নূরে মুজাসসাম, হাবীবল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে কয়েকটি কুফরী আক্বিদার খন্ডনমূলক জবাব


নূরে মুজাসসাম, হাবীবল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মাটির তৈরি বলা কুফরী:
“কুরআন শরীফ-এর যে সকল আয়াত শরীফ-এ বলা হয়েছে মানুষ মাটির তৈরী সে সকল আয়াত শরীফ-এর আলোচ্য বা লক্ষ হলেন “হযরত আদম আলাইহিস সালাম।” কেননা শুধুমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকেই মহান আল্লাহ পাক তিনি সরাসরি মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।
যেমন, কুরআন শরীফ-এ্র মহান আল্লাহ্ পাক তিনি ইরশাদ করেন-
فَاِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِّنْ تُرَابٍ ثُـمَّ مِنْ نُّطْفَةٍ ثُـمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُـمَّ مِنْ مُّضْغَةٍ مُّـخَلَّقَةٍ وَغَيْرِ مُـخَلَّقَةٍ لِّنُبَيِّنَ لَكُمْ ۚ
অর্থ: “(হে লোক সকল! যদি তোমরা পুনরুত্থানের ব্যাপারে সন্দীহান হও, তবে (ভেবে দেখ) আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি। এরপর নুৎফা থেকে, এরপর জমাট রক্ত থেকে এরপর পূর্ণাকৃতি বিশিষ্ট ও অপূর্ণাকৃতি বিশিষ্ট গোস্ত পিন্ড থেকে। তোমাদের কাছে ব্যক্ত করার জন্যে।” (সূরায়ে হজ্জ: আয়াত শরীফ ৫)
উপরোক্ত আয়াত শরীফ-এ বর্ণিত خلقناكم শব্দ দ্বারা মুলত শুধুমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকেই বুঝানো হয়েছে। যেমন, এ প্রসঙ্গে ফক্বীহুল আছর, প্রখ্যাত মুফাস্সির আল্লামা আবুল লাইছ সামারকান্দী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ “তাফসীরে সামারকান্দী” কিতাব-এর ২য় খ-ের , ৩৮০ পৃষ্ঠায় লিখেন-
(فانا خلقناكم …) اى خلقنا اباكم الذى هو اصل البشر يعنى حضرت ادم عليه السلام (من تراب)
অর্থ: “(আর নিঃসন্দেহে আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি) অর্থাৎ তোমাদের পিতা যিনি মানবজাতীর মূল অর্থাৎ “হযরত আদম আলাইহিস সালাম” উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি।
ইমামুল মুফাস্সিরীন, আল্লামা ইমাম কুরতুবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিখ্যাত ও নির্ভরযোগ্য তাফসীর গ্রন্থ “তাফসীরে কুরতুবী”- কিতাব-এর ৬ষ্ঠ খ-ের ৬ পৃষ্ঠায় লিখেন-
(فانا خلقناكم من تراب) يعنى حضرت ادم عليه السلام من تراب.
অর্থ: “(নিঃসন্দেহে আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি) অর্থাৎ আমি “হযরত আদম আলাইহিস সালাম” উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি।”
কুরআন শরীফ-এ্রর সূরা রুম-এর ২০নং আয়াত শরীফ-এ্র মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন-
اَنْ خَلَقَكُم مِّن تُرَابٍ ثُـمَّ اِذَا اَنْتُمْ بَشَرٌ تَنتَشِرُوْنَ.
অর্থ: “উনার নিদর্শনাবলীর মধ্যে এক নিদর্শন এই যে, তিনি মাটি থেকে তোমাদের সৃষ্টি করেছেন। এখন তোমরা মানুষ পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে।”
উপরোক্ত আয়াত শরীফ-এ বর্ণিত خلقكم শব্দ দ্বারা মুলত হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকেই বুঝানো হয়েছে,
যেমন, এ প্রসঙ্গে আল্লামা আবুল লাইছ সমরকান্দী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে সামারকান্দী” কিতাব- এর ৩য় খ-ের, ৯ পৃষ্ঠায় লিখেন,
(ان خلقكم من تراب …) يعنى خلق حضرت ادم عليه السلام من تراب وانتم ولده (ثم اذا انتم) ذريته من بعده (بشر تنتشرون) يعنى تبسطون.
অর্থ: “(তিনি মাটি থেকে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন) অর্থাৎ “হযরত আদম আলাইহিস সালাম” উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। আর তোমরা হলে উনার সন্তান উনার পরে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছো।”
কুরআন শরীফ-এ্রর সূরা ফাতির-এর ১১নং আয়াত শরীফ-এ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন-
وَاللهُ خَلَقَكُم مِّنْ تُرَابٍ ثُـمَّ مِنْ نُّطْفَةٍ ثُـمَّ جَعَلَكُمْ اَزْوَاجًا ۚ
অর্থ: “মহান আল্লাহ্ পাক তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, অতঃপর নুৎফা থেকে, তারপর করেছেন তোমাদেরকে যুগল।”
উপরোক্ত আয়াত শরীফ-এ বর্ণিত خلقكم শব্দ দ্বারা মুলত হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকেই বুঝানো হয়েছে,
যেমন, এ প্রসঙ্গে আল্লামা ছাহেবে খাযেন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “তাফসীরে খাযেন” কিতাব-এর ৩য় খ-, ৪৯৬ পৃষ্ঠায় লিখেন-
والله خلقكم من تراب يعنى حضرت ادم عليه السلام.
অর্থ: “(মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন) অর্থ “হযরত আদম আলাইহিস সালাম” উনাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।
উপরোক্ত বিশ্ববিখ্যাত “তাফসীর গ্রন্থ” সমূহের দলীলভিত্তিক আলোচনা দ্বারা এটাই প্রমাণিত হলো যে, “কুরআন শরীফ-এর যে সকল আয়াত শরীফ-এ বলা হয়েছে মানুষ মাটির তৈরী সে সকল আয়াত শরীফ-এর আলোচ্য বা লক্ষ্য হলেন, “হযরত আদম আলাইহিস সালাম।” কারণ শুধুমাত্র হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকেই মহান আল্লাহ পাক সরাসরি মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। সাথে সাথে এটাও প্রমাণিত হলো যে, হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি ব্যতীত অন্য কেউ সরাসরি মাটি থেকে তৈরী নন, বরং মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরতে তৈরী।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাযির-নাযির শান মুবারক অস্বীকার করা কুফরী:
কুল-কায়িনাতের নবী ও রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বত্র হাযির ও নাযির। বুখারী ও মুসলিম শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন-
انما انا قاسم والله يعطى
অর্থ: “আল্লাহ পাক তিনি হাদিয়া করেন আর নিশ্চয়ই আমি হলাম (উক্ত হাদিয়া) বণ্টনকারী।”
অর্থাৎ আল্লাহ পাক উনার সর্বপ্রকার নিয়ামত উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাদিয়া করেছেন আর হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কুল-মাখলূক্বাতের যাকে যতটুকু নিয়ামত ইচ্ছা তাকে ততটুকু বণ্টন করে দিয়ে থাকেন। সুবহানাল্লাহ!
এখন যিনি কুল-মাখলূক্বাতের জন্য নিয়ামতের বণ্টনকারী তিনি যদি কুল-মাখলূক্বাতের কাছে হাযির বা উপস্থিত না থাকেন এবং তাদেরকে নাযির বা দেখে না থাকেন তাহলে তিনি তাদের মাঝে কিভাবে নিয়ামত বণ্টন করবেন? কাজেই, কায়িনাতের সমস্ত সৃষ্টির জন্য তিনি যেহেতু নিয়ামতের বণ্টনকারী সেহেতু বলার অপেক্ষা রাখে না তিনি সবখানেই হাযির ও নাযির।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কায়িনাতের সমস্ত স্থানে হাযির বা উপস্থিত ও সবকিছু নাযির বা প্রত্যক্ষকারী। এ প্রসঙ্গে হযরত ইমাম তবারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত নঈম ইবনে উমর রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে একখানা হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন-
ان الله قد رفع لى الدنيا فانا انظر اليها والى ما هو كائن فيها الى يوم القيامة كانما انظر الى كفى هذه.
অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক তিনি এই পৃথিবীকে আমার চোখের সামনে এরূপভাবে রেখেছেন যে, আমি এ সমগ্র পৃথিবীকে এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত তার মধ্যে যা কিছু সৃজিত বা সংঘটিত হবে তদসমূহকে ওইরূপভাবে দেখি যেরূপ আমার হাত মুবারক-এর তালু মুবারককে দেখে থাকি। সুবহানাল্লাহ! (তবারানী, মিশকাত)
উল্লেখ্য, আল্লাহ পাক তিনি জিসিম ও ছূরত এ দুটির কোনো একটি হিসেবে হাযির ও নাযির নন। বরং তিনি ছিফত-অর্থাৎ ইলম ও কুদরতের দ্বারা এবং ছিফত- মিছালী ছূরত মুবারক হিসেবে কায়িনাতের সমস্ত স্থানে হাযির ও নাযির।
আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছিফত-ইলম ও মু’জিযা দ্বারা এবং ছিফত- নূর ও রহমত হিসেবে কায়িনাতের সমস্ত স্থানে হাযির ও নাযির। আর উনার যেহেতু জিসিম ও ছূরত মুবারক রয়েছে সেহেতু তিনি যে জিসিম মুবারক-এ রওযা শরীফ-এ অবস্থান করছেন উনার ইখতিয়ার ও ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তিনি সেই জিসিম মুবারক নিয়ে কোথাও হাযির হবেন না। আহলে সুন্নত ওয়াল জামা‘আতের মুজতাহিদ ইমামগণ উনারা এ বিষয়ে একমত যে, তিনি ওই জিসিম মুবারক নিয়ে রওযা শরীফ থেকে উঠলে ক্বিয়ামত হয়ে যাবে। তাই তিনি উক্ত জিসিম মুবারক-এর অনুরূপ জিসিম ও ছূরত মুবারক ধারণ করে এবং মিছালী ছূরত মুবারক-এ কায়িনাতের সমস্ত স্থানে হাযির ও নাযির থাকেন, যে কারণে উনার আশিকগণ উনাকে স্বপ্নে, মুরাক্বাবা-মুশাহাদার হালতে এমনকি জাগ্রত অবস্থার মধ্যেও দেখে থাকেন এবং কথোপকথনও করে থাকেন। সুবহানাল্লাহ!
প্রতিভাত হলো, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কায়িনাতের সমস্ত স্থানে হাযির ও নাযির।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইলমে গইব শান মুবারক অস্বীকার করা কুফরী:

আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা উনার শানে কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-
وَهُوَ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيْمٌ
অর্থ: “তিনি সবকিছু সম্বন্ধে জ্ঞাত।” (সূরা হাদীদ, আয়াত শরীফ-৩)
এ আয়াত শরীফ-এর পরিপূর্ণ মিছদাক্ব আল্লাহ পাক উনার যিনি হাবীব যিনি কুল মাখলূক্বাতের নবী ও রসূল, সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা উনার মুবারক জাত ও ছিফাত এবং সমস্ত যাহির ও বাতিনের ইলম এবং মাখলূক্বের আউয়াল ও আখিরের সব ইলম উনার কাছেই জমা করা হয়েছে। এ মর্মে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন-
اعطيت بحوامع الكلم
অর্থাৎ- “আমাকে সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত ইলম হাদিয়া করা হয়েছে।” (মুসলিম শরীফ)
হাদীছ শরীফ-এ আরো বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন-
انما انا قاسم والله يعطى
অর্থ: “আল্লাহ পাক তিনি হাদিয়া করেন আর নিশ্চয়ই আমি হলাম (উক্ত হাদিয়া) বণ্টনকারী।” (বুখারী ও মুসলিম শরীফ)
অর্থাৎ আল্লাহ পাক উনার সর্বপ্রকার নিয়ামত উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাদিয়া করেছেন। আর হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কুল মাখলূক্বাতের যাকে যতটুকু বা যে পরিমাণ ইচ্ছা তাকে সে পরিমাণ বণ্টন করে দিয়ে থাকেন।
এখন যিনি কুল-মাখলূক্বাতের জন্য বণ্টনকারী তিনি মূলত সৃষ্টির শুরু হতে সৃষ্টির শেষ পর্যন্ত বণ্টনকারী। আর বণ্টনকারী যাদের মাঝে বণ্টন করবেন তাদেরকে অবশ্যই চিনেন ও জানেন। অন্যথায় না চিনলে ও না জানলে কাকে কতটুকু বা কি পরিমাণ দিবেন? কাজেই বলার অপেক্ষা রাখেনা, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইলমে বাতিন বা ইলমে গইবসহ সমস্ত ইলমের অধিকারী।
উল্লেখ্য, লওহে মাহফূয সম্পর্কে বলা হয়, সৃষ্টির শুরু হতে যা কিছু হয়েছে, হচ্ছে ও হবে সবকিছু সেখানে লিপিবদ্ধ রয়েছে। এখানে বলতে হয়, লওহে মাহফূয সৃষ্টি হয়েছে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ওজুদ পাক নূর মুবারক-এর অংশ হতে। আর লওহে মাহফূয যেহেতু সৃষ্টিরাজির মধ্যে একটি সৃষ্টি সেহেতু তারমধ্যে সংরক্ষিত নিয়ামত তথা ইলমেরও বণ্টনকারী হলেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
অর্থাৎ আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা উনার ইলমের একটা অংশ রাখা হয়েছে লওহে মাহফূযে যেই ইলম মাখলূক্বাত সম্পর্কিত এবং মাখলূক্বাতের জন্য বণ্টিত। আর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেহেতু মাখলুক্বাতের সর্বপ্রকার নিয়ামতের বণ্টনকারী সেহেতু তিনি মাখলুক্বাতের অবস্থা সম্পর্কিত ও তাদের জন্য বণ্টিত লওহে মাহফূযে সংরক্ষিত সমস্ত ইলমেরও অধিকারী।
মূলকথা হলো, লওহে মাহফূযে সংরক্ষিত ইলম যেরূপ আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা উনার ইলমের একটা অংশ একইভাবে সে ইলম নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারও ইলমের অংশ বিশেষ। সুবহানাল্লাহ!
মনে রাখতে হবে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পরিপূর্ণরূপে গইবের ইলম বণ্টনকারী। উনার মধ্যেমেই বান্দা ও উম্মত গইবের ইলম জেনেছে, বুঝেছে ও লাভ করেছে। সুবহানাল্লাহ! কালামুল্লাহ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-
عَالِـمُ الْغَيْبِ فَلَا يُظْهِرُ عَلٰى غَيْبِهِ اَحَدًا. اِلَّا مَنِ ارْتَضٰى مِن رَّسُوْلٍ
অর্থ: “আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা তিনি আলিমুল গইব। তিনি উনার গইবের ইলম উনার মনোনীত রসূল আলাইহিমুস সালাম ব্যতীত কারো নিকট প্রকাশ করেন না।” (সূরা জিন : আয়াত শরীফ-২৬, ২৭)
প্রতিভাত হলো, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই ইলমে গইবের অধিকারী। আর উনারা এই নিয়ামতের অধিকারী হয়েছেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক বণ্টনের ওসীলায়।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে