দ্বীনি বিষয়ে সুশিক্ষিত মহিলারাই পারেন, আদর্শ জাতি গঠন করতে


ঘটনা একঃ এক মহিলা নামাযে সূরা ফাতিহা পড়ছে। সূরার শেষে যেখানে আমীন বলতে হবে সেখানে সে বলছে, “আমাদের ঘরের উনি”! এই কথার হাক্বীকত কি? হাক্বীকত হল, মহিলার স্বামীর নাম “আমীন”। স্বামীর নাম কিভাবে মুখে নেয়, এজন্য এই পন্থা অবলম্বন। আরেক মহিলা আরো এক কাঠি বাড়া। তার স্বামীর নাম আহাদ আর ছেলের সামাদ। নামাযে সূরা ইখলাছ পড়ার সময় সে পড়ে, “কুল হুয়াল্লাহু কাচুর বাপ। ওয়াল্লাহু কাচু”। নাউযুবিল্লাহ!
 
 
ঘটনা দুইঃ একটি গ্রামাঞ্চলের রমজান মাসের কথা। ঘরের সব সদস্যের সাহরীর তদারক করতে করতে মহিলাদের নিজেদের সাহরী করতে দেরি হয়ে যায়। এখন উপায় কি? তারা বুদ্ধি খাটিয়ে ঘরের সব দরজা জানালা বন্ধ করে সাহরী করতে বসে। ঘরের দরজা জানালা আটকানো থাকলে তো আর মহিলাদের পক্ষে বোঝা সম্ভব না যে ভোর হয়েছে কিনা। আর অজান্তের সব গুনাহ মাফ। সুতরাং দেখা যায় সুবহে সাদিক হয়ে গেছে কিন্তু তারা খেয়েই যাচ্ছে! নাউযুবিল্লাহ!
 
 
উপরের ঘটনা দুইটিই সত্য। এগুলো লিখার উদ্দেশ্য হল মহিলাদের দ্বীনী তালিমের গুরুত্ব উপলব্ধি করা। এই ব্যাপারে বেশিরভাগ মানুষই উদাসীন। ছেলেদের নামাযের জন্য মসজিদে গেলে বা অন্তত জুমুয়ায় শরীক হলেও কিছু দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করার সুযোগ থাকে। কিন্তু মেয়েরা কোনমতে নামায আর কুরআন শরীফ পড়তে পারলেই ধরে নেয়া হয় যে, যথেষ্ট দ্বীনি ইলিম শিক্ষা করা হয়েছে। অথচ একটি মেয়ে একটি ঘরের কর্ত্রী। ঘরের সব সদস্যের, সব বিষয়ের, পরিচালনার ভার তার উপর। এমতবস্থায় সে নিজে যদি দ্বীনি বিষয়ে অজ্ঞ হয় তাহলে কিভাবে তার ঘরকে এবং ঘরের লোকজনকে সঠিক পথে পরিচালনা করবে। আর সবচেয়ে বড় কথা, সন্তানদের শিক্ষাও মায়েরই হাতে। আর একজন শিশুকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য শুধু নামাযের সূরা কিরাআত মুখস্ত থাকাটাই যথেষ্ট না। এজন্য মেয়েদের শুধু কয়টি ডিগ্রী আছে, কতপদের রান্না জানে, কতরকম সেলাই পারে, ঘরের কাজে কতটা পটু এসব দিয়ে বিচার করা উচিত না। পর্যাপ্ত দ্বীনি ইলিম না থাকলে দেখা যাবে সেই গুনবতী মেয়েই সংসারে বিভিন্ন ফিতনা ফ্যাসাদ তৈরি করছে।
 
 
মেয়েদের দ্বীনি শিক্ষার ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়ে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “কারো যদি তিনটা মেয়ে থাকে, সে যদি উপযুক্ত শিক্ষা অর্থাৎ দ্বীনি তালিম-তালকীন দিয়ে দ্বীনদার পাত্রের নিকট বিয়ে দেয় তাহলে সে এবং আমি এইভাবে থাকবো।” সুবহানাল্লাহ! তখন উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, “আমি জিজ্ঞাসা মুবারক করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যদি দু’জন হয়? তখন উনি জবাব মুবারক দিলেন তাহলেও এভাবে আমি থাকবো।” সুবহানাল্লাহ! পরবর্তী আরেক পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, “আমি জিজ্ঞাসা মুবারক করলাম ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যদি কারো একজন মেয়ে সন্তান থাকে- তাহলে? তখন তিনি জবাব মুবারক দিলেন সে আর আমি এভাবেই থাকবো।“ সুবহানাল্লাহ!
Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে