নারী মুক্তি আন্দোলনের একটি করুণ চিত্র ও প্রসঙ্গ কথা


বেশ অনেকদিন আগে পত্রিকায় একটা ঘটনা উঠেছিল। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই দুটি প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করতো। অবশ্য এমন না যে শুধুমাত্র স্বামীর রোজগার দ্বারাই সংসার-এর ব্যয়ভার পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। তবে উভয়ে সারাদিন কর্মক্ষেত্রে সময় দেয়ার কারণে তাহলে সাংসারিক কাজ কর্মে সময় দান তথা রান্নাবান্না করার বিষয়টি।

স্বামী চাইতো স্ত্রীর দ্বারা রান্নাকৃত খাবার খেতে এবং এজন্য প্রায়শইস্ত্রীর নিকট আবেদন নিবেদন করত। কিন্তু এক পর্যায়ে স্ত্রী স্বামীর সাথে তর্ক জুড়ে দিল এই বলে যে, আমিও তো চাকরী করি, রোজগার করি। এরপর আমিই যদি রান্নাবান্না করি তাহলে তোমাকেও নিয়মিত রান্নাবান্না করতে হবে। এভাবে এক কথা দুকথা থেকে ঝগড়া এমন পর্যায়ে উপনীত হল যে, স্বামী বেচারা স্ত্রীকে শেষ পর্যন্ত তালাক দিতে বাধ্য হল। অতপর পারিবারিক অন্তঃকলোহর এই পরিণতি পরের দিন সংবাদ পত্রের শিরোনাম হয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

উক্ত ঘটনার আগে পরে আরেকটি ঘটনা পত্রিকায় এসেছিল জার্মানীর নারী সমাজ তাদের দেশে প্রচণ্ড এক গণবিক্ষোভ এর আয়োজন করে এই দাবীতে যে, হয় চাকরী নতুবা সংসার দেখাশুনা, একসাথে দুটি করা যাবেনা, করতে পারবো না, দাবী মানতে হবে মানতে হবে ইত্যাদি। তাদের মতে চাকরী করলে সংসার চালানো যায়না আবার সাংসারিক কাজকর্ম ঠিকভাবে করতে গেলে চাকরী করার কোন সময়ই থাকে না।

এদিকে আমাদের দেশের পত্র-পত্রিকায় প্রায়ই এমন রির্পোট প্রকাশ পায় প্রকাশ্যে অমুক নারী লাঞ্চিত, জোর পূর্বক শ্লীলতাহানী, এসিডে আক্রান্ত ইত্যাদি। ইদানিং অবশ্য নারী জাতীকে কথিত অন্ধকার থেকে মুক্ত করে হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিষ্টান পুরুষদের সাথে সমন্বয় করে চাকরী দেবার নামে নারী মুক্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অথচ যে দেশে একযুগেরও বেশী সময় ধরে নারী মুক্তি আন্দোলনের জন্য এত বেশী লেখা লেখি হয়, সেমিনার সিস্পোজিয়াম, মিছিল, মিটিং, শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় তখন বিষয়টি কেমন দাঁড়ায়।

মজার ব্যাপার হল এটা এমন একটা দেশ যেখানকার কথিত মোল্লা মৌলভী ও মাদ্রাসার ছাত্র ওস্তাদরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইসলামের দোহাই দিয়ে একজন বেপর্দা বেগানা নারীকে ক্ষমতার সর্বোচ্চ স্থানে বসায় তখন সে দেশেরই পত্র পত্রিকায় যদি কথিত মুক্তমনের নারী ভক্ত পুরুষরা মায়াকান্না করতে থাকে তখন সেটার অন্তরালে কি ষড়যন্ত্র বা কুমতলব কাজ তা চিন্তা ফিকির-এর বিষয় বটে।

একজন নারী উজাড় করে তার স্বামীকে ভালবাসবে, সন্তানদেরকে স্নেহ মমতা করবে। সংসার সুন্দর করার প্রয়োজনে মুক্তভাবে তার মতামত ব্যক্ত করবে, উজাড় করে মুক্তভাবে ইলাহীর ইশকে মশগুল হবে। সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ জীবন বিনির্মানে প্রয়োজনীয় ফরয ইলম লাভের মুক্ত অধিকারী হবে।

আর এ কারণে যে ‘নারী মুক্তির’ বিষয় তাতো ইসলামই নারীদেরকে সাড়ে চৌদ্দশত বৎসর পূর্বেই দিয়ে রেখেছে। তাহলে বর্তমানে যে লক্ষ্যে, যে কারণে নারী মুক্তির নামে আন্দোলন করা হচ্ছে, দাবী আদায়ের জন্য কথিত নারী দিবস পালিত হচ্ছে সেটার মূলে কি তাহলে পরিবার সমাজে বিশৃংখলা, বেপর্দা বেহায়াপনা, অশান্তি সৃষ্টির উষ্কানী দেয়া হচ্ছে না? এ প্রশ্ন এখন সচেতন সবার মাঝেই পরিলক্ষিত হচ্ছে। সম্মানিত ব্লগার আপনারা বিষয়টি কি মনে করেন?

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+