নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম এবং উম্মুল মু’মীনিন হযরত মা আয়েশা সিদ্দীকা আলাইহিস সালাম উনাদরে শানে অবমাননাকারীর ফাঁসি চাই


13450777_1809574512594923_1795067367633095856_n

সালাফীরা যে ইহুদীদের এজেন্ট এ কথা আর নতুন করে বলার অবকাশ নাই। সালাফী আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ যেকিনা শুদ্ধ করে কুরআন শরীফও তেলাওয়াত করতে পারে না, এই কাজ্জাবটা আমাদের প্রানের চাইতে প্রিয় নবী হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং উম্মুল মু’মীনিন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনাদের শানে চরম আপত্তিকর কথা বলেছে। যেটা সাধারান কোন মু’মিনের পক্ষে চিন্তাতেও আসার কথা না। এই রাস্তার কুকুরটা বলেছে, নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বিবস্ত্র অবস্থায় গোসল করতেন (সূত্র :https://youtu.be/N5GNxfkocOE)। নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক। আসতাগফিরুল্লাহ।

এই নিকৃষ্ট কথা কে সাবেত করতে সে জাল হাদীস বর্ণনা করতেও কার্পন্য বোধ করে নাই। কাজ্জাব আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ যে ইবারত পড়েছে সেটা অনুসন্ধান করে সহীহ মুসলিম শরীফে একটা হাদীস শরীফ পেলাম। কিন্তু এই মিথ্যাবাদী শয়তানটা যা বলেছে তার বিন্দুমাত্রও এই হাদীস শরীফে নাই। এমনকি তার প্রতি চ্যালেঞ্জ পৃথিবীর কোন কিতাব থেকে সে তার কথার দলীল দিতে পারবে না। আসুন দেখা যাক হাদীস শরীফে প্রকৃতপক্ষে কি বর্ণিত আছে,

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، عَنْ مُعَاذَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم مِنْ إِنَاءٍ – بَيْنِي وَبَيْنَهُ – وَاحِدٍ فَيُبَادِرُنِي حَتَّى أَقُولَ دَعْ لِي دَعْ لِي . قَالَتْ وَهُمَا جُنُبَانِ .
অর্থঃ হযরত ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি …হযরত আয়িশা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্র থেকে থেকে গোসল করতাম যা আমার এবং উনার মাঝখানে থাকত। তিনি আমার থেকে আগে তাড়াতাড়ি করে ফেলতেন। তখন আমি বলতাম, আমার জন্য একটু রেখে দিন, আমার জন্য একটু রেখে দিন। তিনি [হযরত আয়িশা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা] বলেন, আমাদের গোসলের বিশেষ প্রয়োজন ছিলো।(মুসলিম শরীফ কিতাবুল হায়েজ : হাদীস ৬২৫)

সহীহ মুসলিম শরীফে বর্নিত আছে,
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ بْنِ قَعْنَبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَفْلَحُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ تَخْتَلِفُ أَيْدِينَا فِيهِ مِنَ الْجَنَابَةِ .
অর্থঃ হযরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা ইবনু কা’নাব রহমতুল্লাহি আলাইহি … হযরত আয়িশা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্র থেকে (পানি নিয়ে) গোসল করতাম। আমাদের উভয়ের হাত ভিন্ন ভিন্ন ভাবে তাতে লাগত। এ গোসল ছিল বিশেষ প্রয়োজনের। (মুসলিম শরীফ কিতাবুল হায়েজ : হাদীস ৬২৪)

حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَالنَّبِيُّ، صلى الله عليه وسلم مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ مِنْ قَدَحٍ يُقَالُ لَهُ الْفَرَقُ.
অর্থঃ আদম ইবনু আবূ ইয়াস রহমতুল্লাহি আলাইহি …হযরত আয়িশা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্রে (কাদাহ) থেকে (পানি নিয়ে) গোসল করতাম। সেই পাত্রকে ফারাক বলা হতো। (বুখারী শরীফ কিতাবুল গোসল: হাদীস ২৪৮)

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، أَخْبَرَنَا أَفْلَحُ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَالنَّبِيُّ، صلى الله عليه وسلم مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ تَخْتَلِفُ أَيْدِينَا فِيهِ.
অর্থঃ আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা রহমতুল্লাহি আলাইহি …….. হযরত আয়িশা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্রের পানি দিয়ে এভাবে গোসল করতাম যে, তাতে আমাদের দু’জনের হাত একের পর এক পড়তে থাকত। (বুখারী শরীফ কিতাবুল গোসল: হাদীস ২৫৯)

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَفْصٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَالنَّبِيُّ، صلى الله عليه وسلم مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ مِنْ جَنَابَةٍ. وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ مِثْلَهُ.
অর্থঃ আবূল ওয়ালীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি ….. হযরত আয়িশা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্রের পানি দিয়ে প্রয়োজনীয় গোসল করতাম। (বুখারী শরীফ কিতাবুল গোসল: হাদীস ২৬১)

হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছিলেন লজ্জাশীলতার চুড়ান্ত দৃষ্টান্ত, আর এ কারনে তিনি বলেন,

وَقَالَ بَهْزٌ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اللَّهُ أَحَقُّ أَنْ يُسْتَحْيَا مِنْهُ مِنَ النَّاسِ».
অর্থঃ হযরত বাহায রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর পিতার সূত্রে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, লজ্জা করার ব্যাপারে মানুষের চেয়ে আল্লাহ্‌ তা’আলাই হকদার। (বুখারী শরীফ)

আপনারাই বলুন, এখানে বিবস্ত্র হয়ে গোসল করার কথা কোথায় বলা হয়েছে????

আর সকল ফিক্বাহের কিতাবে বিবস্ত্র হয়ে গোসল করা মাকরুহ ফতওয়া দেয়া হয়েছে। যেখানে আমভাবে উলঙ্গভাবে গোসল করা মাকরূহ সেখানে নবীজীর শানে এমন অশ্লীল মন্তব্য করাটা কতবড় দাজ্জালের মত কাজ সেটার বিচার মুসলমানদের হাতে ছেড়ে দিলাম।

এই সব সালাফীরা সারাদিন সহীহ হাদীস সহীহ হাদীস যিকির করে অথচ তাদের নোংরা মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে নিজের বানানো জাল বর্ণনা করতে বিন্দুমাত্র লজ্জা বোধ করেনা। আর এসকল বদমাইশ কাজ্জাব সালাফীদের পরিনতি সম্পর্কে হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে,

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، قَالَ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، قَالَ أَخْبَرَنِي مَنْصُورٌ، قَالَ سَمِعْتُ رِبْعِيَّ بْنَ حِرَاشٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ عَلِيًّا، يَقُولُ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ” لاَ تَكْذِبُوا عَلَىَّ، فَإِنَّهُ مَنْ كَذَبَ عَلَىَّ فَلْيَلِجِ النَّارَ “.
অর্থঃ হযরত ‘আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত নাবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার উপর মিথ্যা আরোপ করো না। কারণ আমার উপর যে মিথ্যা আরোপ করবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। (বুখারী শরীফ ১০৭)

حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ، قَالَ أَنَسٌ إِنَّهُ لَيَمْنَعُنِي أَنْ أُحَدِّثَكُمْ حَدِيثًا كَثِيرًا أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ” مَنْ تَعَمَّدَ عَلَىَّ كَذِبًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ “.
অর্থঃ হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ এ কথাটি তোমাদেরকে বহু হাদীস বর্ণনা করতে আমাকে বাধা দেয় যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপর মিথ্যা আরোপ করে সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়। (বুখারী শরীফ ১০৯)

সূতরাং হযরত হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপকারী আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। ধর্মঅবমাননা কারী হিসাবে তাকে ফাঁসি দেয়া হোক।
আর সকল মুসলমানদের জন্য অবশ্যই তার সকল আলোচনা, মাহফিল, বক্তব্য প্রত্যাহার করা উচিত। তাকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই গনধোলাই দেয়া ঈমানী দায়িত্ব…………

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে