দেশের জন্য অশনি সঙ্কেত। নারী সমাজ সিগারেট থেকে ভয়ঙ্কর মাদক সেবন ও বিকি-কিনিতে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে গেছে। রক্ষা পেতে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করার বিকল্প নেই


মদ্যপায়ী নারীদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে রাজধানীতে। আধুনিকতার নামে বল্গাহারা মানসিকতা এবং হিন্দি সিরিয়ালের প্রভাবে রাজধানীতে বিভিন্ন বিয়ে-শাদী, মুসলমানি, জন্মদিন এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে এখন মদপানের আয়োজন খুবই স্বাভাবিক হয়ে পড়ছে। পুলিশের সহায়তায় এখন রাজধানীজুড়ে চলছে মদের রমরমা বাণিজ্য। তাছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রভাবেও এখন অনেক পরিবারের নারীরা মদপানে আসক্ত হয়ে পড়ছে। ফলে ঘটে চলেছে অঘটন। গত ৫ জানুয়ারি-২০১৬ তারিখে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগে নিকটাত্মীয়ের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে মদপান করে অসুস্থ দুই তরুণী চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছে। এছাড়াও এ ধরনের খবর এখন প্রায়ই সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে- ‘যাত্রাবাড়ীতে বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে দুই তরুণীর মৃত্যু’ ‘মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপানে তরুণী প্রকৌশলীর মৃত্যু’। ‘এবার ছাত্রদের পাশাপাশি ছাত্রীরা মাদকে জড়িয়ে পড়ছে’- এ ধরনের শিরোনাম বহু।
জানা গেছে, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রদের পাশাপাশি ছাত্রীরাও মাদকের ভয়াবহ গ্রাসে শিকার হচ্ছে। কথিত অভিজাত এলাকার ছেলে-মেয়েদের পাশাপাশি সাধারণ পরিবারের শিক্ষার্থীরা পর্যন্ত এই সর্বনাশী চক্রে জড়িয়ে পড়ছে। মাদকের এই ভয়াল থাবা গ্রাস করেছে স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইডেনের মতো নামকরা উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্কুল-কলেজের অনেক ছাত্রী সর্বনাশা মাদকে আসক্ত। তারা ইয়াবা, ফেনসিডিল ও হেরোইনে আসক্ত বেশি।
১৪-১৫ বছরের তরুণী থেকে ৩০ বছর বয়সের নারীদের মধ্যে মাদকাসক্তের হার বেশি। এদের অধিকাংশই বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ছাত্রী। মাদকাসক্তির কারণে মেয়েদের সংসার ভাঙ্গার ঘটনা বাড়ছে বলে মানবাধিকার সংগঠন সূত্রে জানা যায়। মাদক সেবনের ফলে দাম্পত্য কলহ বাড়ে এবং এর অনিবার্য পরিণতি সংসারে ভাঙ্গন। সংসার ভাঙ্গার পিছনে ৯০ ভাগ ক্ষেত্রেই রয়েছে মাদক।
চর্ম ও যৌন রোগের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা জানিয়েছে, প্রতিদিন অসংখ্য স্বামী-স্ত্রী মাদকাসক্ত রোগী তাদের নিকট চিকিৎসা নিতে আসছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের মাদকাসক্ত প্রচুর ছাত্রী চিকিৎসার জন্য আসে। এদের অধিকাংশ ইয়াবা ও ফেনসিডিলে আসক্ত।
‘ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর’- এ কথাটি কমবেশি সবারই জানা। তারপরও অনেকে ধূমপান করেই চলেছে। ইদানীং মেয়েদের প্রকাশ্যে ধূমপানের দৃশ্য অস্বাভাবিকহারে বেড়ে গেছে।
স্বাস্থ্যবিধি ভালোভাবে জানা সত্ত্বেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩.৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী ধূমপায়ী। তাদের মধ্যে শতকরা ৪৪ ভাগ ছেলে ও চার ভাগ মেয়ে।
এদিকে পুরুষের চেয়ে নারীদের দাপট বেড়েছে মাদক সাম্রাজ্যে। শতাধিক ভয়ঙ্কর নারীর হাতে পরিচালিত হচ্ছে রাজধানীর মাদক ব্যবসা। বারবার আইনের আওতায় এনেও তাদের আটকে রাখা যাচ্ছে না। জামিনে মুক্ত হয়ে তারা আরো অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে।
একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক চিহ্নিত মাদক আখড়াকে ঘিরে কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক নারী সক্রিয়। তারা মাদকের চালান মজুদ, পরিবহন ও বিক্রির কাজে নিয়োজিত। মাদক পরিবহনে নারীরা বিশেষ সুবিধা পায় বলে এ জগতে নারীদের উপস্থিতি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকায় পেশাদার নারী মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে শীর্ষ ৩০ জন বর্তমানে নেপথ্য কারিগর। তাদের চেইন অব কমান্ডে বিভিন্ন দল-উপদল কাজ করে। তারা প্রকাশ্যে খুব একটা আসে না। চলাফেরা করে অত্যাধুনিক গাড়িতে। থাকে অভিজাত এলাকার বিলাসবহুল বাড়িতে। সেখানে শুধু মাদকই চলে না, অবাধে চলে দেহব্যবসাও। অভিযোগ রয়েছে, এসব রঙমহলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেক উচ্চপদস্থ সদস্য নিয়মিত যাতায়াত করে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, টিএসসি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, চারুকলার আশপাশ এলাকায় প্রায়ই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মাদক ও সিগারেট সেবন করতে দেখা যায়।
হলের আবাসিক শিক্ষক ছাত্রীদের মাদক সেবন সম্পর্কে অবগত হলেও বাইরের জানাজানির ভয়ে তারা কোন তথ্য ফাঁস করতে চায় না। এছাড়া মাদকাসক্ত অনেক ছাত্রী রাজনীতিতে জড়িত থাকায় আবাসিক শিক্ষকরা তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়ার সাহস পান না।
ক্যাম্পাসে মেয়ে মাদকসেবীদের মধ্যে বেশির ভাগ চারুকলারই ছাত্রী। তারা প্রকাশ্যে চারুকলার সামনে ও আবাসিক হলে মাদক সেবন করে। তারা চারুকলার ভিতর ও বাইরে ছেলেবন্ধুকে সাথে নিয়ে সিগারেট ও গাঁজা সেবন করে।
চারুকলার একাধিক শিক্ষার্থী জানিয়েছে, নেশাকে এখানে প্রগতিশীলতা বলে গণ্য করা হয়। এখানে কেউ বাধা দেয় না। সন্ধ্যার পর চারুকলায় ব্যাপক আকারে বসে মাদকের আড্ডা। গভীর রাত পর্যন্ত চলে মাদকের আড্ডা। সন্ধ্যার পর চারুকলার নির্দিষ্ট আইডি কার্ডধারী ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করতে না পারায় অনেকটা নিরাপদেই চলে মাদক সেবনের আসর।
মূলত, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাীসহ নারীদের সিগারেট ও মাদকে ভয়াবহ আসক্তির দ্বারা প্রতিভাত হয় যে- দেশের নারীসমাজ ভয়াবহ অবক্ষয়, অনৈতিকতা তথা চরিত্রহীনতার স্রোতে ভাসছে। যে দেশে নারী সমাজ আদর্শবিবর্জিত হয়, সে দেশে ভালো সন্তান, ভালো জাতি কোনোদিনই আশা করা যায় না। মূলত, বাংলাদেশে এখন ভালো নাগরিক বসবাস করছে এটা বলা যাবে না। বরং একটা ঘুনে ধরা পচনশীল জাতিই বর্তমানে বেঁচে আছে। এর থেকে রেহাই পেতে হলে সর্বাগ্রে নারী সমাজকে আদর্শপ্রবণ ও সংশোধনের বিকল্প নেই।
আর এজন্য সাইয়্যিদাতুন নিসা, যাওজাতু মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম, আফদ্বালুন নিসা, কায়িম-মাক্বামে উম্মাহাতুল মু’মিনীন, আওলাদে রসূল, উম্মুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার ছোহবত মুবারক হাছিল করার বিকল্প নেই।
কারণ একমাত্র তিনিই নারী জাতিকে মাদকসহ সমস্ত হারাম কুফরী থেকে ফিরিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত মা’রিফত দান করছেন। হাক্বীকী আল্লাহওয়ালীতে পরিণত করে দিচ্ছেন। এজন্য তিনি অনন্তকালব্যাপী জারিকৃত পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উপলক্ষে প্রতিদিন ‘ফাল ইয়াফরহু’ মাহফিল জারি করেছেন। প্রতি ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার এবং জুমুয়াবারসহ পুরো সাইয়্যিদুশ শুহূর পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাসব্যাপী বিশেষ ‘ফাল ইয়াফরহু’ মাহফিলের ব্যবস্থা করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে