নাজাতের জন্য আক্বীদাই মূল। সঠিক আক্বীদা ব্যতীত আমলের কোনোই মূল্য নেই।


খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি মানুষ জাতি ও জিন জাতিকে সৃষ্টি করেছেন উনার মুহব্বত-মা’রিফাত, সন্তুষ্টি ও নৈকট্য হাছিলের জন্য। এর বিপরীতে উনার অসন্তুষ্টি, লা’নত, আযাব-গযব থেকে পরিত্রাণ লাভের জন্য জিন-ইনসান, বান্দা-বান্দীদের জন্য প্রথমত শর্ত আরোপ করেছেন ঈমানের এবং দ্বিতীয়ত শর্ত আরোপ করেছেন আমলে ছালেহ বা নেক আমলের। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “সময়ের কসম! নিশ্চয়ই মানুষেরা ক্ষতিগ্রস্ত। তাঁরা ব্যতীত যাঁরা ঈমান এনেছেন এবং নেক কাজ করেছেন।”
স্মরণীয় যে, মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব হুযূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি হাছিল আর উনাদের অসন্তুষ্টি থেকে পরিত্রাণের মূল হচ্ছে ঈমান। কারণ ঈমান ব্যতীত কস্মিনকালেও সন্তুষ্টি ও পরিত্রাণ পাওয়া যাবে না। এজন্য বলা হয়, ঈমান নাজাত লাভের পূর্বশর্ত। আর আমল তথা নেক আমল হচ্ছে মর্যাদা-মর্তবা লাভের শর্ত। ঈমান ব্যতীত কোনো বান্দা যত নেক আমলই করুক তার পক্ষে নাজাত লাভ করা কখনোই সম্ভব নয়। কিন্তু কারো যদি ঈমান শুদ্ধ থাকে তার যদি কোনো আমলও না থাকে তবুও সে নাজাত পাবে। তবে আমল না করার কারণে হয়তো তাকে সাময়িক শাস্তি ভোগ করতে হবে। কিন্তু যার ঈমান নেই অর্থাৎ যে ঈমানদার নয় কিংবা যার ঈমান বা আক্বীদা শুদ্ধ নয় সে কিন্তু কখনই নাজাত বা পরিত্রাণ পাবে না। সে চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামী হবে। এ কারণে ঈমানের বিষয়টি দ্বীন ইসলামে প্রথমে আনা হয়েছে। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “পবিত্র দ্বীন ইসলাম পাঁচটি ভিত বা স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত। ১. এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই এবং নিশ্চয়ই হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ও রসূল। ২. নামায ক্বায়িম করা ৩. যাকাত প্রদান করা, ৪. হজ্জ করা, ৫. রমাদ্বান মাসের রোযা রাখা।”
এছাড়া আরো বহু পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত যে, বান্দা-বান্দীর জন্য আবশ্যিকভাবে সর্বপ্রথম গ্রহণীয় বিষয় হচ্ছে ঈমান।
উল্লেখ্য, ‘ঈমান’ ও ‘আক্বীদা’ এ শব্দ দুটির অর্থ এক ও অভিন্ন। শব্দ দুটি সমার্থবোধক। অর্থাৎ ঈমান শুদ্ধ মানে আক্বীদা শুদ্ধ। আবার আক্বীদা শুদ্ধ মানে ঈমান শুদ্ধ বুঝতে হবে। মুসলমানের আক্বীদার বিষয়গুলি যদিও অনেক তথাপি সমুদয় আক্বীদা বিশ্বাস করে নেয়ার জন্য অনেক সময় বা বছরের প্রয়োজন হয় না। মুহূর্তকাল সময়ের মধ্যেই সব আক্বীদার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা যায় এবং পরিপূর্ণ শুদ্ধ আক্বীদাসম্পন্ন মুসলমান হওয়া যায়। তা এভাবে যে, আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের যে আক্বীদা, আমারও সেই আক্বীদা।
শুদ্ধ আক্বীদা ব্যতীত যেহেতু আমলের কোনোই মূল্য নেই, সেহেতু আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের একান্ত প্রয়োজনীয় কিছু আক্বীদা সম্পর্কে জেনে নেয়া ফরয।
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+