দ্বীন ইসলামে ফিতনা-ফাসাদ বিস্তারে সউদী রাজতন্ত্রীদের মদদপুষ্ট আহলে হাদীছ-সালাফী নামধারী ওহাবীদের কুর্কীতির বয়ান-১


[আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। সম্মানিত ব্লগার ভাইয়েরা আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন। আজ আপনাদের সামনে একটি জরুরী বিষয় নিয়ে হাজির হয়েছি। আপনারা দেখে থাকবেন ইদানিং আহলে হাদীছ-সালাফী নামধারী ওহাবীদের উৎপাত বিভিন্ন ব্লগে দেখা যাচ্ছে। আর তাদের সাপোর্টার হিসেবে দালালী করছে শিয়াদের দালাল মওদুদী গং-এর চেলা ধর্মব্যবসায়ী রাজাকার জামাতীরা, রাজাকারদের বশংবদ সন্ত্রাসী শিবিররা। আহলে হাদীছ-সালাফী নামধারী ওহাবীদের হাক্বীক্বত যে কত নিকৃষ্ট তা মানুষ খুব কমই জানে। তাই তাদের হাক্বীক্বত সম্পর্কিত আর্টিকেলটি ধারাবহিকভাবে ব্লগে দেয়া হবে ইনশাআল্লাহ। মূল লেখাটি ব্লগার হৃদয়ের প্রশান্তি ভাইয়ের, যা জামানার তাজদীদী দৈনিক “দৈনিক আল ইহসান শরীফ”-এ প্রকাশিত হয়েছিল।]

▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓  ▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓▓

ইসলামের ইতিহাসে খারেজী শিয়াদের উৎপত্তির কয়েক শতাব্দী পর আরেকটি চরমপন্থী বাতিল দলের উৎপত্তি ঘটে সিরিয়ার অধিবাসী ইবনে তাইমিয়ার দ্বারা। প্রথমদিকে তারা আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতভুক্ত হাম্বলী মাযহাবের নামে নিজেদের বদআক্বীদা ও চরমপন্থাকে ঢেকে রাখলেও আস্তে আস্তে তাদের খোলস পাল্টাতে থাকে। তৎকালীন হক্কানী-রব্বানী উলামায়ে কিরাম ইবনে তাইমিয়া ও তার অনুসারীদেরকে মুরতাদ বলে ঘোষণা করেন।
এ প্রসঙ্গে বিশ্বখ্যাত মুসলিম পরিব্রাজক ইবনে বতুতা লিখেছে- একদা দামেস্কের জামে মসজিদে ইবনে তাইমিয়া ঘোষণা করেছিল- আল্লাহ আসমান হতে জমীনে নামেন, ঠিক যেভাবে আমি নেমে যাচ্ছি বলে ইবনে তাইমিয়া মিম্বর থেকে নেমে পড়ে। (নাঊযুবিল্লাহ) আল্লাহ পাক মানবসুলভ আকৃতি বিশিষ্ট মতবাদের একজন দৃঢ় বিশ্বাসী হিসেবে (anthropaomorphist) সে কুখ্যাত।

তাকলীদ অস্বীকারকারী ইবনে তাইমিয়া তার এক বয়ানে বলেছে- উমর ইবনুল খত্তাব (রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) জীবনে বহু ভুল করেছেন। আলী ইবনে তালিব (রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) জীবনে তিনশো ভুল করেছিলেন। (নাঊযুবিল্লাহ) ফলতঃ ইবনে তাইমিয়া একাধিকবার গ্রেফতার হয়ে অতঃপর ৭২৮ হিজরী মতান্তরে ২৭শে সেপ্টেম্বর ১২২৮ ঈসায়ীতে মৃত্যুমুখে পতিত হয়। তার মৃত্যুর পর তার কুফরী মতবাদগুলো ছাইয়ের নিচে ছাপা পড়া আগুনের মত পড়ে থাকলেও সেই আগুনকে আবার মিল্লাতে মুসলিমার মধ্যে প্রজ্জ্বলিত করে আরবের নজদ প্রদেশের ইবনে আব্দুল ওহাব নামক এক মানব শয়তান।

ঐতিহাসিক আব্দুল মওদুদ এ প্রসঙ্গে লিখেন- ‘প্রায় চারশো বছর পরে ইবনে আব্দুল ওহাবের (১৭০৩-১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দ) নেতৃত্বে যে ওহাবী মযহাব (যা বাতিল) প্রতিষ্ঠিত হয়। তার মৌলিক নীতিগুলি ইবনে তাইমিয়ার শিক্ষা থেকেই গৃহীত হয়েছে এ বিষয়ে কোন মতবিরোধ নেই।’
যার উদ্ভব প্রসঙ্গে খোদ হাদীছ শরীফ-এ ভবিষ্যৎবাণী উচ্চারিত হয়েছে। যা বুখারী শরীফ-এর ২য় খণ্ড ১০৫১ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে এভাবে- “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুয়া করলেন- “আয় আল্লাহ পাক! আমাদের শাম এবং ইয়ামেন দেশে বরকত দান করুন। তখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ আরজ করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম, আমাদের নজদের জন্যও দুয়া করুন। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শাম এবং ইয়ামেনের জন্য পুনরায় বরকতের দুয়া করলেন। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ আবারো নজদের জন্য বরকতের দুয়া করার আরজী পেশ করলে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নজদের জন্য দুয়া করতে অস্বীকার করলেন এবং বললেন, “আমি নজদের জন্য কি করে দুয়া করতে পারি? সেখানেতো ভূমিকম্প, ফিতনা-ফাসাদ এবং শয়তানী দলের উৎপত্তি হবে।”
মূলতঃ হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ভবিষ্যতবাণী অনুযায়ী ১১১৪ হিজরী কারো মতে ১১১৫ হিজরী মুতাবিক ১৭০৩ ঈসায়ী সালে আরবের নজদ প্রদেশের উয়াইনা অঞ্চলে জন্ম গ্রহণ করে ইবনে আব্দুল ওহাব নজদী।

Views All Time
2
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+