নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীরা চির জাহান্নামী ও চির মাল‘ঊন


মুজাদ্দিদে আ’যম সম্মানিত রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যারা বলবে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনারা ঈমানদার ছিলেন না, না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! উনারা সম্মানিত ঈমান ব্যতীত সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন, না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! উনারা জান্নাতী নন। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! সম্মানিত শরীয়ত মুবারক উনার ফতওয়া অনুযায়ী তারা সবচেয়ে বড় কাট্টা কাফির, চির জাহান্নামী, চির মাল‘ঊন। তারা যদি মুসলমান বা ঈমানদার দাবি করে, তাহলে তাদের উপর মুরতাদের হুকুম বর্তাবে এবং মুরতাদের শাস্তিও বর্তাবে এবং তাদের প্রাপ্য হলো চির লা’নত ও চির জাহান্নাম। আর যদি কাফির হয়, তাহলে তারা তাদের কুফরীকে আরো বৃদ্ধি করলো। এবং তাদের শাস্তিও মৃত্যুদ-। তাদেরও প্রাপ্য হলো চির লা’নত ও চির জাহান্নাম। তারা ইবলীসের ন্যায়; বরং ইবলীসের চেয়েও চরম মাল‘ঊন। তাদের প্রত্যেককেই লা’নাতুল্লাহি আলাইহি বলা ফরয, ফরয এবং ফরয।”
এই প্রসঙ্গে দশম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আল হাওই শরীফ উনার ২য় খ-ের ৮১ পৃষ্ঠায় এবং মাসালিকুল হুনাফা উনার ৩৬ পৃষ্ঠায়, ইমাম মুহম্মদ ইবনে ইউসূফ ছালিহী শামী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ : ৯৪২ হিজরী শরীফ) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ শরীফ উনার ১ম খ-ের ২৬০ পৃষ্ঠায়, ইমাম আহমদ ইবনে মুহম্মদ হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ : ১০৯৮ হিজরী শরীফ) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘গমযু উয়ূনিল বাছায়ির ফী শরহিল আশবাহি ওয়ান নাযায়ির উনার ৫ম খ-ের ৪৯২ পৃষ্ঠায়, হযরত ইমাম ইবনে আবিদীন হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ : ১২৫২ হিজরী শরীফ) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আল উকুদুদ দুররিয়্যাহ উনার ৭ম খ- ৪২২ পৃষ্ঠায়’ উল্লেখ করেছেন-

سُئِلَ حَضْرَتْ اَلْقَاضِىْ اَبُوْ بَكْرِ بْنُ الْعَرَبِـىِّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَحَدُ اَئِمَّةِ الْمَالِكِيَّةِ عَنْ رَجُلٍ قَالَ اِنَّ اَبَا النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِى النَّارِ فَاَجَابَ بِاَنَّ مَنْ قَالَ ذٰلِكَ فَهُوَ مَلْعُوْنٌ لِقَوْلِهٖ تَعَالـٰى{اِنَّ الَّذِيْنَ يُؤْذُوْنَ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ لَعَنَهُمُ اللهُ فِى الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِ} قَالَ وَلَا اَذًى اَعْظَمُ مِنْ اَنْ يُّقَالَ عَنْ اَبِيْهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّهٗ فِى النَّارِ.

অর্থ: ‘হযরত ক্বাযী আবূ বকর ইবনুল আরবী তিনি ছিলেন মালিকী মাযহাব উনার একজন বিশ্বখ্যাত ইমাম। উনার নিকট এমন একজন ব্যক্তির সম্পর্কে ফতওয়া জানতে চাওয়া হয়েছিলো, যে বলে থাকে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনি জাহান্নামী। না’ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! তিনি ফতওয়া মুবারক দিয়েছিলেন, যে ব্যক্তি এই কথা বলবে, নিশ্চয়ই সে মাল‘ঊন, তার উপর মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত। (তারপর তিনি উনার ফতওয়ার পক্ষে দলীল মুবারক পেশ করেন,) কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘নিশ্চয়ই যারা মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে কষ্ট দেয় তাদের উপর স্বয়ং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি দুনিয়া এবং আখিরাতে তথা আবাদুল আবাদের তরে লা’নত বর্ষণ করেছেন।’ (সম্মানিত সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ ৫৭)
অতঃপর তিনি বলেন, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনাকে জাহান্নামী’ বলাই হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে সবচেয়ে বড় কষ্ট দেয়া। উনাদের জন্য এর চেয়ে আর কোনো বড় কষ্ট হতে পারে না।”
সুতরাং যারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদেরকে জাহান্নামী বলবে, না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! তারা চরম মাল‘ঊন। তাদের উপর অনন্তকালের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত। তাদের প্রত্যেককেই লা’নাতুল্লাহি আলাইহি বলা ফরয, ফরয এবং ফরয।
হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-

قَالَ حَضْرَتْ اَلْاِمَامُ مُوَفَّقُ الـدِّيْنِ بْنُ قُدَامَةَ الْـحَنْبَلِىُّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فِى الْمُقْنِعِ وَمَنْ قَذَفَ اُمَّ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُتِلَ مُسْلِمًا كَانَ اَوْ كَافِرًا

অর্থ: “হযরত ইমাম মুওয়াফ্ফাকুদ্দীন ইবনে কুদামাহ হাম্বলী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘মুক্বনি’ গ্রন্থে’ বলেন, যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার (এবং মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনাদের) শান মুবারক-এ অপবাদ দিবে, উনার (্উনাদের) প্রতি দোষারোপ করবে, উনার (উনাদের) দুর্নাম করবে (উনারা ঈমানদার ছিলেন না, উনারা ঈমান ব্যতীত সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন, উনারা জাহান্নামী না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ!)
সে নামধারী মুসলমান হোক অথবা কাফির হোক তাকে কতল করতে হবে। অর্থাৎ তাকে কতল করা ফরয-ওয়াজিব।” (মাসালিকুল হুনাফা ৩৭ পৃ., হাওই ২৮১, ইনসাফ ১০/১৬৮, আল মুবদি’ শরহুল মুক্বনি’ ৯/৮৭, আল মুহাররার ফিল ফিক্বহ ২/৯৭, শরহুয জারকাশী ৩/৮৬ ইত্যাদি )
সম্মানিত হানাফী মাযহাব উনার বিশ্বখ্যাত ফক্বীহ ও ইমাম হযরত ইবনে আবিদীন হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ : ১২৫২ হিজরী শরীফ) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘রদ্দুল মুহতার ‘আলাদ দুররিল মুখতার উনার ৪র্থ খ-ের ২৩৩ পৃষ্ঠায়’ উল্লেখ করেন-

قَالَ حَضْرَتْ اَبُو الْـخَطَّابِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اِذَا قَذَفَ اُمَّ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تُقْبَلُ تَوْبَتُهٗ

অর্থ: “হযরত ইমাম আবুল খত্তাব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, যখন কেউ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার (এবং মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনাদের) শান মুবারক-এ অপবাদ দিবে, উনার (উনাদের) প্রতি দোষারোপ করবে, উনার (উনাদের) দুর্নাম করবে (উনারা ঈমানদার ছিলেন না, উনারা ঈমান ব্যতীত সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন, উনারা জাহান্নামী না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ!), তার তওবা কবূল হবে না। (অবশ্যই সে চিরজাহান্নামী হবে)।” না‘ঊযুবিল্লাহ!
ইমাম আবূ মুহম্মদ মুওয়াফ্ফাকুদ্দীন আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে মুহম্মদ হাম্বলী মুক্বাদ্দাসী রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি ইবনে কুদামাহ হিসেবে প্রসিদ্ধ (বিছাল শরীফ : ৬২০ হিজরী শরীফ) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আল মুগনী ফী ফিক্বহিল ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল শায়বানী উনার ২০তম খ-ের ১৬৯ পৃষ্ঠায়’ উল্লেখ করেন-

مَنْ قَذَفَ اُمَّ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُتِلَ مُسْلِمًا كَانَ اَوْ كَافِرًا يَعْنِىْ اَنَّ حَدَّهُ الْقَتْلُ وَلَا تُقْبَلُ تَوْبَتُهٗ نَصَّ عَلَيْهِ حَضْرَتْ اَحْمَدُ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ

অর্থ: “যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার (এবং মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনাদের) শান মুবারক-এ অপবাদ দিবে, উনার (উনাদের) প্রতি দোষারোপ করবে, উনার (উনাদের) দুর্নাম করবে (উনারা ঈমানদার ছিলেন না, নাউযুবিল্লাহ! উনারা ঈমান ব্যতীত সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন, নাউযুবিল্লাহ! উনারা জাহান্নামী না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ!)
সে নামধারী মুসলমান হোক অথবা কাফির হোক তাকে কতল করতে হবে। অর্থাৎ নিশ্চয়ই তার হদ হচ্ছে কতল। তাকে কতল করতে হবে, মৃত্যুদ- দিতে হবে। তার তওবা কবূল হবে না। (অবশ্যই সে চির জাহান্নামী, চির মাল‘ঊন হবে)। আর এই সম্মানিত ফতওয়া মুবারক উনার উপর সম্মানিত হাম্বলী মাযহাব উনার সম্মানিত ইমাম তৃতীয় হিজরী শতক উনার মুজাদ্দিদ হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নছ তথা সম্মানিত কুরআন শরীফ উনার সম্মানিত আয়াত শরীফ উনার দ্বারা দলীল পেশ করেছেন।”
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-

حَضْرَتْ نَوْفَلُ بْنُ الْفُرَاتِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَكَانَ عَامِلًا لِعُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيْزِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ كَانَ رَجُلٌ مِّنْ كُتَّابِ الشَّامِ مَأْمُوْنًا عِنْدَهُمُ اسْتَعْمَلَ رَجُلًا عَلـٰى كُوْرَةِ الشَّامِ وَكَانَ اَبُوْهُ يَزِنُ بِالْمَنَانِيَّةِ فَبَلَغَ ذٰلِكَ حَضْرَتْ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فَقَالَ مَا حَمَلَكَ عَلـٰى اَنْ تَسْتَعْمِلَ رَجُلًا عَلـٰى كُوْرَةٍ مِّنْ كُوَرِ الْمُسْلِمِيْنَ كَانَ اَبُوْهُ يَزِنُ بِالْمَنَانِيَّةِ؟ قَالَ اَصْلَحَ اللهُ اَمِيْرَ الْمُؤْمِنِيْنَ وَمَا عَلَىَّ! كَانَ اَبُو النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُشْرِكًا وَفِىْ رِوَايَةٍ وَمَا يَضُرُّهٗ ذٰلِكَ يَا اَمِيْرَ الْمُؤْمِنِيْنَ قَدْ كَانَ اَبُو النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَافِرًا فَمَا ضَرَّهٗ فَغَضِبَ حَضْرَتْ عُمَرُ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ غَضَبًا شَدِيْدًا فَقَالَ حَضْرَتْ عُمَرُ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اٰهٍ ثُـمَّ سَكَتَ ثُـمَّ رَفَعَ رَأْسَهٗ فَقَالَ اَاَقْطَعُ لِسَانَهٗ؟ اَاَقْطَعُ يَدَهٗ وَرِجْلَهٗ؟ اَاَضْرِبُ عُنُقَهٗ؟ ثُـمَّ قَالَ لَا تَلِىْ لِىْ شَيْئًا مَّا بَقِيْتُ وَفِىْ رِوَايَةٍ اُخْرٰى فَقَالَ جَعَلْتَ هٰذَا مَثَلًا فَعَزَلَهٗ.

অর্থ: “হযরত নওফিল ইবনে ফুরাত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছিলেন ৮ম খলীফা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার একজন বিশিষ্ট আমিল। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যখন সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক উনার মসনদ মুবারক-এ অধিষ্ঠিত, ওই সময় উনার খিলাফত মুবারক উনার অধীনে শাম দেশের একজন বিশ্বস্ত কাতিব ছিলো। সে শাম দেশের এক এলাকায় এমন এক ব্যক্তিকে কাজে নিয়োগ দিলো, যার পিতা ছিলো যিন্দিকের অভিযোগে অভিযুক্ত।
এই সংবাদটি যখন আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খিদমত মুবারক-এ পেশ করা হলো, তখন তিনি সেই কাতিবকে আহ্বান করলেন এবং বললেন, তোমার ধারণা কী, তোমার কী হলো যে, সম্মানিত মুসলমান উনাদের এলাকাসমূহের এক এলাকায় এমন এক ব্যক্তিকে কাজে নিয়োগ দিয়েছো, যার পিতা যিন্দিকের অভিযোগে অভিযুক্ত? সে বললো, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমীরুল মু’মিনীন উনাকে ইছলাহ হাদিয়া করুন, এতে আমার দোষ কী! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনি তো মুশরিক ছিলেন। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! অন্য বর্ণনায় এসেছে, তখন ওই ব্যক্তি বললো, আমি যাকে কাজে নিয়োগ দিয়েছি (তার পিতা যিন্দিক) তাতে তার সমস্যা কী? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনি তো কাফির ছিলেন। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! এতে তো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কোনো ক্ষতি হয়নি। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! এই কথা শুনে হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অত্যন্ত কঠিনভাবে রেগে গেলেন, তার প্রতি কঠিন অসন্তুষ্ট হলেন। হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, হায়! অতঃপর তিনি নিশ্চুপ হয়ে গেলেন। (তিনি হতভম্ব হয়ে গেলেন)। তারপর তিনি মাথা মুবারক উত্তোলন করে বললেন, আমি কি তার জিহ্বা কেটে দিবো না? আমি কি তার হাত ও পা কেটে দিবো না? আমি কি তার গর্দান উড়িয়ে দিবো না? অতঃপর তিনি তাকে বললেন, আমি যতদিন দুনিয়ার যমীনে অবস্থান করবো, তুমি সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার অধীনে কোনো কাজ করতে পারবে না। অপর বর্ণনায় এসেছে, অতঃপর তিনি বললেন, তুমি এই দৃষ্টান্ত দিচ্ছো, এটা বলে তিনি উক্ত ব্যক্তিকে সাথে সাথে বরখাস্ত করে দিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (মাসালিকুল হুনাফা লিস সুয়ূত্বী ৩৭ পৃ., আল হাওই লিস সুয়ত্বী ২/২৮০, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১/২৬১, তারীখুল ইসলাম লিয যাহাবী ৭/৯৮, ইবনে আসাকির, আল ওয়াফী বিল ওফাইয়াত ৫/১২৬, যম্মুল কালাম ও আহলুহু ৫/৩৩ ইত্যাদি)

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে