‘নির্দিষ্ট স্থানে কুরবানী’ করার কথা বলা চরম পর্যায়ের জুলুম; যা পবিত্র কুরবানী উনাকে অবমাননা করার শামিল


সরকার বিগত কয়েক বছর থেকে পবিত্র ঈদুল আজহায় মুসলমানদেরকে স্বাধীনভাবে ও সুবিধাজনক স্থানে পশু জবাই করতে বাধা দিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে কুরবানী করতে বাধ্য করার চেষ্টা করছে। নাউযুবিল্লাহ! যুক্তি হিসেবে তারা ময়লা-আবর্জনা ও যানজটের কথা উল্লেখ করে। এমন অযৌক্তিক চিন্তাধারার ফলে কি হবে?
১. আবহমানকাল থেকে মুসলমানদের ঘরে ঘরে পবিত্র কুরবানীর পশু জবাই হয়ে আসা কোনো দেশ কিংবা সমাজ বা পরিবেশের ক্ষতির কথা কোনো সুস্থ বিবেকবান মানুষ ভাবেনি, বরং অনেকে পবিত্র কুরবানীর তাজা রক্ত হাতে কিংবা রোগে আক্রান্ত স্থানে রোগ আরোগের জন্য ব্যবহার করে আসছেন। যা নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় পবিত্র কুরবানী করা ব্যতীত নারী-পুরুষের অনেকের জন্যই ব্যবহার করা দুষ্কর হবে।
২. পবিত্র হাদীছ শরীফে নিজ নিজ হাতে নিজ পশু জবাই করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। সম্ভব না হলে কুরবানীর স্থলে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করতে বলা হয়েছে। যা মাঠে-ময়দানে করলে পর্দানশীন নারীসহ মাযুর বা দুর্বলদের জন্য সম্ভব হবে না। নাউযুবিল্লাহ!
৩. এভাবে মাঠে পবিত্র কুরবানী করলে প্রচলন হয়ে গেলে কুরবানীর জবাইকৃত গোশত বিতরণ ও খরচ বেড়ে যাবে। অনেক মানুষ গোশত চামড়া ইত্যাদি বহন করার মত প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকার অজুহাতে পবিত্র কুরবানী করা থেকেই বিরত থাকবেন। ফলে দেশে পবিত্র কুরবানীর হার কমে যাবে। নাউযুবিল্লাহ!
৫. একজন মুসলমান ওয়াজিব পবিত্র কুরবানীর সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবেন। ওয়াজিব তরককারী হিসেবে গুনাহগার সাব্যস্ত হবেন। নাউযুবিল্লাহ!
৬. বিভিন্ন টাউট বাটপার সন্ত্রাসীদের হাতে নিজ চামড়া ও পবিত্র কুরবানীর গোশত চলে যাবে। ফলে দেশের দরিদ্র মানুষ, ইয়াতীমখানা, প্রকৃত প্রাপকরা তাদের হক থেকে বঞ্চিত হবেন।
৭. পবিত্র কুরবানীর বর্জ্য পরিষ্কারে সিটি করপোরেশন জনবল বৃদ্ধির উদ্যোগ না নিয়ে নির্ধারিত স্থানে পবিত্র কুরবানীর দেয়ার নির্দেশ জারি করা হলে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। এতে পবিত্র কুরবানীর গোশত গরিব-মিসকিনের মাঝে সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা সম্ভব হবে না।
৮. এখন যেরকম পবিত্র কুরবানীর হাটের বাজার নিয়ে দলাদলী, চাঁদাবাজি ও অপ্রীতিকর ঘটনা সংগঠিত হয় তেমনি পবিত্র কুরবানীর জায়গা নিয়েও হবে। এতে করে মানুষের গোশত বণ্টনসহ নানাবিধ সমস্যায় পড়তে হবে। গরুর চামড়াগুলো গরিবদের হাতে যাওয়ার পরীবর্তে সন্ত্রাসীদের হাতে চলে যাবে। তাতে দেখা যাবে এত ঝামেলার কারণে মানুষ পবিত্র কুরবানী দিতে বিরক্তি বোধ করবেন এবং মুসলমান উনাদের সম্মানিত পিতা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ও হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনাদের স্মৃতি বিজড়িত পবিত্র কুরবানী যার উপর ওয়াজিব হয়েছে তা পালনে অনাগ্রহ সৃষ্টি হবে। নাউযুবিল্লাহ!
৯. কুরবানীর পশু নিজ হাতে জবাই করা খাছ সুন্নত। কেউ না পারলে সামনে থেকে অন্য কাউকে দিয়ে জবেহ করাবেন এটা সম্মানিত ইসলাম উনার নিয়ম। এর ফলে মানুষ পবিত্র সুন্নত থেকে বঞ্চিত হবেন। নাউযুবিল্লাহ!
১০. প্রত্যেক ঈমানদার সামর্থ্যবান ব্যক্তি নিজস্ব বাড়ির আঙ্গিনায় পবিত্র কুরবানীর পশু জবেহ করে নিজের পছন্দ মতো গোশত বিতরণ করে থাকেন। উনারা পবিত্র কুরবানীর পশুর চামড়া ইয়াতীম খানায় দান এবং চামড়া বিক্রির একাংশের টাকা গরিবদের মাঝে বিতরণ করে আসছেন। লক্ষ লক্ষ পবিত্র কুরবানীর পশু নির্ধারিত স্থানে জবেহ করতে জড়ো করা হলে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিবে।
১১. দীর্ঘ ১৪০০ বছর যাবত এদেশের মুসলমান উনারা ইসলামী শরীয়ত উনার নিয়ম-নীতি মেনেই ঘরে ঘরে পবিত্র কুরবানীর পশু জবেহ করে গোশত গরিব-মিসকিন ও আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে বিলি বন্টন করে আসছে। পরিবেশ দূষণের নামে পবিত্র কুরবানী একই স্থানে জবেহ করার নিদের্শ জারি হওয়ায় পবিত্র কুরবানী উনার নিয়ম-নীতির ব্যাঘাত হবে। নাউযুবিল্লাহ!
১২. বর্জ্য পরিষ্কারে সিটি করপোরেশন জনবল বৃদ্ধির উদ্যোগ না নিয়ে নির্ধারিত স্থানে পবিত্র কুরবানীর দেয়ার নির্দেশে মানুষের কষ্ট বাড়বে। কারণ ঢাকাসহ দেশের পৌরসভাগুলোয় পর্যাপ্ত উন্মুক্ত জায়গা নেই। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে পবিত্র কুরবানি নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং সম্মানিত ইসলাম উনার খিলাপ। সরকারকে অবিলম্বে এমন হটকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতেই হবে।

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে