নাস্তিক,জাহেল,দাজ্জালে কাযযাব,কাফিরদের পাচাটা গোলাম মাহমুদ হাসান নামক এক জাহান্নামের কীটের মুরতাদের শাস্তি নিয়ে জঘন্য মিথ্যাচার এবং তাঁর জবাব


 

এই মালউন মাহমুদ হাসান বাংলাদেশে নাস্তিকদের প্রথম মাদার ব্লগসাইট মুক্তমনার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং মুক্তমনার উপদেষ্ঠা মন্ডলীর সদস্য (মুক্তমনায় তার পরিচয় দেখুন- http://bit.ly/2lQj3j9)। তার আইডি নাম- ফতেমোল্লা। সে বিডিনিউজে মুরতাদের শাস্তি নিয়ে নিজের মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে ইসলামকে বিকৃত করেছে। এরপুর্বে সে মুর্তি ভাষ্কর্য্য নিয়ে মিথ্যাচার করেছিল । যার দলিলভিত্তিক জবাব দেওয়ার পর সে কুকুরের মত লেজ গুটিয়ে পালায়। এখন আবার সে মুরতাদের শাস্তি নিয়ে মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়েছে। http://opinion.bdnews24.com/bangla/archives/45724অল্প বিদ্যা যে ভয়ংকর তা সে তার লিখনির মাধ্যমে প্রকাশ করেছে। আসুন দেখি মুরতাদের শাস্তি নিয়ে ইসলামে কি বলা আছে-

১) কালামুল্লাহ শরীফ-
১. ইসলামের প্রতি দুশমনি করা অথবা যে কোনো ধরনের শিরকী-কুফরী কর্ম ও বিশ্বাসের মাধ্যমে মুরতাদ হয়ে যাওয়া ব্যক্তি -যদিও সে আচরণে-উচ্চারণে নিজেকে মুসলমান প্রমাণের চেষ্টা করে -তবু সে মুরতাদ। কোরআনের পরিভাষায় এমন ব্যক্তিকে ‘মুনাফিক’ বলা হয়। এদের শাস্তি সম্পর্কে আল্লাহ পাক বলেন-মুনাফিকরা, যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তারা এবং মদীনাতে ভয়ংকর সংবাদ রটনাকারীরা যদি নিবৃত্ত না হয়, তাহলে অবশ্যই আমি আপনাকে তাদের বিরুদ্ধে প্রবল করে দিব। আর তখন তারা আপনার প্রতিবেশী হিসাবে সেখানে বেশি দিন টিকতে পারবে না। তাও থাকবে অভিশপ্ত অবস্থায়, যেখানেই এমন লোককে পাওয়া যাবে, ধরে ধরে একে একে হত্যা করে ফেলা হবে। আল্লাহ তাআলার এ নিয়ম পূর্ববর্তী লোকদের জন্যও বলবৎ ছিল। আল্লাহর নিয়মে কোনো দিন আপনি কোনো ব্যত্যয় খুজে পাবেন না। (আহযাব ৩৩ : ৬০-৬২)
২. এখানে স্মরণ রাখতে হবে যে, মুরতাদ (প্রকাশ্য মুরতাদ অথবা মুনাফেক মুরতাদ দুজনই) আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারী মুহারিব। ইসলাম ও মুসলমানকে অপমানকারী বিশ্বাসঘাতক। আল্লাহর জমিনে শান্তি বিনষ্টকারী প্রতারক। সকল মুহারিব ও ফেৎনাবাজ দুষ্কৃতিকারীর শাস্তি প্রসঙ্গে কোরআন মাজীদের ইরশাদ হয়েছে-যারা আল্লাহ ও তার রাসুলের বিরুদ্ধে দুশমনিতে লিপ্ত হয় এবং পৃথিবীতে অশান্তি ও বিপর্যয় সৃষ্টির পাঁয়তারা করে, তাদের শাস্তি কেবল মৃত্যুদন্ড, শূলিবিদ্ধ করে হত্যা কিংবা হাত পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলা অথবা নির্বাসিত করা (কারাগারে নিক্ষেপ করা)। এ তো হল তাদের পার্থিব অপমান। আর পরকালেও তাদের জন্য অপেক্ষা করছে মর্মন্তুদ শাস্তি। (মায়েদা ৬ : ৩৩)
২) পবিত্র হাদিস শরীফ –
হাদিস শরীফ বা সুন্নাহ শরীফ অনুসরণের জন্য আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন- “রাসূল তোমাদেরকে আদেশ করেন, তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যা থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক এবং তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর; নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি দানে কঠোর।” – (সূরা আল-হাশর: ৭)। এই আয়াত শরীফ দিয়ে আল্লাহ পাক হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদেশ-নিষেধ মানাকে ফরজ করে দিয়েছেন।
মুরতাদের শাস্তি সম্পর্কে হাদিস শরীফে এসেছেন –
১. মুরতাদ হলে তওবা করার সময় ৩ দিন, ৩ দিন পার হবার পর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
“ যখন উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এর নিকট ‘তুসতার’ নামক এলাকা বিজয়ের সংবাদ এলো, তখন তিনি সংবাদবাহীদের কাছে কোনো বিরল ঘটনা ঘটেছে কি না জানতে চাইলেন। লোকেরা বললো, এক মুসলমান ব্যক্তি মুশরিক হয়ে গিয়েছিলেন তাকে আমরা গ্রেফতার করে নিয়েছি। তিনি বললেন, ঐ লোকের সঙ্গে তোমরা কী আচরণ করেছো? তারা বললো, আমরা তাকে হত্যা করে ফেলেছি। হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, যদি তাকে একটি ঘরে আবদ্ধ করে রাখতে এবং ক্ষুধা নিবারণের জন্য প্রতিদিন রুটি দিতে। এইভাবে তিনদিন তওবা তলব করতে তাহলে কত ভালো হতো! তখন সে তওবা করলে তো করল, না হয় হত্যা করে ফেলতে।’ (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা, হাদীস ২৯৫৮৮)
২. হাদিস শরীফে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ –
ক) হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, ‘যে নিজের দ্বীন পরিবর্তন করবে, তাকে হত্যা করে ফেলবে।’ (সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৯২২,
জামে তিরমিযী, হাদীস ১৪৫৮,
সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪৩৫১,
মুসনাদে আহমদ, হাদীস ১৮৭১)
খ) আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে মুসলমান সাক্ষ্য দেয়, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই আর আমি আল্লাহর রাসূল, তিন কারণের কোনো একটি ব্যতীত তার রক্ত প্রবাহিত করা হালাল নয় : অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা, বিবাহিত ব্যক্তি যেনা করা, ইসলাম ত্যাগ করে উম্মত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া।
(সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৮৭৮,
জামে তিরমিযী, হাদীস ১৪০২,
মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক, হাদীস ১৮৭০৪,
বায়হাকী ৮:১৯৪ ইত্যাদি)
গ) হযরত আয়শা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা থেকে বর্ণিত-“ ওহুদ যুদ্ধে এক মহিলা মুরতাদ হয়ে যায়,তখন রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,তাকে তওবা করানো হোক,আর যদি তওবা না করে,তাহলে তাকে হত্যা করা হবে।
{সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-১২১,
সুনানে বায়হাকী কুবরা,হাদীস নং-১৬৬৪৫,
মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক,হাদীস নং-১৮৭২৫,
মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা,হাদীস নং-২৯৬০৭}
ঘ) হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত” উম্মে মারওয়ান নামের এক মহিলা মুরতাদ হয়ে গেলে রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আদেশ দেন যে,তার কাছে ইসলাম পেশ করতে,যদি সে ফিরে আসে তাহলে ভাল, নতুবা তাকে হত্যা করা হবে।
{সুনানুল কুবরা লিলবায়হাকী,হাদীস নং-১৬৬৪৩,
সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-১২২}
গ) ইজমাঃ মুরতাদের শাস্তি মৃত্যুদন্ড-এর উপর উম্মতের ইজমা রয়েছে। কোনো দ্বীনী বিষয়ে যুগের মুজতাহিদ আলেমগনের মতৈক্য প্রতিষ্ঠিত হওয়াকে ইজমা বলে। এখানে ইজমার কিছু দলিল তুলে ধরা হচ্ছে।
১. ইমাম তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি (মৃত্যু ২৭৯- হি.) তার জামে তিরমিযীর ১৪৫৮ নম্বর হাদীস-من بدل دينه فاقتلوه অর্থাৎ যে তার দ্বীন পরিবর্তন করবে, তাকে হত্যা করে ফেলবে-এর অধীনে লিখেছেন,” মুরতাদের শাস্তির বিষয়ে ইলমের সকল ধারক-বাহকের নিকট এটাই অনুসৃত বিধান”।
২. ইবনে আরাবী (মৃত্যু ৫৪৩ হি.) ইমাম তিরমিযীর উপরোক্ত বক্তব্যের প্রসঙ্গে লিখেছেন,” মুরতাদের শাস্তি মৃত্যুদন্ড-এ ব্যাপারে কারো কোনো দ্বিমত নেই”।-আরিযাতুল আহওয়াযী ৬/২৪৩
৩. ইবনু আব্দিল বার (মৃত্যু ৪৬৩ হি.) লিখেছেন,” যে তার দ্বীন ত্যাগ করে তাকে হত্যা করা বৈধ হয়ে যাবে এবং তার শিরশ্ছেদ করা হবে। মুরতাদের এ শাস্তির বিষয়ে পুরো উম্মতের সুপ্রতিষ্ঠিত ইজমা তথা মতৈক্য রয়েছে”। (আততামহীদ ৫/৩০৬)
৪. ইবনে কুদামা হাম্বলী (মৃত্যু ৬২০ হি.) লিখেছেন,সব ধরনের মুরতাদের শাস্তি মৃত্যুদন্ড। এ বিষয়ে আলেমগণের ইজমা তথা মতৈক্য রয়েছে। হযরত আবু বকর, উসমান, আলী, মুআয, আবু মুসা, ইবনে আববাস এবং খালিদ ইবনে ওয়ালীদ প্রমুখ সাহাবী রাযিয়াল্লাহু আনহুম থেকে এ শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে। আর এ শাস্তির উপর কোনো সাহাবী আপত্তি করেননি। অতএব মৃত্যুদন্ডের এ বিধানের উপর সাহাবায়ে কেরামেরও ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। (আলমুগনী ১২ : ২৬৪ )
যুক্তির আলোকে মুরতাদের মৃত্যুদন্ড
শরীয়তের সকল বিধানেরই যৌক্তিকতা রয়েছে। যে সকল বিধানের দলিল কুরআন, হাদীস ও ইজমায়ে উম্মতের মাঝে বিদ্যমান, সে সকল বিধানের উপর আমলের জন্য কেয়াস তথা যৌক্তিকতার অপেক্ষায় থাকা চলে না। মৃত্যুদন্ড হলো সর্বোচ্চ অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি। সর্বোচ্চ অপরাধ যেমন, মানুষ হত্যা, দ্বীনের বিষয়ে কটূক্তি করা বা দ্বীন ত্যাগ করার মাধ্যমে দ্বীনের উপর আঘাত হানা ইত্যাদি।
ইরতিদাদের অপরাধে মৃত্যুদন্ড দেওয়া খুবই যুক্তিসঙ্গত। কারণ সমাজে মুরতাদের অবস্থান সংঘাত-সহিংসতা ও আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতির কারণ হয়ে থাকে। এমন ব্যক্তির বেঁচে থাকার মাঝে কোনো ভালো কিছু আশা করা যায় না। একে বাঁচিয়ে রাখা বরং অনেক বড় নির্বুদ্ধিতা

Views All Time
1
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে