ধর্মব্যবসায়ী, আশাদ্দুদ দরজার জাহিল উলামায়ে সূ’রা এবং টিভি চ্যানেলে বলেছে, জন্মাষ্টমী, বৌদ্ধপূর্ণিমা, যিশুর জন্ম দিনের মত ঈদে মীলাদুন নবী নামে বিধর্মীয় সংস্কৃতি পালন করা হচ্ছে । নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! ধারাবাহিক।


ধর্মব্যবসায়ী, আশাদ্দুদ দরজার জাহিল উলামায়ে সূ’রা এবং টিভি চ্যানেলে বলেছে, জন্মাষ্টমী, বৌদ্ধপূর্ণিমা, যিশুর জন্ম দিনের মত ঈদে মীলাদুন নবী নামে বিধর্মীয় সংস্কৃতি পালন করা হচ্ছে । নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! ধারাবাহিক।
********************************************************************************
দ্বিতীয় খলীফা হযরত ফারুকে আযম আলাইহিস সালাম বলেন –
مَنْ عَظَّمَ مَوْلِدَ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَدْ اَحيَا الاسْلاَم
অর্থ: “যে ব্যক্তি সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ/মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্মান করলো, সে অবশ্যই ইসলামকে জীবিত করলো”।
(আন-নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম, পৃষ্ঠা নং-৭)
 
পূর্ব প্রকাশিতের পর—
**********************
অতএব, উলামায়ে সূ’দের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বলতে হয় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করলে অর্থাৎ ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করলে যদি বিধর্মীয় সংস্কৃতি পালন করা হয় তাহলে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ কি তা করেছেন? নাঊযুবিল্লাহ! আর উনারা সেটা করেছেন বললে কি ঈমান থাকবে? বলার অপেক্ষা রাখে না, আদৌ ঈমান থাকবে না। বরং কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী হয়ে যাবে।
 
উল্লেখ্য, উলামায়ে সূ’দের উক্ত বক্তব্য মুতাবিক পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করলে যদি সেটা জন্মাষ্টমী, বৌদ্ধপূর্ণিমা ও যিশুর জন্মদিনের মত বিধর্মীয় সংস্কৃতি পালন করা হয়, তাহলে বলতে হয় যে, স্বয়ং আল্লাহ পাকই সর্বপ্রথম সেসব বিধর্মীয় সংস্কৃতি পালন করেছেন। নাঊযুবিল্লাহ!
 
কেননা স্বয়ং আল্লাহ পাকই উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করেছেন এবং এ উপলক্ষে ফেরেশতাগণসহ অন্যান্যদেরকেও খুশি প্রকাশ করার জন্য হুকুম দিয়েছেন।
যেমন- এ প্রসঙ্গে বিশ্ব সমাদৃত ও সুপ্রসিদ্ধ ‘আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম’ কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, হাবীবুল্লাহ হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফকালে স্বয়ং আল্লাহ পাক উনার হুকুম বা নির্দেশে খুশি প্রকাশ করেছিলেন ফেরেশতাকুল, খুশি প্রকাশ করেছিলেন জান্নাতের অধিবাসীগণ, এমনকি খুশি প্রকাশ করেছিল বনের পশু-পাখিরাও। খুশি প্রকাশ করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত বর্ণনা করেছিলেন এবং উনার প্রতি পাঠ করেছিলেন ছলাত-সালাত ও তাসবীহ তাহলীল।” সুবহানাল্লাহ!
একইভাবে মহান আল্লাহ পাক এই উম্মতের প্রতিও নির্দেশ দিয়েছেন, তারা যেন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করে।
 
এই প্রসঙ্গে খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনি উনার সম্মানিত কিতাব কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
قل بفضل الله وبرحمته فبذلك فليفرحوا هو خير مما يجمعون
অর্থ: হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি উম্মাহকে জানিয়ে দিন, আল্লাহ পাক ফযল-করম হিসেবে তাদেরকে যে দ্বীন ইসলাম দিয়েছেন এবং রহমত হিসেবে উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাঠিয়েছেন সেজন্য তারা যেন খুশি প্রকাশ করে। এই খুশি প্রকাশ করাটা সেসবকিছু থেকে উত্তম যা তারা দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য সঞ্চয় করে। (সূরা ইউনুস, আয়াত শরীফ-৫৮)
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে