নিজস্ব পরিচয় বা দাবির ভিত্তিতে নয় বরং পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে মু’মিন মুসলমান হতে হবে


যিনি খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার কালাম পবিত্র কুরআন শরীফ সূরা বাক্বারা শরীফ ১৩নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যেরূপ ঈমান এনেছেন তদ্রƒপ অন্যান্য সকলকে ঈমান আনতে হবে। উক্ত পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ উনার ১৩৭ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে আরো জানিয়েছেন যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মতো যারা ঈমান আনবে কেবল তারাই হিদায়েত লাভ করবে। এখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা কিরূপ ঈমান এনেছিলেন? অর্থাৎ কিরূপ ঈমানদার বা মুসলমান ছিলেন? উনারা এরূপ ঈমানদার ছিলেন যে, কেউ যদি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে সামান্যতম কটুক্তি বা সমালোচনা করতো উনারা কখনই তা বরদাশত বা সহ্য করতেন না, সাথে সাথে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন যদিও সে ব্যক্তি উনার পিতা-মাতা হোক না কেন, সন্তান-সন্ততি বা ছেলে-মেয়ে হোক না কেন, ভাই-ভাতিজা হোকনা না কেন কিংবা জ্ঞাতী-গোষ্ঠী, পাড়া-প্রতিবেশী, অত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ইত্যাদি যে কেউ হোক না কেন। এ বিষয়টি পবিত্র সূরা মুজাদালাহ শরীফ উনার ২২নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া ছহীহ বুখারী শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী যিন্দেগীতে কা’ব বিন আশরাফ এবং আবু রাফে নামে দুই ব্যক্তি সমালোচনা ও কটুক্তি করলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করলে সাথে সাথে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা গিয়ে ঐ দুই নালায়েককে মৃত্যুদণ্ড দয়িে জাহান্নামে পাঠিয়ে দেন। যার কারণে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের ফতওয়া বা মাসয়ালা হচ্ছে, কেউ যদি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে কোনরূপ কটুক্তি বা সমালোচনা করে তাহলে তার একমাত্র শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। অর্থাৎ তাকে মৃত্যুদণ্ড দয়িে জাহান্নামে পাঠিয়ে দিতে হবে। এ সম্মানজনক কাজ যে করতে পারবে সে নিঃসন্দেহে সুউচ্চ জান্নাতের অধিকারী হবে। অথচ খুবই আফসুস ও দুঃখজনক যে, বর্তমানে মুসলমানগণ মুসলমান বলে পরিচয় দিচ্ছে, পাক্কা ও সাচ্চা মুসলমান দাবি করছে অথচ মুসলমানদের সামনেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সমালোচনা করা হচ্ছে, কটুক্তি করা হচ্ছে, উনার শান-মান বিরোধী বক্তব্য দেয়া হচ্ছে, লিখনী প্রকাশ করা হচ্ছে অথচ মুসলমান দাবীদাররা বোবা শয়তানের ভূমিকা পালন করে চলছে। নাউযুবিল্লাহ! মুসলমানদের যদি ঈমান থাকতো, মুসলমান যদি সত্যিকার অর্থে ঈমানদার মুসলমান হতো তাহলে কখনই নিশ্চুপ থাকতে পারতো না। ধিক মুসলমান দাবীদারদের জন্য।

 

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে