ধর্মনিরপেক্ষ হলে উত্তর দিতে হবে


আমাদের দেশে একটি শ্রেণী আছে যারা নিজেদেরকে ‘সুশীল’ বলতে চায়। তাদের কথাগুলো অতি আশ্চর্যজনক মনে হয়। তাদের হাবভাব দেখে মনে হয়- নতুন নতুন সব তত্ত্ব আবিষ্কার ও প্রচারই যেন তাদের কাজ। এইতো কুরবানীর কিছুদিন আগে আগে তারা কয়েকটি বুলি (তত্ত্ব) প্রচার করতে লাগলো। সেগুলো হলো-

-কুরবানীর গরুর হাটগুলো শহরে বাইরে নিলেই যানজট কমবে !
-যেখানে সেখানে কুরবানী করে শহরকে দূষিত করা হয় !
-কুরবানী না করে সে টাকাগুলো গরীবদের দিয়ে দিলেই হয় !
……তাদের এ কথাগুলো দেশের পত্রপত্রিকাগুলোও নিয়মিত বিভিন্নভাবে সংবাদ আকারে প্রচার করতো। এসব নিয়ে অনলাইনে অফলাইনে তথা সব জায়গাতেই নানারকম আলোচনা, সমালোচনা বিতর্ক চলতে লাগলো।
তো যাই হোক, এসবের মধ্যেই কুরবানী পেরিয়ে গেলো। এর মধ্যেই আবার শুরু হলো দেশের সংখ্যালঘু একটি সম্প্রদায় তথা হিন্দুদের দুর্গাপূজার প্রস্তুতি। পত্র-পত্রিকাগুলোও জোরসে কলম চালিয়ে যাচ্ছে পূজার প্রচারণায়। শুনলাম দেশে এবার প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি পূজামন্ডপ তৈরি হবে। দেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের তুলনায় পূজামন্ডপের এত আধিক্য দেখে কিছু প্রশ্ন সুশীলদের জন্য রাখলাম….
-এত হাজার হাজার মন্ডপগুলো কোথায় তৈরি হবে? এগুলোর কারণে কি দেশের কোথাও যানজট তৈরি হবে না?
-এত হাজার হাজার মন্ডপের মূর্তিগুলোকে যখন দেশের নাব্যতা সঙ্কটে ভোগা নদীগুলোতে ফেলা হবে- তখন কি পরিবেশ দূষিত হবে না?
-যে মূর্তিগুলো পূজা শেষে ফেলে দেয়া হবে সেগুলোর পিছনে এত কাড়িকাড়ি টাকা খরচ না করে সেগুলোর অর্থ গরিবদের দিয়ে দিলে হয় না?
………কুরবানীর সময় যে সকল সুশীল ও মিডিয়া কুরবানী নিয়ে, কুরবানীর হাট ও জবাই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলো, তারা কি পূজার বিষয়েও এ প্রশ্নগুলো তুলতে পারবে?
মনে হয় না। কারণ নিজেদেরকে ধর্মনিরপেক্ষ দাবি করা সুশীলগোষ্ঠী ও মিডিয়াগুলো প্রতিবছরই কুরবানী নিয়ে নানারকম নেতিবাচক বুলি (তত্ত্ব!) প্রচারে আত্মনিয়োগ করলেও পূজার বিষয়ে তাদেরকে বরাবরই ইতিবাচক ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা যায়। যে কারণে এদেরকে নিরপেক্ষ না ভেবে পূজারীদের সোল এজেন্ট বলাই শ্রেয় ।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে