ধর্মব্যবসায়ীদের মিথ্যা তোহমত ও বিকৃত উদ্দেশ্য সাধনের কুট চক্রান্তের সমুচিত জবাব। (প্রথম পর্ব)


বদ ও বাতিল আক্বীদাপন্থীদের এক ভাড়াটের বিকৃত বক্তব্যের জবাব।
নামক এক রেজাখানী অভিযোগকারীর অভিযোগ হলো- রাজারবাগীদের মানসিক সমস্যা আছে।
রাজারবাগীরা কুরআন শরীফ মুতাবিক ফরজ পর্দা করার জন্য আপ্রান চেষ্টা করে- এটা কি মানসিক সমস্যা?
রাজারবাগীরা হারাম ছবি তোলার ব্যাপারে পবিত্র হাদীস শরীফ-এ কঠোর নিষেধবানী থাকায় খুব শক্তভাবে ছবি তোলা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করে- এটা কি মানসিক সমস্যা?
রাজারবাগীরা কুরআন সুন্নাহর আইন বাদ দিয়ে আব্রাহাম লিংকন বা অন্য কোন বিধর্মী বিজাতীর কোন তন্ত্রমন্ত্রের ভোট নির্বাচন দলাদলি করেনা- এটা কি মানসিক সমস্যা?
রাজারবাগীরা প্রতিবাদের নামে কোন কুফরী নিয়ম কানুন যেমন হরতান অবরোধ বা লংমার্চের ধারে কাছেও যায়না- এটা কি মানসিক সমস্যা?
রাজারবাগীরা টিভি সিনেমা দেখেনা,টেলিভিশনে কোন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেনা- এটা কি তাদের মানসিক সমস্যা?
রাজারবাগীরা যখন তখন মনমত মনগড়া পোষাক পরিচ্ছদ ব্যবহার করেনা বরং সবসময় চেষ্টা করে সুন্নতী পোষাক পরিধান করতে- এটা কি মানসিক সমস্যা?
রাজারবাগীরা ‍কুফরী শিরককারী যেকোন দল বা গোষ্ঠির বিরুদ্ধে তুমুল সমালোচনা করে, তাদেরকে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক আমল করতে তাগাদা দেয়- এটা কি মানসিক সমস্যা?
রাজারবাগীরা হিন্দু মুশরিক বিধর্মী বিজাতীদের সাথে বন্দুত্ব রাখেনা বা রাখতে চায়না যেহেতু কুরআন শরীফ উনার মধ্যে কাফির মু্শরিকদেরকে মুসলমানদের চরম শত্রু বলা হয়েছে- এটা কি মানসিক সমস্যা?
এরকম হাজারো উদাহরন দেয়া যাবে। আসল কথা হলো যেহেতু রাজারবাগীরা ১৪০০ বৎসর আগে নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী চলতে চায় এবং চলার চেষ্টা করে সেহেতু যারা যুগের পরিবর্তিত অবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে চায় এবং চলেও- তাদের নিকট দ্বীন ইসলামের উপর রাজারবাগীদের দৃঢ়তাকে মানসিক সমস্যা বলেই মনে হবে।যে কারনে অভিযোগকারী রাজারবাগীদেরকে মানসিক রোগী হিসেবে অভিমত ব্যক্ত করেছে। ঠিক এমনভাবেই মক্কার কাফির মুশরিক গং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে মানসিকরোগী বলে উপহাস করেছিলো। নাউজুবিল্লাহ!
অভিযোগকারীর আরেকটি অভিযোগ হলো- রাজারবাগীদের অমুসলিম বিদ্বেষ দেখার মত।অর্থাৎ রাজারবাগীরা অমুসলিমদেরকে শত্রু ভাবে, ঘৃনা করে। তাদের থেকে দুরে থাকে।
এখন তাহলে অভিযোগকারী যেহেতু মুসলিম সেহেতু তার কাছে প্রশ্ন হলো-
যারা অমুসলিম তারা কি আল্লাহ পাক উনাকে মানে?
যারা অমুসলিম তাদেরকে কি আল্লাহ পাক তিনি ভালবাসেন?
যারা অমুসলিম তারা কি রাসূল পাক উনাকে মেনে ইসলাম গ্রহন করেছে?
যারা অমুসলিম তাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহন করতে আল্লাহ পাক তিনি কি নিষেধ করেননি?
যারা অমুসলিম তারা কি ঈমানদার মুসলমানদের ভালো কামনা করে?
পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মাঝে ইরশাদ হয়েছে- বন্ধুত্ব কিংবা বিদ্বেষ হতে হবে শুধুমাত্র আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতের খাতিরে। এখন যেহেতু আল্লাহ পাক অমুসলিমদেরকে মুহব্বত করেন না, তারাও আল্লাহ পাক ও রাসুলে পাক উনাদেরকে মুহব্বত করেনা ইত্তেবা করেনা সেহেতু তাদের প্রতি বিদ্বেষভাব রাখাতো ঈমানী দায়িত্ব। যা রাজারবাগীরা ভালভাবে পালন করার চেষ্টা করেন।
অভিযোগকারীর অভিযোগ হলো- রাজারবাগীদের ধর্ম নিয়ে কঠোরতার বাড়াবাড়িও মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।
এখন তাহলে অভিযোগকারীর নিকট প্রশ্ন কতটুকু কঠোর হলে সেটাকে বাড়াবাড়ি বলে? পবিত্র কুরআন সুন্নাহতে কি বার বার বলা হয়নি, হে ঈমানদারগন তোমরা দ্বীনের মধ্যে, হকের মধ্যে এবং যা নাযিল করা হয়েছে তার মধ্যে সুদৃঢ় থাকো। ইস্তেকামত থাকো। অটল থাকো। যুগের প্রয়োজনে, শাসকদের ভয়ে, দুনিয়ার কারনে, গাইরুল্লাহর কারনে, টাকা পয়সার লোভে,ক্ষমতার লোভে, নফসের তাড়নায় তোমরা ইসলামী শরীয়তের বিধানকে ছেড়ে দিয়োনা। ‍সুন্নাতকে পরিত্যাগ করোনা। পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- যে আমার সুন্নাতকে পরিত্যাগ করলো সে আমার উম্মত হতে খারিজ হয়ে গেলো। নাউজুবিল্লাহ! এখন তাহলে রাজারবাগীরা যদি উম্মত হতে খারিজ হতে না চায়, উম্মত হিসেবে থাকতে চায় তাহলেতো তারা ধর্মীয় বিধানগুলো কঠোরভাবে পালন করেই যাবে। যা অভিযোগকারী ও তার সমমনাদের কাছে মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি বলে মনে হচ্ছে। এখন তাহলে প্রকৃতপক্ষে ধ্যান ধারনা মানষিকতায় কার মধ্যে সমস্যা দেখা যাচ্ছে বলেনতো দেখি!
অভিযোগকারীর মতে, এই রোগ যাদের হয় তাদের জ্ঞান অত্যন্ত বেশি থাকে, ভাবনাও খুব গভীর থাকে, তাদের প্রতিটা কাজের পিছনে কঠিন যুক্তি থাকে, পরিকল্পনাও মাত্রাতিরিক্ত গোছানো হয়, তাদের মতবাদ অত্যন্ত কঠোর হয়, ধর্মের দিক দিয়ে তারা অত্যন্ত কঠোর অনুসারী হয় ।
অভিযোগকারীর উপরোক্ত অভিযোগ যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলেতো- রাজারবাগীরাই প্রকৃত মুমিনে কামেল। তারাই হাকিকী মুসলমান। তারাই হকের অনুসারী।তারাই আসল ইলম আমলের অধিকারী। তারাই সদা আল্লাহ পাক উনার রহমতের মধ্যে থাকে। তাহলে কি করে তাদের থেকে সত্য ধীরে ধীরে সরে যেতে পারে। বরং তাদেরকেতো আল্লাহপাক সত্য সুন্দর দ্বীনের প্রতি অবিচল থাকার কারনে তাদেরকে হাকিকী মুত্তাকী হিসেবে সিলমোহর মেরে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে