নির্দিষ্ট কিছু কিতাবের হাদীছ শরীফ নয় বরং সমস্ত হাদীছ শরীফই মানতে হবে


অনেকে কোন বিষয় গ্রহন করা বা মানার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র কুরআন শরীফ কিংবা বুখারী শরীফ অথবা ছিহাহ সিত্তাহ হাদীছ শরীফ-এর কিতাবের দলীল তলব করে থাকে। তারা মনে করে থাকে, এসব কিতাবের মধ্যে থাকলে তা গ্রহণযোগ্য; অন্যথায় তা গ্রহণযোগ্য নয়। অথচ শরীয়তের দলীল হলো, কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস। শুধু কুরআন শরীফ ও ছিহাহ সিত্তাহ বা বুখারী শরীফ শরীয়তের দলীল নয়। কেউ প্রমান করতে সক্ষম হবে না যে, শরীয়তের কোথাও ছিহাহ সিত্তাহ বা বুখারী শরীফকে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। বরং বলা হয়েছে, কুরআন শরীফ এবং হাদীছ শরীফকে অনুসরণ করার জন্য। সুতরাং, হাদীছ শরীফ- তা ছিহাহ সিত্তাহ’র হোক অথবা অন্য কোন কিতাবের হোক তা অবশ্যই অনুসরণীয় ও গ্রহণযোগ্য। কারণ শুধু ছিহাহ সিত্তাহই হাদীছ শরীফ-এর কিতাব নয়। ছিহাহ সিত্তাহ’র বাইরেও বহু হাদীছ শরীফ-এর কিতাব রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কিতাবে উল্লেখ আছে যে, হযরত ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইবনুস সালাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রমুখ বিখ্যাত মুহাদ্দিছ উনারা বলেন যে, ছিহাহ সিত্তাহ ছাড়াও ৫০-এর অধিক ছহীহ বা বিশুদ্ধ হাদীছ শরীফ-এর কিতাব রয়েছে। নিম্নে ছহীহ বুখারী ও ছহীহ মুসলিম শরীফ-এর ন্যায় কতকগুলো ছহীহ হাদীছ শরীফ-এর কিতাবের নাম উল্লেখ করা হলো। যেমন-

(১) ছহীহ ইবনে খুযায়মা,(২২) মুসনাদে আব্দ ইবনে হুমায়িদ,
(২) ছহীহ ইবনে হাব্বান,(২৩) মুসনাদে আবূ দাউদ তায়ালাসী,
(৩) ছহীহ ইবনে উয়ায়না,(২৪) সুনানু দারে কুতনী,
(৪) ছহীহ ইবনুস সাকান,(২৫) সুনানে দারিমী,
(৫) ছহীহ মুন্তাকা,(২৬) সুনানে বায়হাক্বী,
(৬) মুখতাসারেজিয়াহ,(২৭) মা’রিফাতু সুনানে বায়হাক্বী,
(৭) ছহীহ যুরকানী,(২৮) মা’য়ানিয়ুল আছার-তহাবী,
(৮) ছহীহ ইসফেহানী,(২৯) মুশফিক্বিয়ুল আছার-তহাবী,
(৯) ছহীহ ইসমাঈলী,(৩০) মু’জামুল কবীর-তিবরানী,
(১০) মুস্তাদরাক ইবনে হাকিম,(৩১) মু’জামুল আওসাত-তিবরানী,
(১১) মুসনাদে ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি,(৩২) মু’জামুছ ছগীর-তিবরানী,
(১২) মুয়াত্তায়ে ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি,(৩৩) কিতাবুল ই’তিক্বাদ,
(১৩) মুয়াত্তায়ে ইমাম মুহম্মদ,(৩৪) কিতাবুদ্ দোয়া,
(১৪) কিতাবুল আছার,(৩৫) মুসনাদে হারিস ইবনে উমামা,
(১৫) কিতাবুল খিরাজ,(৩৬) মুসনাদে বাজ্জাজ,
(১৬) কিতাবুল হিজাজ,(৩৭) সুনানে আবী মুসলিম,
(১৭) কিতাবুল আ’মালী,(৩৮) সুনানে সাঈদ বিন মনছূর,
(১৮) মুসনাদে শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি,(৩৯) শরহুস্ সুন্নাহ,
(১৯) মুসনাদে আবূ ইয়ালী,(৪০) শিফা,
(২০) মুসনাদে আব্দুর রাজ্জাক,(৪১) হুলইয়া,
(২১) মুসনাদে আবূ বকর ইবনে আবী শায়বা,(৪২) তাহযীবুল আছার,
(৪৩) আল মুখাতারা ইত্যাদি কিতাবসমূহ হাদীছ শরীফের ছহীহ কিতাবের অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, প্রমাণিত হলো যে, ছিহাহ সিত্তাহর বাইরেও বহু ছহীহ হাদীছ শরীফ-এর কিতাব রয়েছে। তাছাড়া ছিহাহ সিত্তাহর সকল হাদীছ শরীফই ছহীহ নয় বরং তাতে দ্বয়ীফ এমনকি মওজূ হাদীছ শরীফও রয়েছে।

মূলকথা হলো- এমন কোন হাদীছ শরীফ-এর কিতাব নেই, যে কিতাবের সকল হাদীছ শরীফ ছহীহ বা বিশুদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে সকল মুহাদ্দিছগণ একমত হয়েছেন। বরং কোন একখানা হাদীছ শরীফকে কোন একজন ছহীহ বলেছেন, অন্য একজন সেটাকে দ্বয়ীফ বা হাসান বলেছেন। যেমন- ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা এমন বহু হাদীছ শরীফ ছহীহ নয় বলে ছেড়ে দিয়েছেন, অথচ সেগুলো হযরত ইমাম আবূ দাউদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম নাসায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম ইবনে মাজাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম দারু কুতনী রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রমুখ ইমাম উনারা ছহীহ বলে গ্রহণ করেন। (সায়িকাতুল মুসলিমীন)

আবার এমন অনেক হাদীছ শরীফ রয়েছে, যেগুলো হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইমাম মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি ছহীহ বলে গ্রহণ করেন। কিন্তু ছিহাহ সিত্তাহর অন্যান্য ইমাম উনারা সেগুলো ছহীহ নয় বলে পরিত্যাগ করেন।

আর তাই বিখ্যাত মুহাদ্দিছ হযরত মুল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত ইমাম সাখাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “আলফিয়া” কিতাবের হাশিয়ায় উল্লেখ করেন যে, “ছহীহ বুখারী শরীফ-এর ৮০ জন ও ছহীহ মুসলিম শরীফ-এর ১৬০ জন রাবীর বর্ণনাকৃত হাদীছ শরীফ দ্বয়ীফ বলে প্রমাণিত হয়েছে।” (নুযহাতুন্ নাজার)

হযরত ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “হযরত ইমাম দারু কুতনী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত আবূ আলী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত আবূ দাউদ দামেস্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা ছহীহ বুখারী শরীফ ও ছহীহ মুসলিম শরীফ-এর ২০০ হাদীছ শরীফকে দ্বয়ীফ বলে উল্লেখ করেন।” (মুক্বাদ্দিমায়ে শরহে মুসলিম)

হযরত ইমাম কুস্তলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “ছহীহ বুখারীতে এরূপ হাদীছ শরীফও রয়েছে, যা কারো মতে ছহীহ, আর কারো মতে দ্বয়ীফ।” (শরহে বুখারী)

কাশফুয যুনূন, মুক্বাদ্দিমায়ে ফাতহুল বারী ইত্যাদি কিতাবে ছহীহ বুখারী শরীফ-এর কিছু কিছু হাদীছ শরীফকে দ্বয়ীফ বলে প্রমাণ করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, ছহীহ বুখারী ও মুসলিম শরীফে ২০ জন মরজিয়া, ২৩ জন কদরিয়া, ২৮ জন শিয়া, ৪ জন রাফিজী, ৯ জন খারিজী, ৭ জন নাসিবী ও ১ জন জহমিয়া কর্তৃক হাদীছ শরীফ বর্ণিত হয়েছে। (সায়িকাতুল মুসলিমীন)

অতএব প্রমাণিত হলো যে, সকল ছহীহ হাদীছ শরীফ-এর কিতাবেই কারো কারো মতে কিছু সংখ্যক দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ রয়েছে। কাজেই, দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ মাত্রই পরিত্যাজ্য বা বাতিল নয়। কারণ কোন হাদীছ শরীফকে কেউ দ্বয়ীফ বলেছেন এবং অন্য আরেকজন সেটাকে ছহীহ বলেছেন। এ দ্বারা দু’টি বিষয় স্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হলো-

(১) ছিহাহ সিত্তাহই শুধু ছহীহ হাদীছ শরীফ-এর কিতাব নয় বরং ছিহাহ সিত্তাহর বাইরেও বহু ছহীহ হাদীছ শরীফ-এর কিতাব রয়েছে।

(২) ছিহাহ সিত্তাহর সকল হাদীছ শরীফ ছহীহ হওয়ার ব্যাপারে সকল মুহাদ্দিছীনে কিরাম একমত নন বরং কারো মতে ছিহাহ সিত্তাহসহ সকল ছহীহ হাদীছ শরীফের কিতাবেই দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ রয়েছে। কাজেই যারা বলে, ছিহাহ সিত্তাহ ব্যতীত অন্য কোন হাদীছ শরীফ-এর কিতাব ছহীহ বা নির্ভরযোগ্য নয়, তাদের এ কথা নিতান্তই অজ্ঞতার পরিচায়ক।

তবে একথা সত্য যে, তুলনামূলকভাবে অন্যান্য হাদীছ শরীফ-এর কিতাব হতে ছিহাহ সিত্তাহ’র মধ্যে এবং বিশেষ করে বুখারী শরীফ-এর মধ্যে ছহীহ হাদীছ শরীফ-এর সংখ্যা বেশি রয়েছে।

তাই বলে ছিহাহ সিত্তাহ বা বুখারী শরীফে শরীয়তের কোন বিষয় উল্লেখ না থাকলে যে তা পরিত্যাজ্য বা অশুদ্ধ হবে একথা আদৌ শুদ্ধ নয়। কারণ ছিহাহ সিত্তাহ’র মধ্যে শরীয়তের সকল বিষয়ের বর্ণনা নেই এবং না থাকাটাই স্বাভাবিক। কেননা ছিহাহ সিত্তাহর মধ্যে তাকরার বাদ দিয়ে সর্বমোট প্রায় দশ হাজার হাদীছ শরীফ রয়েছে। তবে কি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত প্রকাশের ২৩ বৎসর দুনিয়াবী যিন্দিগী মুবারকে মাত্র দশ হাজার কথা বলেছেন? কস্মিনকালেও নয়।

উল্লেখ্য, যারা সর্বদা ছিহাহ সিত্তাহর দোহাই দেয়, তারাই আবার এমন অনেক আমল করছে, যার বর্ণনা ছিহাহ সিত্তাহ এ নেই। এর বহু প্রমাণ রয়েছে। কেননা শরীয়তের সকল বিষয়ের ফায়সালা ছিহাহ সিত্তাহ’র মধ্যে নেই। যেমন তারাবীহ নামায ২০ রাকায়াতই পড়তে হবে এ বর্ণনা ছিহাহ সিত্তাহ’র মধ্যে নেই। এ বর্ণনা অন্য ছহীহ হাদীছ শরীফ-এর কিতাবে রয়েছে।

সুতরাং, ছিহাহ সিত্তাহ বা বুখারী শরীফ-এর ছহীহ হাদীছ শরীফ-এর যেরূপ হুকুম, অন্যান্য কিতাবের ছহীহ হাদীছ শরীফেরও তদ্রুপ হুকুম। কারণ কেউ প্রমাণ করতে সক্ষম হবেনা যে, শরীয়তের কোথাও কোন নির্দিষ্ট হাদীছ শরীফের কিতাবকে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে বরং আম বা সাধারণভাবে সকল হাদীছ শরীফকেই অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

বহু সংখ্যক আলিম বলেছেন, ছহীহ বুখারী শরীফ ও ছহীহ মুসলিম শরীফ-এর হাদীছ শরীফগুলি যে নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাদীছ শরীফ এর কোন দলীল নেই। মুসাল্লাম কিতাবের টীকা ৪১১ পৃষ্ঠায় বর্ণিত রয়েছে, আল্লামা বাহরুল উলূম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, হযরত ইবনু ছালাহ ও কতক আলিম যে বলেছেন, ছহীহ বুখারী শরীফ ও ছহীহ মুসলিম শরীফ-এর হাদীছ শরীফগুলি নিশ্চয়ই ছহীহ; কিন্তু ইহা ভ্রান্তিমূলক মত। কারণ ছহীহ বুখারী শরীফ ও ছহীহ মুসলিম শরীফ-এ বহু বিপরীত হাদীছ শরীফ রয়েছে। এ ছাড়া কদরিয়া, খারিজী, রাফিজী, মরজিয়া ইত্যাদি বাতিল ফিরক্বার লোকদের বর্ণিত বহু হাদীছ শরীফ বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ-এ আছে। তাহলে এ দু’ কিতাবের সমস্ত হাদীছ শরীফ কি করে ছহীহ বলে গণ্য হতে পারে?

মূলকথা হলো, ছিহাহ সিত্তাহর বর্ণিত হাদীছ শরীফগুলি উক্ত ইমাম উনাদের স্ব স্ব ক্বিয়াস মতেই ছহীহ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য, অধিকাংশ আলিম বলেছেন, বুখারী শরীফ সর্বোত্তম ছহীহ কিতাব। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক কিংবা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা কেউই বলেননি বা আদেশ করেননি যে, ছহীহ বুখারী সর্বাপেক্ষা ছহীহ কিতাব। বরং খইরুল কুরূনের অনেক পরে অর্থাৎ তিনশ হিজরীর পরে অধিকাংশ আলিমগণের ইজমা হয়েছে, বুখারী শরীফ সর্বোত্তম ছহীহ কিতাব। যদিও তার মধ্যে অনেক দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফ রয়েছে।

হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, কুরআন শরীফ-এর পরে হযরত ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুয়াত্তার তুল্য কোন ছহীহ কিতাব জগতে নেই। (জাফরুল আমানী)

হযরত ইমাম ইয়াহইয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, হযরত ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বর্ণিত হাদীছ শরীফ-এর তুল্য কোন ছহীহ হাদীছ শরীফ নেই। (ছহীহ তিরমিযী পৃষ্ঠা ২৩৮)

হযরত ইমাম নাসায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ছহীহ মুসলিম শরীফ-এর তুল্য কোন হাদীছ শরীফ-এর কিতাব নেই। ইমাম আবু আলী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আসমানের নীচে ছহীহ মুসলিম শরীফ-এর তুল্য কোন ছহীহ কিতাব নেই।

জনৈক মাগরিবি আলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ছহীহ মুসলিম শরীফ ছহীহ বুখারী শরীফ অপেক্ষা অধিক ছহীহ।

হযরত ইমাম দারু কুতনী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম আবু দাউদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম নাসায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও ইমাম আবু আলী রহমতুল্লাহি আলাইহি হাদীছ শরীফ বিশেষজ্ঞ উনারা ছহীহ বুখারী শরীফ-এর ৮০ জন রাবীকে এবং ছহীহ মুসলিম শরীফ-এর ১৬০ জন রাবীকে দ্বয়ীফ বলেছেন।

হযরত ইমাম দারু কুতনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিসহ আরো অনেকে ছহীহ বুখারী শরীফ-এর ৯৫টি এবং ছহীহ মুসলিম শরীফ-এর ১১৫টি হাদীছ শরীফ দ্বয়ীফ সাব্যস্ত করেছেন।

হাদীছ শরীফ বিশেষজ্ঞ আলিম উনারা ছহীহ আবু দাউদ, ছহীহ তিরমিযী ও ছহীহ নাসায়ী শরীফ-এর বহু হাদীছ শরীফকে দ্বয়ীফ বলেছেন।

হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা হযরত ইমাম আবু দাউদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও ইমাম নাসায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের বর্ণিত হাদীছ শরীফকে দ্বয়ীফ বলেছেন। পক্ষান্তরে উক্ত তিন ইমাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও ইমাম মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের বর্ণিত হাদীছ শরীফকে দ্বয়ীফ বলেছেন।

উপরের আলোচনা থেকে প্রতিভাত হলো যে, বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফসহ ছিহাহ সিত্তাহ’র সমস্ত হাদীছ শরীফই ছহীহ নয় বরং উক্ত প্রতিটি কিতাবে দ্বয়ীফ হাদীছ শরীফও রয়েছে। এছাড়া আরো প্রতিভাত হয়েছে যে, কেবল ছিহাহ সিত্তাহই হাদীছ শরীফ-এর ছহীহ কিতাব নয়। ছিহাহ সিত্তাহ ব্যতীত আরো ৫০টিরও বেশি ছহীহ কিতাব রয়েছে।

মূল কথা হলো, আমাদেরকে হাদীছ শরীফ মানতে হবে বা পালন করতে হবে। আমাদের জন্য তা ফরয ওয়াজিব। তা যেখানেই থাকুক না কেন। শুধু ছিহাহ সিত্তাহর মধ্যে থাকলে মানতে হবে; অন্য কোন কিতাবে থাকলে মানা যাবে না এটা সুস্পষ্ট গোমরাহী ব্যতীত কিছু নয়।

Views All Time
2
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

  1. অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট। প্রিয়তে রাখলাম। Rose

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে