দেশে জমি কমলেও খাদ্য উৎপাদন বেড়ে তিন গুণ


স্বাধীনতার পর খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে অনন্য নজির স্থাপন করেছে। গত চার দশকে বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এক পরিসংখানে দেখা যায়, ১৯৭২ সালে মোট খাদ্য উৎপাদন ছিল ১০ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন টন। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১১ মতে, গত অর্থবছরে মোট খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ ৩৪১ দশমিক ১৩ মিলিয়ন টন। উচ্চ ফলনশীল বীজ নিবিড় সেচ, উন্নত প্রযুক্তি, রাসায়নিক সারের ব্যবহার ফসল উৎপাদনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ক্ষুদ্র কৃষকদের প্রচেষ্টা ও বাংলাদেশের সরকারের অব্যাহত সহযোগিতা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।
চরম খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে ১৯৯৯-২০০০ সালে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। জনপ্রতি প্রতিদিন ৪৫৩ দশমিক ৬ গ্রাম খাদ্য গ্রহণের মাত্রা ধরে ওই অর্থবছরে বাংলাদেশের ১২৯ মিলিয়ন লোকের জন্য খাদ্য চাহিদা ছিল ২১ দশমিক ৪ মিলিয়ন টন। বাংলাদেশ সে বছর ২৪ দশমিক ৯ মিলিয়ন টন খাদ্যশস্য উৎপাদন করে। পরবর্তী বছরগুলোয়ও বাংলাদেশ গড়ে প্রায় ৪ থেকে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে খাদ্য উৎপাদন করেছে। ৩৫ প্রধান খাদ্যশস্য হিসেবে ধান বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে প্রধান ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে গমের উৎপাদন কমেছে। ১৯৮০-৮১ অর্থবছরে ১০ দশমিক ৯২ লাখ টন গম উৎপাদন হলেও ২০০৮-০৯ অর্থবছওে তা কমে দাঁড়ায় আট লাখ ৪৯ হাজার টনে। অন্যদিকে একই সময়ে ধান উৎপাদন ১৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন টন থেকে বেড়ে হয়েছে ৩১ দশমিক ৩১ মিলিয়ন টন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর দেশে ৮০ হাজার হেক্টর জমি কমে যাচ্ছে। ২০০৯-১০ সালে খাদ্যশস্যের উৎপাদন হয়েছিল ৩৪১ দশমিক ১৩ লাখ টন। তার মধ্যে আউশ ১৭ দশমিক ০৯ টন, আমন ১২২ দশমিক ০৭ টন, বোরো ১৮৩ দশমিক ৪১ লাখ টন, গম ৯ দশমিক ৬৯ টন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবমতে, ২০১০-১১ অর্থবছরে খাদ্যশস্যের মোট উৎপাদেন লক্ষ্যমাত্রা ৩৭০ দশমিক ৪২ লাখ টন। এ বছর গম উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫০ লাখ টন। অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১১ মতে, দেশের মোট খাদ্যশস্যের ৫০ ভাগ বরো ধান, আমন- ৩৬ শতাংশ, আউশ- ৭ শতাংশ, ভুট্টা- ৪ শতাংশ এবং গম- ৩ শতাংশ। বাংলাদেশে ধানের উৎপাদন বেড়েছে মূলত বরো ধানের কল্যাণে। গ্রীষ্ম মৌসুমে চাষকৃত বরো ধানের ব্যাপক উৎপদান শুরু হয় মূলত ১৯৮০-এর দশকে। বন্যা, ঝড়, অতিবৃষ্টি প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে অনেকটা মুক্ত বরো ধান বাংলার কৃষকের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে কিছু খাদ্য বাহির হতে আমদানি করতে হতো তবে বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেশের খাদ্যশস্য রপ্তানী করছে।
সূত্র : কালের কন্ঠ 25.03.2012

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+