না’তু বিনতি রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতিনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম


নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পর উনার লখতে জিগার সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি প্রায় ১২টিরও অধিক সম্মানিত না’ত শরীফ পাঠ করেন। যেগুলো ‘নু‘ঊতুয যাহরা আলাইহাস সালাম’ হিসেবে খ্যাত। নিম্নে সেই সকল সম্মানিত না’ত শরীফ থেকে একখানা সম্মানিত না’ত শরীফ ও উনাদের অনুবাদ তুলে ধরা হলো।
না’ত শরীফ ও উনার অনুবাদ:
عَنْ حَضْرَتْ عَلِيٍّ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ لَمَّا رُمِسَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَاءَتْ حَضْرَتْ فَاطِمَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ فَوَقَفَتْ عَلٰى قَبْرِهٖ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاَخَذَتْ قَبْضَةً مِنْ تُرَابِ الْقَبْرِ فَوَضَعَتْهٗ عَلٰى عَيْنَيْهَا وَبَكَتْ وَاَنْشَاَتْ تَقُوْلُ:
مَاذَا عَلٰى مَنْ شَمَّ تُرْبَةَ اَحْمَدَ ৃ
أَنْ لَا يَشَمَّ مَدَى الزَّمَانِ غَوَالِيَا
صُبَّتْ عَلَيَّ مَصَائِبُ لَوْ اَنَّهَاৃ
صُبَّتْ عَلَى الْاَيَّامِ صِرْنَ لَيَالِيَا
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত রওযা শরীফ উনার মধ্যে রাখা হলো, তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি এসে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত রওযা শরীফ উনার নিকটে অবস্থান মুবারক করলেন। তারপর তিনি সম্মানিত রওযা শরীফ উনার মাটি মুবারক থেকে এক মুষ্টি মাটি মুবারক নিয়ে উনার দুই চোখ মুবারক-এ মাখলেন এবং কান্না মুবারক করতে করতে এই বলে সম্মানিত না’ত শরীফ রচনা মুবারক করলেন,
مَاذَا عَلٰى مَنْ شَمَّ تُرْبَةَ اَحْمَدَ ৃ
أَنْ لَا يَشَمَّ مَدَى الزَّمَانِ غَوَالِيَا
صُبَّتْ عَلَيَّ مَصَائِبُ لَوْ اَنَّهَاৃ
صُبَّتْ عَلَى الْاَيَّامِ صِرْنَ لَيَالِيَا
অর্থ: “যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত রওযা শরীফ উনার মাটি মুবারক বা ধূলি-বালি মুবারক উনাদের ঘ্রাণ মুবারক নেয়, তার জন্য আর কি চাই? তার জন্য সারা জীবন বা অনন্তকাল যাবৎ আর কোন খোশবুর ঘ্রাণ নেয়ার প্রয়োজন নেই। সুবহানাল্লাহ!
(নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত জুদায়ী মুবারক উনার কারণে) আমার উপর যেসব মুসিবত আপতিত হয়েছে, তা যদি দিনসমূহের উপর আপতিত হতো, তাহলে দিনগুলো রাতে পরিণত হয়ে যেতো।” সুবহানাল্লাহ! (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১২/২৮৯, তুহফাহ, শরহে কাফিয়াহ, তাফসীরে রূহুল মা‘আনী ১০/১৪৬, ইত্তিহাফুয যায়ির ১/১৬৭, আদ দুররাতুছ ছামীনাহ ফী আখবারিল মাদীনাহ ১/১৩৯, জামউল ওসায়িল ফী শরহিশ শামায়িল, মিরক্বাত শরীফ ৩য় খ-, ইরশাদুস সারী ২/৩৭৮, ফাতাওয়ায়ে ফিক্বহিয়্যাহ ২/১৮, তুহফাতুল হাবীব ৭/৪৭৮, আশ শরহুল কাবীর লিইবনে কুদামাহ ২/৪৩০, আল মুগনী ফী ফিক্বহ ৫/৪৫, আল মাওয়াহিবুল লাদুননিয়্যাহ ৩/৫৮২, শারহুয যারক্বনী আলাল মাওয়াহিব ১২/১৬৮, ‘ঊয়ূনুল আছার ২/৪০৯, নুযহাতুল মাজালিস ১/৩২৭, ওয়াফাউল ওয়াফা ৪/২১৮ ইত্যাদি)
শব্দার্থ: مَاذَا কি? عَلٰى উপর, مَنْ যে, যারা, شَمَّ ঘ্রাণ নিয়েছে, تُرْبَةَ মাটি মুবারক, ধূলি-বালি মুবারক, ধুলা, ধুলো, اَحْمَدَ অধিকতর প্রশংসাকারী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ইসম বা নাম মুবারক, مَدَى দুরত্ব, আওতা, প্রসার, ব্যাপ্তি, পরিধি, সময়কাল, মেয়াদ, শেষ সীমা, الزَّمَانِ সময়, কাল, যুগ, যামানা, صُبَّتْ আপতিত হয়েছে, ঢলে পড়েছে, عَلَيَّ আমার উপর, مَصَائِبُ মুসিবতসমূহ, বিপদসমূহ, لَوْ যদি, اَنَّهَا নিশ্চয়ই তা, উপর, الْاَيَّامِ দিনসমূহ, صِرْنَ ফিরে এসেছে, পরিণত হয়েছে, হতো, لَيَالِيَا রাতসমূহ।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে