দৈনন্দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ


মহান আল্লাহ পাক কালাম পাকে ইরশাদ মুবারক করেন,
ان الصلوة تنهى عن الفحشاء والمنكر
অর্থ: নিশ্চয়ই নামাজ (মানুষকে) সকল অশালীন ও নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত রাখে।
অর্থাৎ কোন ব্যক্তি যদি হাক্বীক্বীভাবে নামাজ আদায় করে, তাহলে তার পক্ষে কোন প্রকার গুণাহন কাজে লিপ্ত হওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া দৈনন্দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার দ্বারা সমস্ত গুণাহ্খাতা মাফ হয়ে যায়। এ সম্পর্কে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
أرايتم لو ان نهرا بباب احدكم يغتسل فيه كل يوم خمسا هل يبقى من درنه شيئ قالوا لايبقى من درنه شيئ- قال فذالك مشل الصلوات الخمس يمحوا لله بهن الخطايا
অর্থ: তোমরা কি ধারণা কর, যদি তোমাদের কারো ঘরের সম্মুখে একটি নহর (পানির নালা) থাকে, তোমাদের মধ্যে কেউ যদি তাতে প্রতিদিন পাঁচবার গোসল করে, তবে কি তার শরীরে কোন ময়লা থাকবে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ বললেন- না, তার শরীরে কোন ময়লা থাকবেনা। তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, এটিই হলো দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মেছাল বা দৃষ্টান্ত, আল্লাহ্ পাক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের দ্বারা সমস্ত গুণাহ্ মাফ করে দেবেন। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)
এখন কথা হচ্ছে উক্ত আয়াত শরীফ এবং হাদীস শরীফ উনাদের আলোকে কত জন ব্যক্তি আছে যার নামায এরকম খুশু-খুজু (ইখলাছ) আদায়ের সাথে হয়। এখনকার সমাজের অনেক মুসলমান আছে, অনেক নামায কালাম পড়ে। কিন্তু আফসুসের বিষয়,
১) তারা নামাযও পড়ে আবার গান-বাজনা শুনে। নাউজুবিল্লাহ!
২) তারা নামাযও পড়ে আবার নাটক-সিনেমা দেখে। নাউজুবিল্লাহ!
৩) তারা নামাযও পড়ে আবার বেপর্দা হয়ে ঘুরে বেড়ায়। নাউজুবিল্লাহ!
৪) তারা নামাযও পড়ে আবার সুদ-ঘুষ খায়। নাউজুবিল্লাহ!
৫) তারা নামাযও পড়ে আবার ইহুদী, খ্রিস্টান, হিন্দুদের রীতি নীতি, পোশাক-আশাক গ্রহণ করে। নাউজুবিল্লাহ!
৬) তারা নামাযও পড়ে আবার নানারকম হারাম কাজে মশগুল থাকে। নাউজুবিল্লাহ!
এ জন্যই মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّينَ الَّذِينَ هُمْ عَن صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ الَّذِينَ هُمْ يُرَاءُونَ
অর্থ: ঐ সমস্ত নামাযীরা জাহান্নামী, যারা খুশু-খুজু (ইখলাছ) এর সাথে নামায আদায় করে না, বরং স্বস্থি কাহিনি ও গাফলতী করে, লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে নামায আদায় করে। (পবিত্র সূরা মাউন শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৪, ৫, ৬)
অতএব, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে নামায আদায় হতে হিফাযত করে হাক্বিকিভাবে নামাযী বানিয়ে দিন। আমীন।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে