও কেরোসিন ইত্যাদি পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন করা হয়।
সরকারী-বেসরকারী মিলিয়ে ১৪টি প্রতিষ্ঠান কনডেনসেট পরিশোধন করে পেট্রোল ও অকটেন তৈরি করছে। এর মধ্যে সরকারের চারটি পরিশোধন কেন্দ্র এসজিএফএল, বিজিএফসিএল, আরপিজিসিএল ও ইআরএল মিলিয়ে ৩ লাখ ২৮ হাজার ৬৬৪ মেট্রিক টন কনডেনসেট পরিশোধনের ক্ষমতা রয়েছে। অন্যদিকে ১০টি বেসরকারী কোম্পানির ক্ষমতা রয়েছে সাত লাখ ২৪ হাজার ৬৬৪ মেট্রিক। দেশে দৈনিক গড়ে এক হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন কনডেনসেট উৎপাদিত হয়।
স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ বিশ্ববাজার থেকে চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে আসছে। গ্যাসক্ষেত্র থেকে যে কনডেনসেট পাওয়া যাচ্ছে, তা পরিশোধন করে পেট্রল ও অকটেন পাওয়া যায় তা দেশের চাহিদা মিটিয়েও বিদেশে রপ্তানি করা যায়।
গ্যাসক্ষেত্রের কনডেনসেট প্রক্রিয়া করে দেশের পেট্রল এবং অকটেনের চাহিদা মিটিয়ে অন্তত ২ লাখ মেট্রিক টন রফতানি করা যেতে পারে। দেশে সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ লাখ মেট্রিক টন পেট্রল এবং অকটেনের চাহিদা রয়েছে।
গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কনডেনসেটের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। এতে পেট্রল এবং অকটেনের উৎপাদনও বাড়বে।
যার কারনে হবিগঞ্জ জেলার রশিদপুর এলাকায় এগিয়ে চলেছে দেশের সর্ববৃহৎ তেল শোধনাগার নির্মাণের কাজ। এর মাঝে অধিকাংশ তেলই হবে পেট্রোল। এই পেট্রোল থেকে যে পরিমাণ অকটেন পাওয়া যাবে তার পর বিদেশ থেকে আর কোন অকটেন আমদানী করতে হবে না। অন্যান্য জ্বালানি তেলও আমদানী কমে যাবে উল্লেখযোগ্য হারে।
নতুন এই প্লান্টে উৎপাদিত তেলের মাঝে ২ হাজার ব্যারেল হবে পেট্রোল। এটি আরও পরিশোধন করে অকটেন তৈরি করা হবে। এছাড়াও প্রতিদিন ১ হাজার ব্যারেল কোরোসিন ও ১ হাজার লিটার ডিজেল উৎপাদন করা হবে। প্রয়োজন অনুসারে এই প্লান্টে তারপিনও উৎপাদন করা হবে।
‘২০১২ সালের পর থেকে পেট্রোল আমদানি করতে হচ্ছে না। অকটেন আমদানি করতে হচ্ছে। তবে অকটেন আমদানির পরিমাণ বছরে প্রায় ২০ হাজার টন।’। যেটুকু ঘাটতি থাকে সেটুকুই আমদানি করা হচ্ছে। বাকিটা অভ্যন্তরীণ রিফাইনারি প্ল্যান্ট থেকেই উৎপন্ন হচ্ছে।’
প্রশ্ন একটাই “এরপরেও আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে কেন তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে? যেখানে আমাদের দেশেই আভ্যন্তরীণ উৎপাদন হচ্ছে?”

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে