নাযাত পাওয়া যতটা সহজ ঠিক ততটাই কঠিন!!!


মানুষ নেক কাজ করবে।ঠিকই আছে। কিন্তু তার কৃত নেককাজ তার জন্য ফায়দাদায়ক হবে কখন????? আল্লাহ পাক বলেছেন “নামায কায়েম কর” আবার আল্লাহ পাক উনিই ইরশাদ মুবারক করেছেন, “নামাযীরা ধ্বংস” কি কারণ???
মানুষ এখন অধিক আমলমুখী।ভালো! কিন্তু আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করাই একমাত্র উদ্দেশ্য কয়জনার!?!
আজকে শুনলাম এক ফ্যামিলির কথা,যাদের টাকার পরিমাণ অত্যন্ত বেশি,ব্যবহারও অমায়িক।তারা প্রতিবারই হজ্জ্বে যায়। যথারীতি এবছরেও যাবে। প্রায় ঘোষণার মতো করেই বলছিলো,”তোরা কে কে এবার হজ্জ্বে যাবি”
অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছিলো হজ্জ্বে না তারা ঢাকা টু কুমিল্লা জার্নি করতে যাচ্ছে।যাইহোক জানা গিয়েছে,তারা একই পরিবারের ৭ জন যাচ্ছে।
মহান আল্লাহ পাক অন্তরের অন্ত:স্থলের খবর রাখেন। আমি জানি না কার অন্তরে কি আছে।তবে হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে,আখেরী যামানায় মানুষ চার কারণে হজ্জ্ব করবে-
১. লৌকিকতার উদ্দেশ্যে অর্থাৎ তার টাকা পয়সা আছে বুঝানোর জন্য,লোকে হাজী,আলহাজ্জ্ব বলবে সেজন্য
২. ভ্রমণের জন্য অর্থাৎ উদ্দেশ্য থাকবে অনেক দেশই তো ঘুরা হয় এবার তবে সৌদি আরব যাই,হজ্জ্বও হলো ঘুরাও হলো
৩.ভিক্ষার জন্য
৪. ব্যবসার জন্য
খুবই কম সংখ্যক রয়েছে যারা মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করার জন্যই আমল করে থাকে। এটা হজ্জ্বের বিষয়। আবার কুরবানীও আছে,যেখানে মূল লক্ষ্য থাকে কম্পিটিশন, টাকা কে বেশি খরচ করলো,কার গরুর গোশত বেশি হলো এরকমই অনেক কিছু।
দেখা যায় যেকোনো ইবাদতই করা হোক না কেনো,যত ছোট যত বড় আমলই হোক না কেনো,মানুষ হয়তো আমল অনেকই করে কিন্তু লক্ষ্য ঠিক থাকে না। যার কারণে সে হয়তো দুনিয়াবী ফায়দা কিছু পায়ও,পাবেও,কেননা যা যা চায় তাইই পায়। কিন্তু সন্তুষ্টি মুবারক অর্জন করা গেলো কিনা সেদিকে খেয়াল করারই খেয়াল থাকে না।
এজন্যই আল্লাহ পাক উনার প্রিয়তম হাবীব,হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি ইরশাদ মুবারক করেছেন,” ইখলাছের সাথে আমল করো, অল্প আমলই নাযাতের জন্য যথেষ্ট হবে।” সুবহানাল্লাহ!
সারাদিনই তসবী পাঠ করা,কুরয়ান শরীফ পাঠ করা মহিলাকে দেখেছি মেয়ের মৃত্যুতে মহান আল্লাহ পাক উনার শানে চরম বেয়াদবীমূলক কথা বলতে,ক্ষেত্রবিশেষে চরম দুনিয়াদারী প্রকাশ করতে!
ঈমান থাকা কীভাবে সম্ভব!?!
আত্মীয়স্বজনের মধ্যে দেখেছি নিজেরা শরীয়তের খিলাফ কাজ তো করছেই,যারা শরীয়ত মুতাবিক আমল করার চেষ্টা করে তাদের তীব্র বিরোধীতা করতে যদিও তারা ৫ ওয়াক্ত নামায পড়ে থাকে!
কি হবে এই আমলের????
নেককাজে বাধাদানকারীকে ঈমানদার বলা যায়??? নেককাজে বাধা দেয়া কার কাজ??
মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে অনেকবারই আগে ঈমান আনার অত:পর নেক আমল করার জন্য ইরশাদ মুবারক করেছেন।
ঈমান ব্যতীত আমল তার কোনোই কাজে আসবে না!
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়,মাদার তেরেসার কথা, তার তো নেক আমল আছে,সে ভাল কাজ অনেক করেছে,জান্নাতী হতে পারবে কি??
নাযাত পাওয়ার জন্য প্রথম শর্ত ঈমান আনা।ঈমানের আবার স্তর রয়েছে। যে বিষয়ে যেভাবে বিশ্বাস স্থাপন করতে বলা হয়েছে সেভাবে করতে হবে। বিন্দু থেকে বিন্দুতম চু চেরা করা যাবে না,করলে ঈমান থাকবে না।
তাই মুসলিম ব্যক্তিবর্গ মাত্রই দায়িত্ব হবে সদা সাবধান থাকা ঈমান হেফাযতের বিষয়ে। কেনো? কারণ, আগেই বলা হয়েছে, এ যামানায় ঈমান রাখা অত্যন্ত কঠিন,এবেলায় ঈমান আনলে পরের বেলাতেই শেষ!!!ইচ্ছায় অনিচ্ছায় অনেক কুফরী হয়ে যায়।
তাই ঈমানের বিষয়গুলো জানা ফরয, কোন বিষয়ে অস্বীকারে ঈমান যাবে জানা ফরয। না জানার কারণে কোনোভাবে ঈমান চলে গেলে তাকে পাকড়াও হতেই হবে,সে কেনো জানলো না এ বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।
তাই মানুষের নেক আমলের পাশাপাশি ঈমান সংশ্লিষ্ট তথা আক্বীদাগত বিষয়গুলো সম্পর্কে ইলিম অর্জন করতে হবে। আর অবশ্যই সব ইবাদত করার ক্ষেত্রেই সন্তুষ্টি মুবারক পাওয়াই থাকবে একমাত্র উদ্দেশ্য -তবেই নাযাত লাভের একটা আশা করা যেতে পারে…

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে