ধর্মব্যবসায়ীদের মিথ্যা তোহমত ও বিকৃত উদ্দেশ্য সাধনের কুট চক্রান্তের সমুচিত জবাব। (দ্বিতীয় পর্ব)


=>ইসলামে আলাইহিস সালাম শুধু নবী ও রাসূল দ. গণকে বলা হয়। কোন সাহাবা রা. কেও আলাইহিস সালাম বলা হয় না। শিয়া মতবাদে বারোজন ইমামকে আলাইহিস সালাম বলা হলেও তারা ইতোমধ্যে চলে গেছেন।
অভিযোগকারীর এ অভিযোগের জবাবে ঠান্ডা মাথায় বলছি যে, আলাইহিস সালাম শুধুমাত্র নবী ও রাসূল উনাদেরকে বলা হয়। এটা পুরাই মিথ্যা কথা এর দ্বার এটা প্রমান হলো, অভিযোগকারী দ্বীন ইসলাম উনার বিধান সম্পর্কে একেবারে নেহায়েত অজ্ঞ।তার নিকট পাল্টা প্রশ্ন- হযরত হাওয়া আলাইহাস সালাম, হযরত মরিয়ম আলাইহাস সালাম, হযরত হাজেরা আলাইহাস সালাম, হযরত ইমাম মাহদী আলাইহাস সালাম উনারা কি নবী বা রাসূল? বরং নবী রাসূল উনাদের সাথে খাস ভাবে সংশ্লিষ্ট হবার কারনে উনাদের নাম মুবারকের ক্ষেত্রে আলাইহিস সালাম বলা হয়। এছাড়া কোন সাহাবাকিরাম উনাদেরকেও যদি আলাইহিস সালাম বলা হয় তাতেও কোন অসুবিধা থাকার কথা না। এছাড়া বারো ইমাম উনারা খাসভাবে আহলে বাইত শরীফ উনাদের সম্মানিত ইমাম হবার কারনে উনাদেরকে আলাইহিস সালাম বলা হয়। আর বারো ইমাম কি শিয়া মতবাদের? উনারাতো আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত উনাদের ইমাম।শিয়ারা আল্লাহ পাক্ উনাকে মানার কারনে তাহলে কি বলতে হবে- আল্লাহ পাক হচ্ছেন শিয়াদের? নাউজুবিল্লাহ!
অপরদিকে রাজারবাগীরা তাদের পীর সাহেব এবং উনার আল আওলাদ খাস আত্নীয়দের ক্ষেত্রে আলাইহিস সালাম এজন্য বলে থাকেন-যেহেতু তাসাউফের একটা উসূল হলো, যতসম্ভব স্বীয় পীর সাহেবকে সম্মান জানাতে হবে এবং পীর সাহেবের খাতিরেই উনার আত্নীয়দেরকে সম্মান দিতে হবে।এমন অভিমতই হযরত খাজা সাহেব আলাইহিস সালাম এবং হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনারা উনাদের তাসাউফের কিতাবে বলেছেন।কোনভাবেই রাজারবাগীরা পীর সাহেবকে আল্লাহ পাক কিংবা রাসূল পাক কিংবা সাহাবী বা অন্যকোন আকাবির আউলিয়াদের সমতুল্য বলে মনে করেননা। আর কেউ আলাইহিস সালাম বললেই সে নবী বা রাসূল সেটা বড়ই মিথ্যা অপবাদ। সোজা বাংলায় যখন কেউ বলবে যে হ্যা- সে নবী বা রাসূল! তখন তাকে এই কুফরীর জন্য দায়ী করা হবে।সবচে বড় কথা একজন মুসলমান আরেকজন মুসলমানের সাথে সালাম বিনিময় করার যে শব্দ ব্যবহার করা হয় তাইতো আলাইহিস সালাম অর্থের শব্দ বা বাক্য।আসসালামু আলাইকুম- ওয়ালাইকুমুস সালাম। তবে কি সাধারন মুসলমান সবাই নবী বা রাসূল হয়ে গেলো??? নাউজুবিল্লাহ মিন জালিক!
=> অভিযোগকারীর অভিযোগ রাজারবাগীরা নাকি তার পরিবারকে রাসূল দ.’র আদলে আহলে বাইত বলে।এটাওতো ডাহা মিথ্যা!তারা বড়জোড় মুর্শিদী আহলে বায়ত বা শায়খের আহল হিসেবেই মেনশন করে থাকে। আর যদি বলা হয় রাসুল পাক উনার আদলে আহরে বাইত বলে তাহলেও সেটার সহজ ব্যাখ্যা আছে। সেটা হলো- তাসাউফ অর্থাৎ অভিযোগকারীর সুফিজমে যে হাদীস শরীফখান খুব বেশী আলোচিত হয় সেটা হলো- আশ শায়খু লি কাওমিহী কান নাবিয়্যু ফি উম্মাতি। অর্থাৎ নিজের মুর্শিদ নিজ মুরীদ মুতাকিদ অনুসারীদের নিকট তেমনি সম্মানিত আদব পাওয়ার যোগ্য যেমনটি নবী রাসূল পাক উনারা নিজ নিজ উম্মতের নিকট।অর্থাৎ নবী রাসূল উনাদের নায়িব কায়েম মকাম ওয়ারিস হিসেবেই উনাদেরকে মুরীদগন সম্মান জানাবেন, আদব প্রদর্শন করবেন। ঠিক একই কারনেই পীর সাহেবের নাম মুবারক নিলেই দরুদ মানে দুয়া পড়া মুরিদের জন্য আদব। সুফিগন বলেছেন-বেয়াদব আল্লাহ পাক উনার রহমত থেকে বঞ্চিত। সর্বাবস্থায় পীর সাহেবকে ধ্যান খেয়ালে রাখাইতো আদব এবং এটাই তাসাউরে শায়খ। যার দ্বারা মুরিদ কামেলে মুকাম্মিল সহজেই হতে পারে।

Views All Time
1
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে