‘নির্যাতিত’ সেজে অভিনয় করাটা সংখ্যালঘু বিধর্মীদের প্রধান অস্ত্র


এদেশের অধিকাংশ আইনজীবীদের মতে, ‘নারী নির্যাতন আইন’ নামে যে আইনটি রয়েছে এদেশে, তার ব্যবহারের চেয়ে অপব্যবহার বেশি। যেহেতু এই আইনটিতে সাক্ষী কিংবা প্রমাণের তোয়াক্কা না করেই কেবল কথিত ‘ভিকটিমে’র দাবির উপর ভিত্তি করে রায় দেয়া হয়, সেহেতু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিরুদ্ধপক্ষের পুরুষটিকে ফাঁসাতে এই আইনটি ব্যবহার করে থাকে সংশ্লিষ্ট মহিলাটি। মামলার বাদী উক্ত মহিলাটিকে জজের সামনে ‘নির্যাতিত’ হবার অভিনয় করতে হয় মাত্র, তাতেই আসামি পুরুষটির জেলের ভাত নিশ্চিত হয়ে যায়।

মিছেমিছি ‘নির্যাতিত’ সেজে এভাবে অন্যকে বেকায়দায় ফেলার প্রক্রিয়াকে ইংরেজিতে বলা হয় ‘ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল’। আর দশজনের ‘ইমোশন’ বা সহানুভূতিকে নিজের পক্ষে টেনে এনে, প্রতিপক্ষকে একঘরে করার কৌশল এটি। মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের প্রধানতম শত্রু ইহুদী এবং মুশরিকদের প্রধানতম অস্ত্রই হলো এই ‘ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল’।

ইসরাইলী ইহুদীরা ফিলিস্তিনিদের উপর তাদের আগ্রাসনের পেছনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে তাদের উপর কথিত ‘নির্যাতনে’র দোহাই দেয়। তাদের বক্তব্য হলো, ইউরোপ থেকে ইহুদীদের বিতাড়িত করা হয়েছে বিধায় তাদের ‘অধিকার’ রয়েছে ফিলিস্তিনিদেরকে তাদের হাজার বছরের পৈতৃক ভূখ- থেকে উচ্ছেদ করে পরগাছা ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার।

এই বক্তব্য যুক্তির বিচারে কোনোভাবেই গ্রাহ্য করা যায় না। কিন্তু মিডিয়ার জোর তথা গলার জোর যার বেশি, তার দাবি-দাওয়াই বেশি প্রতিধ্বনিত হয়। মুসলমানদের পক্ষে বলার জন্য যদি একটি মিডিয়া থাকে, সেক্ষেত্রে ইহুদীদের অন্যায় দাবি আদায়ের জন্য মিডিয়া আছে দশটি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ইহুদীদের প্রচারের জোরে মুসলমানদের কণ্ঠ চাপা পড়ে যায়।

ঠিক একই কাজ করছে আমাদের দেশের হিন্দু নিয়ন্ত্রিত (তথা ‘র’ নিয়ন্ত্রিত) মিডিয়াগুলো। ‘সংখ্যালঘু নির্যাতনে’র একতরফা মিথ্যা অপপ্রচারের মাধ্যমে মুসলমানদেরকে এমনভাবে কোণঠাসা করে দেয়া মুসলমানরাই তখন বৈষম্য ও জুলুমের শিকার হয় এবং প্রতারিত হয়।
এই ‘সংখ্যালঘু নির্যাতনে’র ধুয়া তুলে সব মূর্তিপূজকরাই ফায়দা লোটে। তারা সরকারকে বাধ্য করে, তাদের টিনের ছাউনি দেয়া ভাঙাচোরা মন্দিরগুলোকে রাজকীয় অট্টালিকার মতো করে বানিয়ে দিতে।

মিডিয়ার নিয়ন্ত্রণ হাতে আছে বলেই কিন্তু হিন্দু আর ইহুদীরা পারছে এই ‘ভিকটিম’ ‘ভিকটিম’ খেলা খেলে মুসলমানদেরকে কোণঠাসা করতে, মুসলিম নির্যাতনের নিত্যনতুন ইস্যু সৃষ্টি করতে। অর্থাৎ মুসলমানদেরকে অবশ্যই তাদের নিজস্ব মিডিয়াকে শক্তিশালী করতে হবে, এ ব্যতীত তারা নিজেদেরকে ‘ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলে’র শিকার হওয়া থেকে, একঘরে হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে পারবে না। আর মুসলমানদের নিজেদের মিডিয়া বলতে রয়েছে একমাত্র দৈনিক ‘আল ইহসান শরীফ’ ও মাসিক ‘আল বাইয়্যিনাত শরীফ’। উনাদের আর্থিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক খিদমতের মাধ্যমেই মুসলমানদের পক্ষে সম্ভব খ্রিস্টান-চৌদ্ধ, মজুসী-মুশরিক, ইহুদী-হিন্দুদের এ সমস্ত প্রকার কুটচক্র থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে