নানা প্রলোভনে উত্তরাঞ্চল এবং পার্বত্যাঞ্চলের জনগোষ্ঠীকে খ্রিষ্টান বানাচ্ছে বৈদেশিক বিভিন্ন এনজিও।


বাংলাদেশে খ্রিষ্টান জনগোষ্ঠী বৃদ্ধি করে আলাদা খ্রিষ্টান রাষ্ট্র তৈরীর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে এনজিওগুলো। বিষয়টি অদূর ভবিষ্যতে গভীর শঙ্কার। রহস্যজনক কারণে নীরব সরকার।
—————-
একদিকে উত্তরাঞ্চল অপরদিকে পার্বত্য এলাকাকে ঘিরে এনজিও এবং আন্তর্জাতিক খ্রিস্টান লবি খ্রিস্টীয় সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ধর্ম প্রচারের লক্ষ্যে দীর্ঘকালব্যাপী নানামুখী চক্রান্ত চালিয়ে আসছে। মুঘল আমলেই এদেশের প্রতি এনজিও এবং খ্রিস্টান মিশনারীদের শ্যেন দৃষ্টি পতিত হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে মিশনারীগণ খ্রিস্টীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও ধর্মান্তরের যে প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করে, পর্যায়ক্রমে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আমলে তার ক্রমবিকাশ সাফল্যের সাথে অব্যাহত থাকে। স্কুল প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, হাসপাতাল স্থাপন, ঋণ প্রদান, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ, দারিদ্র্য বিমোচন, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ও নারীর ক্ষমতায়ন প্রভৃতি মুখরোচক কর্মসূচির আড়ালে রয়েছে এ দেশে ইউরোপীয় সংস্কৃতি ও খ্রিস্টান ধর্ম প্রচার করার নীল নকশার বাস্তবায়ন।
কেরি, টমাস, হলওয়ে, বার্লার, পিটারসন, মন্ডল ও অলসন-এর মতো লোকেরা বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে বাইবেলের শিক্ষা, কৃষ্টি ও আদর্শ প্রচারের জন্য বাংলা ভাষা রপ্ত করে। কেরি নতুন আঙ্গিকে বাংলা ব্যাকরণ সংশোধন করে এবং ১৮০০ সালে ইংল্যান্ড থেকে বাংলা বর্ণমালার ছক এনে কলকাতার শ্রীরামপুর মিশন থেকে বাংলায় বাইবেল মুদ্রণ ও প্রচারের ব্যবস্থা করে। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত অবস্থায় কেরি ‘কথোপকথন’ ও ‘ইতিহাসমালা’ নামক বাংলায় দুটি গ্রন্থ রচনা করে। ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিপ্লবের সময় ভারতীয় উপমহাদেশে ৯০টি প্রটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টান মিশনারী সংস্থা কর্মরত ছিল। রোমান ক্যাথলিক চার্চের সংখ্যা এর বাইরে। এদেশে প্রতিকূল পরিবেশে খ্রিস্ট ধর্ম-সংস্কৃতির প্রচার ও বিকাশে তারা যে ত্যাগ ও সাধনা করে তা রীতিমতো বিস্ময়ের উদ্রেক করে।
এ ধারাবাহিকতায় বিদেশী অর্থে পরিপুষ্ট বহু এনজিও পার্বত্যাঞ্চলসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সক্রিয়। এদের বেশিরভাগই পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে ধর্মান্তরিত করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২০ বছরে পাবর্ত্যাঞ্চলে সেখানে ১২ হাজার উপজাতীয় পরিবার খ্রিস্টান হয়েছে। তিন পার্বত্য জেলায় ১৯৪টি গির্জা এ ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা রাখছে।
খাগড়াছড়িতে ৭৩ টি গির্জা আছে। এ জেলায় ১৯৯২ সাল থেকে ২০১০ পর্যন্ত ৪০৩১টি পরিবারকে খ্রিষ্টান বানানো হয়। বান্দরবন জেলায় ১১৭টি গির্জা আছে। এখানে একই সময়ে খ্রিষ্টান বানানো হয় ৪৮০টি পরিবারকে। রাঙ্গামাটিতে ৪টি চার্চ আছে। সেখানেও একই সময়ে খ্রিষ্টান বানানো হয় ১৬৯০টি পরিবারকে।
উত্তরাঞ্চলে ধর্মান্তরের কাজ আশংকা জনকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মুসলমান, চাকমা, মারমা, বৌদ্ধদের আপন ধর্ম ত্যাগ করে ধর্মান্তরিত হওয়ার ঘটনা অহরহ। রংপুর ও দিনাজপুরের আটটি জেলায় ব্যাঙের মতো গজিয়ে উঠেছে অজ¯্র খ্রিষ্টান মিশনারি। এসব এলাকায় গত পাঁচ বছরে ১০ থেকে ১২ হাজার লোক ধর্মান্তরিত হয়ে খ্রিষ্টান হয়েছে। বেকারত্ব আর দারিদ্র্যতাকে পুঁজি করে তারা ধর্মান্তরের টোপ দিচ্ছে সাধারণ মানুষকে
খ্রিষ্টান মিশনারী ও এনজিও সংস্থাগুলো যৌথভাবে “ঊাৎু সধহ ধ নরনষব ধহফ বাৎু ঢ়বড়ঢ়ষব ধ পযধৎপয” কর্মসূচিকে সামনে রেখে যে তৎপরতা শুরু করেছিল তা লক্ষ্যপানে ছুটে চলছে নিরন্তরভাবে। ১৯৩৯ সালে যেখানে খ্রিষ্টানদের সংখ্যা ছিল ৫০ হাজার তা ১৯৯২ সালে দাড়ায় প্রায় ৫ লাখে। আশঙ্কা করা হচ্ছে- এভাবে ধর্মান্তকরণ করতে দিলে অচিরেই খ্রিস্টানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে; যা পরবর্তীতে ভয়াবহ ফিতনা সৃষ্টির কারণ হবে। এনজিও ওয়ার্ল্ড ভিশনের অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলে ১৯৯১ ঈসায়ী সনে একমাত্র গারো পাহাড় এলাকায় ১৬ হাজার খ্রিস্টান ভোটার তালিকাভুক্ত হয় এবং এখানে খ্রিস্টান জনশক্তি দাঁড়ায় ৫০ হাজারে।
পার্বত্যাঞ্চলের পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলেও সমানভাবে চলছে তাদের কার্যক্রম। নওগাঁয় বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর লোকজনকে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগে বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) বাংলাদেশ লুথারেন মিশন ফিন্নিশের (বিএলএমএফ) বিরুদ্ধে মানববন্ধন করা হয়েছে। সম্প্রতি শহরের মুক্তির মোড়ে এই মানববন্ধন করে সাপাহার ইভ্যানলজিক্যাল চার্চ ইন বাংলাদেশের (ইএলসিবি) সদস্যরা। মানববন্ধন শেষে বিএলএমএফের কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন তারা।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিভিন্ন জাতিসত্তার মানুষদের আর্থিক অসচ্ছলতার সুযোগ নিয়ে প্রায় ২০ বছর ধরে বিএলএমএফ নামের একটি এনজিও নওগাঁসহ সমগ্র উত্তরাঞ্চলে কার্যক্রম চালাচ্ছে। সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, ওই এনজিওর নিয়োজিত প্রতিনিধিরা মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ও বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষদের ধর্মান্তরিত করছে।
বাংলাদেশে খ্রিষ্টানদের এ সাফল্য নিঃসন্দেহে মুসলমানদের ব্যর্থতার দলিল। যদি সাত সমুদ্র তের নদীর ওপার থেকে খ্রিষ্টান মিশনারীরা এদেশে এসে খ্রিষ্টান ধর্ম ও ইউরোপিয় সংস্কৃতি প্রচার প্রসার করতে পারে। তাহলে আমরা মুসলমানরা এতো কাছে থেকেও কেনো হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকলাম? কেন আমরা সাহায্য সহানুভূতি ও সেবার পার্বত্যাঞ্চলের ভাইদের প্রতি সম্প্রসারণ করতে পারলাম না। এটাতো আমাদেরই দায়িত্ব ছিল। এ দায়িত্বে অবহেলার মাশুল আমাদেরকে দিতেই হবে। এদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জিবিত সকলকে দিতে হবে। কেননা সংস্থাগুলো যেভাবে মানবতার সেবার নামে বাঙ্গালি জাতিকে ধর্মান্তরিত করে ভিন্ন জাতিতে রূপান্তরিত করছে তা নিশ্চিতভাবে এই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে একদিন পার্বত্যাঞ্চলগুলো দক্ষিণ সুদান ও ইন্দোনেশীয়ার পূর্ব তিমুরের মতো জাতি সংঘের তত্ত্ববাধানে স্বাধীনতা লাভ করবে। গড়ে উঠবে বাংলাদেশের বুকে আরেকটি স্বাধীন দেশ। কেননা তারা যেভাবে পার্বত্যাঞ্চলগুলোকে টার্গেট করে সামনে এগুচ্ছে তা এভাবে অব্যাহত থাকলে গোটা পার্বত্যাঞ্চল অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সচ্ছল হলেও রাজনৈতিক দিক দিয়ে বড় বিপদ জনক খ্রিষ্টান জনপদ গড়ে উঠবে। এ আশংকা অমূলক নয় যে এ দেশের খ্রিষ্টানরা ওই পাড়ের সীমান্তবর্তি (ভারত) পার্বত্যাঞ্চলের নব দিক্ষিত খ্রিষ্টানদের সাথে মিলে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের ডাক দিতে পারে। এনজিওরা কোনো দেশের বন্ধু নয়। তারা মূলত মানবতার মিথ্যাছলে জাতিকে বিভক্ত করার কাজে নেমেছে।
সূত্র মতে, বছরখানের আগে এসব এনজিওকে সরকারি নজরদারিতে আনলেও তাদের কার্যক্রম থেমে নেই। দারিদ্র্য ও সরলতার সুযোগ নিয়ে পাহাড়িদের সাহায্য ও সহযোগিতার নাম করে এনজিওগুলো তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হাসিল করে যাচ্ছে।
কিন্তু এখনও সতর্ক নয় সরকার। সক্রিয় নয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মূলত তাদের অথর্বতার বিপরীতে স্বাধীনতাকে অক্ষুন্ন রাখতে হলে গোটা দেশবাসীর জেগে উঠার বিকল্প নেই।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে