নাপাক স্থানে নামায পড়লে যেমন নামায আদায় হয়না, তেমনি যেখানে সেখানে যাকাত দিলে যাকাত আদায় হবেনা


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আর তোমরা নামায কায়িম কর ও যাকাত প্রদান কর এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য কর।” (পবিত্র সূরা নূরঃ পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৬)

উপরোক্ত আয়াত শরীফ উনার মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক তিনি নামায ও যাকাত ফরয করেছেন। কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি নাপাক কোনো স্থানে নামায আদায় করে তাহলে তার নামায আদায় হবে না। কারণ নামাযের অন্যতম শর্ত হচ্ছে যেই স্থানে নামায পড়া হবে সেই স্থান অবশ্যই পাক-পবিত্র হতে হবে। একই ভাবে যাকাত প্রদানের ক্ষেত্রেও স্থানের বিষয়টি প্রাধান্য পাবে। উপযুক্ত স্থানে যাকাত না দিলে যাকাত আদায় হবে না। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নেকী ও পরহেজগারীতে সহযোগীতা কর, বদী ও পাপে নয়। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় কর। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তিদাতা।” (পবিত্র সুরা মায়িদাঃ আয়াত শরীফ ২)

সুতরাং যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান প্রকৃতপক্ষে দ্বীন ইসলাম উনার খিদমতে নিয়োজিত সে সমস্ত প্রতিষ্ঠানে যাকাত, উশর, ফিৎরা, কাফফারা, মান্নত, দান, ছদকা, কুরবানীর চামড়া বা তার মূল্য ইত্যাদি প্রদান করতে হবে। এক্ষেত্রে মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা ও ইয়াতীমখানা সর্বোত্তম ও একমাত্র উপযুক্ত স্থান। কারণ একমাত্র অত্র প্রতিষ্ঠানেই সম্পূর্ণ শরয়ী পর্দার সাথে বালক ও বালিকাদেরকে ইলমে ফিক্বাহর পাশাপাশি ইলমে তাছাউফ শিক্ষা দেয়া হয়। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন আমল এবং মাথার তালু থেকে পায়ের তলা পর্যন্ত সব কিছুই সুন্নতের অলঙ্কারে অলঙ্কৃত। সর্বোপরি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা ভিত্তিক। কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা এবং ক্বিয়াস উনাদের আলোকে ইলম শিক্ষা দেয়া হয়। যার উদ্দেশ্য হচ্ছে বাস্তব জীবনে সুন্নতে নববীর আদর্শ প্রতিষ্ঠা তথা সঠিক ইসলাম কায়িমের মাধ্যমে আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি বা রেযামন্দী হাছিল করা। এর বিপরীতে দেশের অন্যান্য মাদরাসাগুলো ইসলামের নামে মৌলবাদ, সন্ত্রাসবাদ, বোমাবাজী, হরতাল, লংমার্চ, কুশপুত্তলিকা দাহ ইত্যাদি হারাম ও কুফরীমূলক কাজের সাথে সম্পৃক্ত। তাই এই সকল মাদরাসায়া যাকাত দিলে মুলত হারাম কাজকেই সহযোগিতা করা হবে।
তাই মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি হাসিল করতে হলে এবং পাপকাজে সহযোগিতা থেকে বিরত থাকতে চাইলে মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা ও ইয়াতীমখানায় যাকাত, উশর, ফিৎরা, কাফফারা, মান্নত, দান, ছদকা, কুরবানীর চামড়া বা তার মূল্য প্রদান করতে হবে।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে