দ্বীনি মেহনত‎দেওবন্দীদের আসল চেহারা – তাবলীগকে ‘নিরীহ’ বলে মনে করা আর সাপকে দড়ি ভেবে ভুল করা একই কথা


আমাদের দেশে তাবলীগীদের ‘নিরীহ’ বলে ধারণা করে থাকে অনেকেই। তাদের কথিত ইজতিমায় ক্ষমতাসীন দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধান ও নেতাকর্মীরা শরীক হয়। তাবলীগীদের আস্তানায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের যোগদানের সচিত্র খবর বিভিন্ন পত্র-পত্রিকাতে ফলাও করে প্রকাশিত হয়, টিভি মিডিয়ায় তা দেখানো হয়।
ফলশ্রুতিতে এদেশের সমাজ এবং প্রশাসন-পুলিশ এদেরকে একপ্রকার ‘ছাড়পত্র’ই দিয়ে দিয়েছে। সবাই একরকম নিঃসন্দেহ যে, এরা কোনোপ্রকার ঝামেলায় জড়াবে না, কোনোপ্রকার সন্ত্রাসবাদী কর্মকা- এদের দ্বারা পরিচালিত হতে পারে না! তাই এদেরকে যত্রতত্র তাদের কর্মকা- পরিচালনা করতে দেয়ায় এরা ব্যাঙের ছাতার মতো দেশের সর্বত্র গজিয়ে উঠেছে।
কিন্তু এই ধারণা সম্পূর্ণই ভুল ও অজ্ঞতার ফসল। ছয় উসূলী তাবলীগ জামাত পরিচালিত হয় দেওবন্দী-ওহাবী মতবাদকে ভিত্তি করে। যেহেতু ওহাবী-দেওবন্দী মতবাদ থেকেই আজকের বিশ্বে সন্ত্রাসবাদের উৎপত্তি, সেহেতু তাবলীগীরাও কোনোভাবেই ‘নিরীহ’ হতে পারে না। তাবলীগীদের বাড়তে দেয়ার ফলশ্রুতিতে এরা আজ দুধকলা দিয়ে পোষা বিষধর সাপের ন্যায় ছোবল দিচ্ছে। সম্প্রতি এদেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও পত্র-পত্রিকাতে প্রকাশিত খবরে তারই প্রতিফলন মিলছে।
রাজারবাগ শরীফ থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক আল ইহসান শরীফ উনার মধ্যে ২০শে ডিসেম্বর ২০১৪ ঈসায়ী তারিখে একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম হলো-
“ছয় উছুলী তাবলীগের শীর্ষ মুরুব্বীদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব চরমে। পরস্পরের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের অভিযোগ। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কাকরাইল মসজিদ থেকে ২৪ কর্মী আটক”
তাবলীগ কর্মীদের বরাতে দৈনিক আল ইহসান শরীফ পত্রিকার মধ্যে প্রকাশিত উক্ত প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে-
১) কাকরাইল মসজিদ উন্নয়নের নাম করে বিদেশী দাতাদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে তাবলীগের শীর্ষ মুরুব্বী দুর্নীতিবাজ ওয়াসিফুল ইসলাম দুই শত (২০০) কোটি টাকার ঊর্ধ্বে আত্মসাৎ করেছে। ২০১২ সালের টঙ্গী ময়দানের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকারি অনুদান ছিল ৯৪ কোটি টাকা। তার প্রায় সম্পূর্ণটাই সে আত্মসাৎ করেছে।
২) ফেসবুকে ওয়াসিফুল ও তার ছেলে ওসামা বর্তমান (মহজোট) সরকারের বিরুদ্ধে খুব উগ্র কথা লিখেছে অত্যন্ত অশালীন ভাষায়। উদ্দেশ্য হলো- উপযুক্ত সময়ে এসব দেখিয়ে বিএনপি-জামাতের কাছে প্রিয় হওয়া।
দেশব্যাপী তাবলীগীদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম:
কথায় আছে, ‘বৃক্ষ তোমার নাম কী, ফলে পরিচয়’। দেশব্যাপী সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের সদস্য হওয়ার কারণে এটাই স্বাভাবিক যে, তাবলীগীরা সন্ত্রাসমূলক কর্মকা-ে জড়িত হবে। এদেশের বিভিন্ন মসজিদে তাবলীগীদের সন্ত্রাসমূলক নাশকতার ঘটনা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকাতে প্রকাশিত হয়েছে। তাবলীগী সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করতে পুলিশকে রাবার বুলেট এবং টিয়ার শেল পর্যন্ত ব্যবহার করতে হয়েছে। দেশের নানা স্থানে তাবলীগের সন্ত্রাসী কর্মকা-ের কারণে সংশ্লিষ্ট মসজিদ ও এলাকার সাধারণ মুসলমানগণ আহত এমনকি নিহত হয়েছেন। জাতীয় দৈনিকসমূহে প্রকাশিত এরূপ কিছু সংবাদ নিম্নরূপ-
“নরসিংদীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে পথচারী নিহত” ॥
“সুন্নী তরীকাপন্থী মসজিদে ওহাবীপন্থী তাবলীগ জামাতের লোকজনের অবস্থানকে কেন্দ্র করে গতকাল রবিবার রাতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রায়পুরা থেকে তাবলীগপন্থী লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বেলাব থানার সুন্নীপন্থী লোকজনের উপর আক্রমণ করে। তখন বেলাবর লোকজন রায়পুরার লোকজনের উপর আক্রমণ করে। পরে দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। ” (সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, ১০ই নভেম্বর ২০১৪)
“বি-বাড়িয়ায় তাবলীগ ও সুন্নিপন্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ১৫০” ॥
“বুধবার বি-বাড়িয়ার বিজয়নগরে তাবলীগ জামাতপন্থী ও সুন্নিপন্থীদের সংঘর্ষে ২ পুলিশ সদস্য, নারীসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। এ সময় ৩টি দোকানসহ ১৫টি বাড়িঘর ব্যাপক ভাংচুর এবং ২ ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয়পক্ষের নারীসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়।” (সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ, ১৪ই মে ২০১৪)
“হবিগঞ্জ শহরে সুন্নী ও তাবলীগ জামাতের সংঘর্ষে আহত ৪০, চরম উত্তেজনা”
“হবিগঞ্জ শহরের বাণিজ্যিক এলাকায় সুন্নী জামায়াত ও তাবলীগ জামাতে লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষে ৪০ হন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২০/২৫ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।” (সূত্র: দৈনিক জালালাবাদ, ১১ই এপ্রিল ২০১৩)
অসামাজিক কার্যকলাপের কথা:
তাবলীগীরা তাদের ‘মুরুব্বীদের জীবন থেকে’ নামক চটি বইটিতে কেবল তাদের সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের কথাই স্বীকার করেনি, তার সাথে সাথে স্বীকার করেছে মহিলা তাবলীগের আড়ালে অসামাজিক কার্যক্রমের কথাও। যেমন উক্ত চটি বইয়ের ৯-১০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে যে-
“ওয়াসিফুল ইসলামের আহলিয়া ও ওয়ালিউল ইসলামের (মোবা: ০১৬১২-৫৫২৩৮০) আহলিয়া উভয়ই মহিলা মহলে উল্লেখযোগ্য কর্মী ছিল। কাকরাইলে মাস্তুরাত সংক্রান্ত মাশওয়ারার দায়িত্বে ছিল ওয়ালিউল ইসলাম, এজন্য সে ‘আমিরুন্নেসা’ নামেও পরিচিত ছিল (১৯৯২-৯৩)। ঐ সময় এক তাবলীগ কর্মী মহিলা (পরিচয় উহ্য রাখা হলো) ওয়ালিউল ইসলামের বিরুদ্ধে সম্ভ্রমহরণের অভিযোগ এনে অনেক চিঠি বিলি করে। কৌশলে ওয়ালিউল ইসলামকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হলো। ওয়াসিফুল ইসলাম ও তার আহলিয়া পেয়ে গেল মাস্তুরাতের কাজে পূর্ণ কর্তৃত্ব। তাদের বাসা হয়ে গেল একটি ‘মহিলা মারকাজ’।…
এ ‘মহিলা মারকাজ’কে অনেকে কুখ্যাত আশ্রম ও তার দেব-দাসীদের কেলেংকারীর সাথে তুলনা করেছে। আমরা (তাবলীগীরা) আশাকরি এ তুলনা অতিরঞ্জিত, কিন্তু তার পিছনে কিছুটা সত্যতা থাকার আশঙ্কা আছে। আর এটাই সম্ভবতঃ ওয়াসিফুল ইসলামের অস্বস্তি ও দুশ্চিন্তার প্রধান কারণ।”
দেখুন পাঠকেরা, তাবলীগীরা নিজেরাই তাদের প্রচারপত্রে স্বীকার করেছে তাদের মহিলা তাবলীগের আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপের কথা। খোদ তাবলীগীরাই একে আশ্রমবাসী হিন্দু পুরোহিত-সন্ন্যাসী ও দেবদাসীদের মধ্যকার বিকৃত যৌনাচারের সাথে তুলনা দিতেও দ্বিধা করেনি।
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে