দ্বীন ইসলাম গ্রহণ না করা পর্যন্ত কাফির-মুশরিকদের সবকিছু বাতিল ও অগ্রহণযোগ্য!


ভারতের মুসলিম শাসনামলে হিন্দুরা মুসলমান শাসকদের অধীনে চাকরি করতে চাইলে হিন্দু থেকে মুসলমান হতে হতো না। তবে হিন্দুদেরকে সেক্ষেত্রে ফারসী ভাষা শিখতে হতো এবং মুসলমানদের ন্যায় পোশাক পরতে হতো। তবে যেহেতু তারা অন্তরের দিক দিয়ে হিন্দুই থেকে যেত, সেহেতু তারা বাড়িতে ফিরেই ঘৃণাভরে সেই পোশাক পরিত্যাগ করতো। এ প্রসঙ্গে প্রাবন্ধিক নীরদ সি চৌধুরী উল্লেখ করেছে-
“বাঙালি (হিন্দু) পুরুষ ইংরেজ রাজত্বের আগে একমাত্র মুসলমান নবাবের কর্মচারী হইলে মুসলমানী পোষাক পরিত, উহা অন্দরে লইয়া যাওয়া হইত না। বাহিরে বৈঠকখানার পাশে একটা ঘর থাকিত, সেখানে চোগা-চাপকান-ইজার ছাড়িয়া পুরুষেরা ধুতি পরিয়া ভিতরের বাড়িতে প্রবেশ করিত। তাহার প্রবেশদ্বারে গঙ্গাজল ও তুলসীপাতা থাকিত, ম্লেচ্ছ পোষাক পরিবার অশুচিতা হইতে শুদ্ধ হইবার জন্য পুরুষেরা গায়ে গঙ্গাজল ছিটাইয়া মাথায় একটা দুইটা তুলসীপাতা দিত।” (সূত্র: আত্মঘাতী বাঙালী, নীরদ সি চৌধুরী, মিত্র এন্ড ঘোষ পাবলিশার্স, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৫০)
সে সময়টিতে যখন মুসলমানরা ক্ষমতায় আসীন ছিল, তখন তারা ফারসী ভাষা শেখা ও মুসলমানী পোশাক পরার বিনিময়ে হিন্দুদের চাকরি দিতো, ছাড় দিতো। কিন্তু বর্তমানে মুসলমানদের সেই রাজ্য নেই, সেই আত্মসম্মানবোধটুকুও নেই। এখন ছাড় দিতে দিতে মুসলমানদের এমন অবস্থা হয়েছে যে, বর্তমানে আক্ষরিক অর্থেই কাফির-মুশরিকরা মুসলমানদের গরু মেরে জুতা দান করলেও মুসলমানরা সেই ছেঁড়া জুতা মাথায় করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে থাকে। নাউযুবিল্লাহ!
বিধর্মীরা যতোই মুসলমানদের নির্যাতন করুক না কেন, মুসলমানরা আজও কাফির-মুশরিকদের ছাড় দেয়ার রাস্তা খুঁজে বেড়ায়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, সম্প্রতি এদেশে ৩ জন হিন্দুকে ক্রিকেট টীমে নেয়া হয়েছে। এই ৩ জন হিন্দু ক্রিকেটারের কারণে এতোদিন ধরে হিন্দুদের প্রশাসনে গণহারে নিয়োগ দেয়ার ব্যাপারে যে জনমত গড়ে উঠেছিল, সরকারের হিন্দুতোষণের বিরুদ্ধে যে আওয়াজ উঠেছিল, তা ভয়ঙ্করভাবে স্তিমিত হয়ে এসেছে। মাত্র ৩ জন হিন্দু ক্রিকেটারের কয়েকটি রান আর উইকেটের কারণে মুসলমানরা তাদের চাকরি-শিক্ষার দাবি ছেড়ে দিয়ে হিন্দুদেরকে মাথায় তুলে নিয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! বর্তমানে কাফির-মুশরিকরা মুসলমানদের গলা কেটে নিলেও মুসলমানরা বিধর্মীদের ছাড় দেয়ার ছুতো খুঁজে বেড়াচ্ছে, যেভাবে উকিল আসামীকে মামলা থেকে ছাড়ানোর ছুতো খুঁজে বেড়ায়। নাউযুবিল্লাহ!
কিন্তু কাফির-মুশরিকরা কী কখনো মুসলমানদের প্রতি শত্রুতায় ছাড় দেয়? এদেশে হিন্দুদেরকে এতো সুযোগ-সুবিধা দেয়ার পরও তো তারা মুসলমানদের বিরোধিতা করে থাকে, ভারতে টাকা পাচার করে। মূল বিষয়টি মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে এভাবে ইরশাদ মুবারক করেছেন যে-
“ইহুদী ও খ্রিস্টানরা কখনোই মুসলমানগণ উনাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবে না, যতোক্ষণ না মুসলমানগণ উনাদের দ্বীন ইসলাম ছেড়ে দিয়ে তাদের ধর্ম গ্রহণ না করবে।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ১২০)
উপরের পবিত্র আয়াত শরীফখানা সমস্ত কাফির-মুশরিকদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ইহুদী-খ্রিস্টান-হিন্দু-বৌদ্ধসহ তাবৎ কাফির-মুশরিকরা কখনোই মুসলমানগণ উনাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবে না, ছাড় দেবে না, যতোক্ষণ পর্যন্ত না মুসলমানরা তাদের সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ত্যাগ না করবে। নাউযুবিল্লাহ!
বিপরীতে মুসলমানরা সামান্য ফারসী ভাষা শেখাটাই হিন্দুদের জন্য যথেষ্ট মনে করেছিল, যা ভারতবর্ষের মুসলিম শাসকদের ঐতিহাসিক ভুল। উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফখানা উনার মধ্যে মুসলমানগণ উনাদের জন্য যে নির্দেশ মুবারক রয়েছে তা হলো, মুসলমানরাও কাফির-মুশরিকদের প্রতি ততোক্ষণ সন্তুষ্ট হবে না, যতোক্ষণ পর্যন্ত না কাফির-মুশরিকরা তাদের কুফরী ধর্ম ছেড়ে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ না করবে। একজন কাফির যতোক্ষণ তার কুফরীর মধ্যে থাকবে, যতোক্ষণ বিধর্মী হিসেবে নিজের পরিচয় দেবে, ততোক্ষণ পর্যন্ত তাকে গ্রহণ করা যাবে না। তা সেই বিধর্মী যতোই মুসলমানদের প্রতি বাহ্যিক সদ্ভাব দেখাক না কেন কিংবা মুসলমানদের ভাষা ও পোশাক গ্রহণ করুক না কেন।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে