নসবনামা মুবারক…… নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার থেকে ধারাবাহিকভাবে সাইয়্যিদুনা হযরত আদম ছফীউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে নসবনামা মুবারক…


ওয়ালিদুর রসূল, সাইয়্যিদুল বাশার, সাইয়্যিদুল কাওনাইন, নূরে মুয়াজ্জাম, নূরে এলাহী, মালিকুল জান্নাহ, আবূ রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক

 

 

পরিচিতি মুবারক:
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনি সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব মুবারক। সুবহানাল্লাহ! উনার উসীলায় সমস্ত জিন-ইনসান এবং তামাম কায়িনাতবাসী সকলেই মর্যাদা-মর্তবা, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক হাছিল করেছে। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী। সুবহানাল্লাহ!
উনার সম্মানিত পিতা হচ্ছেন সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম তিনি এবং সম্মানিতা মাতা হচ্ছেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমা বিনতে আমর আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
উনার সম্মানিত ভাইগণ উনাদের সংখ্যা কত, এই ব্যাপারে সীরাত বিশারদগণ উনাদের মধ্যে ইখতিলাফ রয়েছে। কেউ বলেছেন ১৩ জন, কেউ বলেছেন ১২ জন, কেউ বলেছেন ১০ জন। আর উনার সম্মানিতা বোন ছিলেন মোট ৬ জন।
সম্মানিত বরকতময় নসবনামা মুবারক:
সম্মানিত পিতা আলাইহিস সালাম উনার দিক থেকে-

سَيّـِدُنَا ذَبِيْحُ اللهِ الْـمُكَرَّمُ حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ بْنِ هَاشِمِ بْنِ عَبْدِ مَنَافِ بْنِ قُصَيِّ بْنِ كِلَابِ بْنِ مُرَّةَ بْنِ كَعْبِ بْنِ لُؤَيِّ بْنِ غَالِبِ بْنِ فِهْرِ بْنِ مَالِكِ بْنِ النَّضْرِ بْنِ كِنَانَةَ بْنِ خُزَيْمَةَ بْنِ مُدْرِكَةَ بْنِ اِلْيَاسَ بْنِ مُضَرَ بْنِ نِزَارِ بْنِ مَعَدِّ بْنِ عَدْنَانَ بْنِ اُدِّ ويقال اُدَدُ بْنِ الْمُقَوِّمِ بْنِ نَاحُوْرَ بْنِ تَارَحَ بْنِ بْنِ يَعْرُبَ بْنِ يَشْجُبَ بْنِ نَابِتِ بْنِ اِسْـمَاعِيْلَ بْنِ اِبْرَاهِيْمَ بْنِ تَارَحَ (وَقال البيهقى فى الدلائل وَهُوَ فِي التَّوْرَاةِ: ابْنُ تَارِخ) بْنِ نَاحُوْرَ بْنِ اَرْغُوَا بْنِ سَارِحِ بْنِ فَالِحِ بْنِ عَابِرِ بْنِ شَالَـخِ بْنِ أَرْفَخْشَذَ بْنِ سَامِ بْنِ نُوْحِ بْنِ لَمْكَ بْنِ مَتُّوْشَلَخَ بْنِ اَخْنُوْخَ، وَهُوَ اِدْرِيْسُ النَّبِىُّ بْنِ يَرْدَ بْنِ مَهْلائِيْلَ بْنِ قَيْنَانَ بْنِ اَنُوْشِ بْنِ شِيْثِ بْنِ اٰدَمَ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ.

১. سَيّـِدُنَا ذَبِيْحُ اللهِ الْـمُكَرَّمُ حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা যাবীহুল্লাহিল মুকাররম হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম।
২. عَبْدُ الْمُطَّلِبِ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম।
৩. هَاشِمٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম আলাইহিস সালাম।
৪. سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ عَبْدُ مَنَافٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত আবদু মানাফ আলাইহিস সালাম।
৫. قُصَىٌّ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত কুছাই আলাইহিস সালাম।
৬. كِلَابٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত কিলাব আলাইহিস সালাম।
৭. مُرَّةُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত র্মুরাহ আলাইহিস সালাম।
৮. كَعْبٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত কা’ব আলাইহিস সালাম।
৯. لُؤَىٌّ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত লুয়াই আলাইহিস সালাম।
১০. غَالِبٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত গ¦ালিব আলাইহিস সালাম।
১১. فِهْرٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত ফিহ্র আলাইহিস সালাম।
১২. مَالِكٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْসাইয়্যিদুনা হযরত মালিক আলাইহিস সালাম।
১৩. اَلنَّضْرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ
সাইয়্যিদুনা হযরত নদ্বর আলাইহিস সালাম।
১৪. كِنَانَةُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত কিনানাহ্ আলাইহিস সালাম।
১৫. عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ خُزَيْمَةُ সাইয়্যিদুনা হযরত খুযাইমাহ্ আলাইহিস সালাম।
১৬. مُدْرِكَةُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ
সাইয়্যিদুনা হযরত মুদ্রিকাহ আলাইহিস সালাম।
১৭. سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ اِلْيَاسُ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত ইলইয়াস আলাইহিস সালাম।
১৮. سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ مُضَرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ সাইয়্যিদুনা হযরত মুদ্বর আলাইহিস সালাম।
১৯. نِزَارٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত নিযার আলাইহিস সালাম।
২০. مَعَدٌّ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত মা‘আদ্দ আলাইহিস সালাম।
২১. عَدْنَانُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আদ্নান আলাইহিস সালাম।
২২. اُدٌّ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত উদ্দ আলাইহিস সালাম।
২৩. الْمُقَوِّمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত মুক্বওওইম আলাইহিস সালাম।
২৪. نَاحُوْرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত নাহূর আলাইহিস সালাম।
২৫. تَارَحُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত তারাহ্ আলাইহিস সালাম।
২৬. يَعْرُبُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত ইয়া’রুব আলাইহিস সালাম।
২৭. يَشْجُبُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত ইয়াশ্জুব আলাইহিস সালাম।
২৮. نَابِتٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত নাবিত আলাইহিস সালাম।
২৯. اِسْـمَاعِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত ইসমাইল যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম।
৩০. إِبْرَاهِيْمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْসাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম।
৩১. تَارَحُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত তারাহ্ আলাইহিস সালাম। (ইমাম বাইহাক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘দালাইলুন নুবুওওয়াহ শরীফ’ উনার মধ্যে বলেন, তাওরাত শরীফ উনার মধ্যে উনার সম্মানিত নাম মুবারক হচ্ছে, সাইয়্যিদুনা হযরত তারিখ আলাইহিস সালাম।)
৩২. نَاحُوْرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْসাইয়্যিদুনা হযরত নাহূর আলাইহিস সালাম।
৩৩. اَرْغُوَا عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত আরগুওয়া আলাইহিস সালাম।
৩৪. سَارِحٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْসাইয়্যিদুনা হযরত সারিহ্ আলাইহিস সালাম।
৩৫. فَالِحٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত ফালিহ্ আলাইহিস সালাম।
৩৬. عَابِرٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আবির আলাইহিস সালাম।
৩৭. شَالـَخٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْসাইয়্যিদুনা হযরত শালাখ আলাইহিস সালাম।
৩৮. أَرْفَخْشَذُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْসাইয়্যিদুনা হযরত আরফাখ্শায আলাইহিস সালাম।
৩৯. سَامٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত সাম আলাইহিস সালাম।
৪০. نُوْحٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত নূহ আলাইহিস সালাম।
৪১. عَلَيْهِ السَّلَامُ لَمْكُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত লাম্ক আলাইহিস সালাম।
৪২. مَتُّوْشَلَخُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ সাইয়্যিদুনা হযরত মাত্তূশালাখ আলাইহিস সালাম।
৪৩. سَيّـِدُنَا حَضْرَتْ اَخْنُوْخُ وَهُوَ اِدْرِيْسُ النَّبِىُّ عَلَيْهِ السَّلَام সাইয়্যিদুনা হযরত আখনূখ আলাইহিস সালাম। আর তিনি হচ্ছেন সম্মানিত নবী সাইয়্যিদুনা হযরত ইদ্রীস আলাইহিস সালাম।
৪৪. يَرْدُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْসাইয়্যিদুনা হযরত ইয়ারদ আলাইহিস সালাম।
৪৫. مَهْلَائِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْসাইয়্যিদুনা হযরত মাহ্লাঈল আলাইহিস সালাম।
৪৬. قَيْنَانُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْসাইয়্যিদুনা হযরত ক্বয়নান আলাইহিস সালাম।
৪৭. اَنُوْشٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْসাইয়্যিদুনা হযরত আনূশ আলাইহিস সালাম।
৪৮. شِيْثٌ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا حَضْرَتْসাইয়্যিদুনা হযরত শীছ আলাইহিস সালাম।
৪৯. حَضْرَتْ اٰدَمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ سَيّـِدُنَا সাইয়্যিদুনা আবুল বাশার হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম।
{বিঃ দ্রঃÑ অধিকাংশ ইমাম মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অভিমত অনুযায়ী সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আদনান আলাইহিস উনার পর্যন্ত সম্মানিত নসবনামা মুবারক উনার ধারাবাহিকতা মোটামোটি ঠিক রয়েছে। উনার থেকে সাইয়্যিদুনা হযরত আদম ছফীউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে সকলের নাম মুবারক উল্লেখ নেই; বরং মাঝে মাঝে বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিত্ব মুবারক উনাদের নাম মুবারক উল্লেখ করা হয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে ৫ জন, ১০ জন উনাদের নাম মুবারকও বাদ পড়েছে। অর্থাৎ এই নসবনামা মুবারকখানা পূর্ণাঙ্গ নয়, বরং আংশিক।}
(ইবনে হিশাম, আর রওদ্বুল উন্ফ, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ, দালাইলুন নুবুওওয়াহ লিলবাইহাক্বী, শুয়াবুল ঈমান, আস সুনানুল কুবরা, মাওয়াহিবুল লাদুনইনয়্যাহ, শারহুয যারক্বনী আলাল মাওয়াহিব, সীরতুল হালবিয়্যাহ, তারীখে ত্ববারী, আত তারীখুল কাবীর লিল বুখারী ইত্যাদি)
সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার দিকে থেকে নসবামা:-

سَيّـِدَتُنَا حَضْرَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ عَمْرِو بْنِ عَائِذِ بْنِ عِمْرَانَ بْنِ مَخْزُومِ بْنِ يَقَظَةَ بْنِ مُرَّةَ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ.

অর্থ: ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমা বিনতে আমর ইবনে আয়িয ইবেন ইমরান ইবনে মাখযূম ইবনে ইয়াক্বযাহ ইবনে মুররাহ আলাইহিমুস সালাম।’ (ইবনে হিশাম, আর রওদ্বুল উন্ফ)
সাইয়্যিদুনা হযরত মুররাহ আলাইহিস সালাম উনার এখানে এসে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত নসব মুবারক উনার সাথে একত্রিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত বংশীয় পবিত্রতা মুবারক:
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ’ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন, “(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনার স্থানান্তরিত হওয়ার বিষয়টিও ছিল সম্মানিত সিজদাকারীগণ উনাদের মাধ্যমে।” (সম্মানিত সূরা শুয়ারা শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ ২১৯)
‘তাফসীরে কবীর শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নূর মুবারক সিজদাকারীগণ উনাদের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে কবীর শরীফ ১৩/৩২, মাওয়াহিবুল লাদুননিয়্যাহ শরীফ ১/১০৪, শরহুয যারক্বানী আলাল মাওয়াহিব ১/৩২৬, তারীখুল খমীস ১/২৩৪, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ শরীফ)
এই সম্পর্কে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি সবসময় পূত-পবিত্র পুরুষ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্য থেকে পূত-পবিত্রা মহিলা আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্মানিত রেহেম শরীফ মুবারক-এ স্থানান্তরিত হয়েছি।” সুবহানাল্লাহ!
সুতরাং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পূর্বপুরুষ আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই ছিলেন দ্বীনদার, ন্যায়পরায়ণ, মহান আল্লাহ পাক উনার আখাচ্ছুল বিশেষ ব্যক্তিত্ব মুবারক। অর্থাৎ উনারা অনেকেই ছিলেন হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম। আর যারা হযরত নবী-রসূল ছিলেন না, উনারা ছিলেন সে যামানার মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ লক্ষ্যস্থল। উনারা প্রত্যেকেই সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত ওয়ালিদাইন শরীফাইন আলাইহিমাস সালাম উনাদের বুযূর্গী-সম্মান মুবারক:
মহান আল্লাহ পাক তিনি আবূ রসূলিনা সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে এমন সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনাদেরকে হাদিয়া করেছেন যে, উনারা ছিলেন মহান আল্লাহ পাক উনার আখাচ্ছুল খাছ মাহবূব এবং মাহবূবাহ। ওই যামানার সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ও ব্যক্তিত্বা মুবারক এবং মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ লক্ষ্যস্থল। সুবহানাল্লাহ! আর উনারা দু’জন হচ্ছেন, সাইয়্যিদুন নাস, যুল মাজদি ওয়াস সু’দাদ, জাদ্দু রসূলিনা সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, জাদ্দাতু রসূলিনা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমা বিনতে ‘আমর আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! উনারা শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি না এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি না; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী। সুবহানাল্লাহ!
জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং জাদ্দাতু রসূলিল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সম্মানিত শাদী মুবারক:
মহান আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছা মুবারক অনুযায়ী জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার এবং জাদ্দাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমা বিনতে আমর আলাইহাস সালাম উনাদের উভয়ের মাঝে আযীমুশ শান বরকতপূর্ণ শাদী মুবারক অনুষ্ঠিত হয়। সুবহানাল্লাহ!
আর জাদ্দাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমা বিনতে আমর আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার, আবূ ত্বালিব, যুবাইর আলাইহিস সালাম উনাদের সম্মানিতা আম্মাজান এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছফিয়্যাহ আলাইহাস সালাম তিনি ব্যতীত অন্য সকল মেয়ে সন্তান আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্মানিতা আম্মাজান। সুবহানাল্লাহ! (আর রওদ্বুল উনফ ১/২০৯, সীরাতে ইবনে হিশাম ১/২৩৭)
সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত যমযম কূপ মুবারক পুনরুদ্ধার:
জুরহুম গোত্র সম্মানিত যমযম কূপ মুবারক বন্ধ করে দেয়ার পর থেকে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময়কাল পর্যন্ত সম্মানিত যমযম কূপ উনার কোনো চিহ্ন বিদ্যমান ছিলো না। কেউ কেউ এর সময়কাল ৫০০ বছর বলে উল্লেখ করেছেন।
অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে স্বপ্নযোগে আদৃষ্ট হয়ে সম্মানিত যমযম কূপ পুনরুদ্ধার করেন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক:
সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, একদা আমি সম্মানিত কা’বা শরীফ উনার হাতিম-এ ঘুমিয়ে ছিলাম। তখন আমি এক বরকতময় স্বপ্ন মুবারক দেখি, যা আমাকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছিলো। আমি তা দেখে খুব চিন্তায় পড়ে গেলাম। ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে আমি সম্মানিত কুরাইশ বংশীয় একজন মহিলা তা’বীরবিদের নিকট গেলাম। আমার গায়ে ছিলো নকশাওয়ালা রেশমী চাদর মুবারক এবং আমার লম্বা চুল মুবারক ঘাড় মুবারক-এ ঝুলছিলো। আমার প্রতি দৃষ্টিপাত করে তিনি আমার চেহারায় পরিবর্তন টের পেয়ে যান। আমি তখন আমার সম্মানিত ক্বওম তথা সম্প্রদায়ের সাইয়্যিদ। তিনি বললেন, আমাদের সরদার উনার কী হলো যে, তিনি এমন বিবর্ণ চেহারা মুবারক নিয়ে আমার নিকট সম্মানিত তাশরীফ মুবারক রেখেছেন? আপনি কী ব্যতিক্রম কোনো স্বপ্ন মুবারক দেখেছেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। তার নিয়ম ছিলো, কেউ তার নিকট আসলে প্রথমে আগন্তুককে তার ডান হাত চুম্বন করতে হতো এবং তার মাথার তালুতে হাত রাখতে হতো। এরপর তার সাথে কথা বলার ও সমস্যার কথা জানানোর সুযোগ পাওয়া যেত। আমি এসব করলাম না।
অতঃপর আমি বসে বললাম, গত রাতে আমি সম্মানিত কা’বা শরীফ উনার হাতিমে ঘুমিয়ে ছিলাম। অতঃপর আমি (স্বপ্ন মুবারক) দেখি, একটি সম্মানিত গাছ মুবারক মাটি থেকে অঙ্কুরিত হলো। দেখতে দেখতে উক্ত মুবারক বৃক্ষ উনার শাখা-প্রশাখা আকাশচুম্বী হয়ে গেলো এবং পূর্ব-পশ্চিম তথা সারা কায়িনাতে ছড়িয়ে পড়লো। আর এই সম্মানিত বৃক্ষ থেকে একটি নূর মুবারক নির্গত হলো। যার আলো সূর্য থেকে সত্তরগুণ তথা কোটি কোটি গুণ বেশি ছিলো। আরব-অনারব সকলেই সেই সম্মানিত বৃক্ষ মুবারক উনার সামনে সিজদাবনত ছিলো। প্রতিমুহূর্তে উক্ত সম্মানিত গাছ মুবারক উনার পরিধি, নূর মুবারক ও উচ্চতা মুবারক বেড়েই চলছিলো। সেই সম্মানিত গাছ মুবারক উনার নূর মুবারক কখনো ব্যাপকভাবে প্রকাশ পেতো এবং কখনো গোপন হয়ে যেতো। আমি আরো দেখলাম, একদল কুরাইশ এই সম্মানিত বৃক্ষ উনার ডাল মুবারক ধরে ঝুলে আছেন। কুরাইশদের অপর একটি দল গাছটি কেটে ফেলার চেষ্টা করছে। তারা কাটার উদ্দেশ্যে সম্মানিত বৃক্ষ মুবারক উনার নিকটবর্তী হলে একজন সুদর্শন যুবক তাদেরকে হটিয়ে দিতেন।
সেই সম্মানিত যুবক উনার মতো এত স্শ্রুী ও সৌরভময় যুবক আমি আর কখনো দেখিনি। এই সম্মানিত যুবক তিনি পিটিয়ে তাদের হাড়-গোড় ভেঙ্গে দিচ্ছিলেন এবং তাদের চোখ উপড়ে ফেলছিলেন। আমি দু’হাত মুবারক বাড়িয়ে উক্ত সম্মানিত গাছ মুবারক থেকে কিছু নিতে চাইলাম। কিন্তু সম্মানিত যুবক তিনি আমাকে বারণ করলেন। আমি বললাম, তাহলে এ সম্মানিত গাছ কাদের জন্য? তিনি বলেন, যাঁরা গাছ মুবারক ধরে ঝুলে আছেন এবং যাঁরা আপনার সামনে আসবেন অর্থাৎ পরবর্তীতে যারা আসবেন। অর্থাৎ ভবিষ্যতে বংশধরগণ উনাদের জন্য এই সম্মানিত গাছ। এই স্বপ্ন মুবারক দেখে আমি ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় জেগে উঠলাম।
আমি দেখতে পেলাম এই স্বপ্ন মুবারক শুনে ওই মহিলা তা’বীরবিদদের মুখমন্ডল বিবর্ণ হয়ে গেলো। সে বললো, আপনার স্বপ্ন মুবারক যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে-

لَيَخْرُجَنَّ مِنْ صُلْبِكَ رَجُلٌ يَمْلِكُ الْمَشْرِقَ وَالْمَغْرِبَ وَيَدِينُ لَهُ النَّاس

“অবশ্যই আপনার সম্মানিত বংশ মুবারক থেকে তথা আপনার সম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে এমন একজন সম্মানিত ব্যক্তিত্ব মুবারক তিনি আগমন করবেন, যিনি পূর্ব-পশ্চিম তথা সারা কায়িনাতের মালিক হবেন তথা নবী-রসূল হবেন এবং সমস্ত মানুষ উনার সম্মানিত দ্বীন গ্রহণ করবেন। সুবহানাল্লাহ! (আবূ নাঈম, বিদায়া-নিহায়াহ, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ)
অর্থাৎ আপনার সম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করবেন। সুবহানাল্লাহ!
এই সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক উনার মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার ব্যাপারে সম্মানিত সুসংবাদ মুবারক হাদিয়া করেন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ‘সম্মানিত বরকতময় রগায়িব শরীফ’ সংঘটিত হওয়ার পূর্বে একখানা বরকতময় ঘটনা:
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমা বিনতে আমর আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করার অল্প কিছু দিন পূর্বের ঘটনা। সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একদা শিকার করতে বনে যান। সারা দিন শিকারের পর তিনি খুব পিপাসার্ত ও ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তখন মহান আল্লাহ পাক উনার এক বিশেষ কুদরত মুবারক যাহির হয়। সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হঠাৎ করে অত্যন্ত চমৎকার একটি পবিত্র ঝর্ণা মুবারক দেখতে পান। এই পবিত্র ঝর্ণা মুবারক উনার পানি ছিলো বরফের চেয়েও ঠা-া, মধুর চেয়েও মিষ্টি। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেই সম্মানিত পানি মুবারক পান করলেন। তখন উনার মনে হলো বেহেশত ছাড়া আর কোনো জায়গায় এমন ঠা-া আর মিষ্টি পানি থাকতে পারে না। সুবহানাল্লাহ!
প্রকৃতপক্ষে ষিয়টি তাই ছিলো। মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ‘সম্মানিত রগাইব শরীফ’ উনার পূর্বে জান্নাতী সুমিষ্ট পানি মুবারক পান করিয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত রগাইব শরীফ উনার সম্মানিত সুসংবাদ মুবারক হাদিয়া করেছেন এবং উনার সম্মানিত ফযীলত মুবারক উনার বিষয়টি কায়িনাতের মাঝে স্পষ্ট করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ‘সম্মানিত বরকতময় রগায়িব শরীফ’:
মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার অতিপছন্দীয় এক মহাসম্মানিত রজনী মুবারক উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ‘সম্মানিত রগায়িব শরীফ মুবারক’ উনার সম্মানিত রজনী মুবারক হিসেবে নির্দিষ্ট করেন। অর্থাৎ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট অতিপছন্দীয় এক মহাসম্মানিত রজনী মুবারক-এ উনার সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ!
সেই সম্মানিত রজনী মুবারক-এ মহান আল্লাহ পাক তিনি সারা কায়িনাতে বেমেছাল রহমত, বরকত ও সাকীনা মুবারক বর্ষণ করেছিলেন। মহাসম্মানিত জান্নাত উনাকে অপরূপ সাজে সুসজ্জিত করেছিলেন। হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুবারকবাদ জানানোর জন্য নির্দেশ মুবারক প্রদান করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সুসংবাদ মুবারক হাদিয়া:
মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার আখাচ্ছুল খাছ মাহবূব ব্যক্তিত্ব মুবারক সাইয়্যিদুল বাশার সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার ব্যাপারে এবং উনার ফাযায়িল-ফযীলত মুবারক বর্ণনা করে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং জাদ্দাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে অনেক সুসংবাদ মুবারক হাদিয়া করেন। সুবহানাল্লাহ! বিশেষ করে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি উনার সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত রেহেম শরীফ মুবারক-এ অবস্থানকালীন সময়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে আরো আখাচ্ছুল খাছ সুসংবাদ মুবারক হাদিয়া মুবারক করেন এবং তিনি যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম হবেন সেই বিষয়েও আখাচ্ছুল খাছ সম্মানিত সুসংবাদ মুবারক হাদিয়া মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ:
সম্মানিত হিজরত মুবারক উনার ৭৮ বছর ৮ মাস ১০ দিন পূর্বে ২রা রজবুল হারাম শরীফ ইয়াওমুস সাবত শরীফ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত মক্কা শরীফ উনার সম্মানিত কুরাইশ বংশে মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!
উনার সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশকালে উনার সম্মানিত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়ার জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত জান্নাত থেকে বিশেষ বিশেষ সম্মানিতা ব্যক্তিত্বা মুবারক উনাদেরকে প্রেরণ করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত হুজরা শরীফ মুবারক উনাকে আলোকিত করে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশকালে উনার সম্মানিত নূর মুবারক উনার আলো মুবারক-এ সর্বত্র আলোকিত হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি সারা পৃথিবী, সারা কায়িনাত এবং সম্মানিত জান্নাত উনাকে অপরূপ সাজে সুসজ্জিত মুবারক করেন। সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা এবং হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা সকলে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক-এ আহলান-সাহলান মুবারক জানান। সুবহানাল্লাহ! স্বয়ং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক-এ খুশি মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা উনাদের প্রিয়তম আওলাদ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশে বেমেছাল খুশি প্রকাশ করেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার বেমেছাল প্রশংসা মুবারক করেন ও শুকরিয়া মুবারক আদায় করেন। সুবহানাল্লাহ! উনাদের সম্মানিত হুজরা শরীফ-এ খুশির মহাজোয়ার বয়ে যায়। সকলে এতো বেমেছাল খুশি মুবারক প্রকাশ করেন যে, তা চিন্তা ও কল্পনার বাইরে। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত আক্বীক্বাহ মুবারক দেয়া এবং সম্মানিত নাম মুবারক রাখা:
সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সপ্তম দিনে উনার সম্মানিত আক্বীক্বা মুবারক করেন, সম্মানিত ইসম বা নাম মুবারক রাখেন এবং আত্মীয়-স্বজন উনাদেরকে দাওয়াত দিয়ে বিশেষ মেহমানদারী মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম তিনি উনার সম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক রাখেন ‘আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম’। সুবহানাল্লাহ! এই সম্মানিত নাম মুবারক উনার অর্থ মুবারক হচ্ছে, ‘মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ বান্দা তথা মাহবূব ব্যক্তিত্ব মুবারক’। সুবহানাল্লাহ!
আর সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট সর্বাধিক প্রিয় ও পছন্দনীয় নাম মুবারক হচ্ছে, আব্দুল্লাহ এবং আব্দুর রহমান।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, আবূ দাঊদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ ইত্যাদি)
সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক:
আবূ মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আবূ আহমদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আবূ কুছাম (اَبُوْ قُثَم) আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত লক্বব মুবারক:
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া যত সম্মানিত লক্বব মুবারক রয়েছে সমস্ত সম্মানিত লক্বব মুবারক উনাদের মালিক হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ! যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম, আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুল বাশার, মালিকুল জান্নাহ, আফদ্বলুন নাস বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুল কাওনাইন ইত্যাদি উনার সম্মানিত বিশেষ লক্বব মুবারক উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত লালন-পালন মুবারক:
সাইয়্যিদুল কাওনাইন, আবূ রসূলিনা সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাহিস সালাম উনার, সম্মানিত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার এবং সম্মানিত ভাই-বোন আলাইহিমুস সালাম, আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের বেমেছাল মুহব্বত, আদর-যতœ মুবারক-এ লালিত-পালিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি ছিলেন উনার সম্মানিত পরিবারের সকলের নিকট সর্বাধিক আদরনীয় এবং সর্বাধিক মুহব্বত মুবারক উনার পাত্র। পরিবারের সকলেই উনাকে সর্বাধিক মুহব্বত ও আদর স্নেহ মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহ!
উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক:
মূলত ‘নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মাঝে অবস্থান মুবারক করার কারণে সমস্ত সৃষ্টি জগতই উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার জন্য বেক্বারার ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! গাছ-পালা, তরু-লতা, পশু-পাখি থেকে শুরু করে কায়িনাতের সকলেই উনাকে বেমেছাল তা’যীম-তাকরীম মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক উনার মুবারক নির্দেশে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা দায়িমীভাবে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিতেন। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত ইলম মুবারক:
মূলত, মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে ‘ইলমে গইব মুবারকসহ সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত প্রকার ইলম মুবারক হাদিয়া করেছেন। উনার সম্মানিত ইলম মুবারক উনার কোনো কুল-কিনারা নেই। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা মু’মিন তথা ওলীআল্লাহ উনার ফিরাসাত তথা অন্তরদৃষ্টি মুবারক উনাকে ভয় করো। কেননা তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নূর মুবারক দ্বারা দেখে থাকেন। সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ, আল মু’জামুল কাবীর ৭/১০৯, আল মু’জামুল আওসাত্ব ৩/৩১২, আহকামুশ শরীয়াহ ৩/২৯৩, মুসনাদুশ শামিয়্যীন ৩/১৮৩)
মূলত, ওলীআল্লাহগণ উনারা নূর মুবারক উনার মাধ্যমেই সমস্ত কায়িনাত, জান্নাত-জাহান্নাম, সাত আসমান, সাত যমীন সমস্ত কিছু দেখতে পান। সৃষ্টি জগতের কোনো কিছুই উনাদের দৃষ্টি মুবারক উনার অন্তরালে থাকে না। আর উনারা এই সম্মানিত নূর তথা ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ মুবারক লাভ করে থাকেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে যিনি যত বেশি নূর তথা ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ মুবারক গ্রহণ করতে পারেন, উনার সম্মানিত ইলম মুবারক উনার গভীরতা তত বেশি ও ব্যাপক হয়। যদি বিষয়টি এরূপ হয়, তাহলে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি সরাসরি ‘নূরী হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ ধারণ মুবারক করেছেন, তাহলে উনার সম্মানিত ইলম মুবারক উনার বিষয়টি কত ব্যাপক হবে, সেটা মাখলূকাতের চিন্তা-কল্পনার বাইরে। সুবহানাল্লাহ!
মূলত, তিনি সম্মানিত ইলমে গইব মুবারকসহ যত প্রকার ইলম মুবারক রয়েছে সমস্ত প্রকার সম্মানিত ইলম মুবারক উনার মালিক তথা ছাহিবু জামি‘য়িল ইলম, মালিকু জামি‘য়িল ইলম। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক উনার কায়িনাতে যা কিছু রয়েছে সমস্ত কিছুই দায়িমীভাবে উনার মাঝে সুস্পষ্ট। কায়িনাতের কোনো কিছুই উনার নিকট অস্পষ্ট নেই, অজানা নেই। সুবহানাল্লাহ! এই বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করাটাও চরম আদবের খিলাফ ও সুস্পষ্ট কুফরী। নাঊযুবিল্লাহ!
প্রকৃপক্ষে উনার সম্মানার্থেই ওলীআল্লাহগণ উনারা ইলম মুবারকসহ সমস্ত নিয়ামত মুবারক লাভ করে থাকেন। তাই মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আসসাফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার নিকট সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে নূর মুবারক, ইলম, পবিত্রতা, দয়া-দান, ইহসান ও তাওফীক্ব মুবারক ভিক্ষা চাচ্ছি। তিনি আমাদেরকে কবূল করুন। আমীন।
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মাঝে নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম:
সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি আবুল বাশার হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করে উনার সম্মানিত কপাল মুবারক উনার মাঝে সেই সম্মানিত নূর মুবারক তথা নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে রাখলেন। সুবহানাল্লাহ! তারপর সেই সম্মানিত নূর মুবারক হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার থেকে হযরত শীছ আলাইহিস সালাম উনার মাঝে স্থানান্তরিত হলেন। সুবহানাল্লাহ! আর এই সম্মানিত স্থানান্তর মুবারক পূত-পবিত্র ও সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব মুবারক উনাদের থেকে সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব মুবারক উনার মাঝে এবং সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব মুবারক উনাদের থেকে পূত-পবিত্র ও সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব মুবারক উনাদের মাঝে চলতে থাকলেন। সুবহানাল্লাহ! এইভাবে মহান আল্লাহ পাক তিনি এই সম্মানিত নূর মুবারক আমার সম্মানিত পিতা সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার মাঝে পৌঁছিয়ে দেন। সুবহানাল্লাহ! (মুছান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক্ব: হাদীছ শরীফ: ১৮, আল জুযউল মাফক্বূদ মিনাল জুযয়িল আউওয়াল মিনাল মুছান্নিছ লিহাফিযিল কাবীর আবী বকর আব্দির রাজ্জাক্ব ৬৩ পৃ.)
সম্মানিত না’ত শরীফ পাঠ:
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি স্বয়ং নিজে উনার, উনার সম্মানিত পিতাজান সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম উনার, উনার সম্মানিত দাদাজান সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম আলাইহিস সালাম উনার এবং উনার সমস্ত পূর্বপুরুষ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রশংসামূলক একখানা সম্মানিত বিশেষ ‘না’ত শরীফ পাঠ’ করেছেন। উক্ত সম্মানিত না’ত শরীফখানা উনার অর্থ হচ্ছে, “অবশ্য অবশ্যই আমরা বেমেছাল প্রফুল্লতার সাথে, অত্যন্ত খুশির সাথে, সীমাহীন সম্মানিত শান-শওক্বত ইতমিনান মুবারক উনার সাথে প্রতিটি শহর, নগর, গ্রাম, স্থান, জনপদে শাসনকার্য পরিচালনা করেছি। কেননা আমাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক হচ্ছে সারা পৃথিবীর, সারা কায়িনাতের সকল সর্দার, নের্তৃত্বশীল ও নেতা, আমীর-উমারা, রাজা-বাদশাহ সুলতান সকলের উপরে আর বাতিনীভাবে ওলী, কুতুব, গাওস, নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সকলের উপরে। সুবহানাল্লাহ!
আর নিশ্চয়ই আমার সম্মানিত পিতা সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন সীমাহীন মর্যাদা-মর্তবা, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক ও সম্মানিত কর্তৃত্ব মুবারক উনার অধিকারী। উনার সম্মানিত ইশারা-ইঙ্গিত মুবারক-এ, নির্দেশ মুবারক-এ পরিচালিত হয় উঁচু থেকে নিচু (সম্মানিত আরশে আযীম থেকে তাহ্তাছ ছারা পর্যন্ত) এতোদুভয়ের মাঝে (সারা কায়িনাতে) যা কিছু রয়েছে সমস্ত কিছু। সুবহানাল্লাহ!
আর আমার সম্মানিত দাদা সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার পূর্বপুরুষগণ (হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পর্যন্ত) যাঁরা অতীত হয়েছেন উনারা প্রত্যেকেই ছিলেন (যাহিরী-বাত্বিনী সর্বদিক থেকে) সর্বশ্রেষ্ঠ ধনী। উনারা প্রত্যেকেই ছিলেন বংশীয় শ্রেষ্ঠত্ব ও বংশীয় পবিত্রতার দিক থেকে অবিনশ্বর। অর্থাৎ উনারা প্রত্যেকেই ছিলেন এতো সর্বশ্রেষ্ঠ ও পূত-পবিত্র বংশ মুবারক উনার অধিকারী এবং পূত-পবিত্র চরিত্র মুবারক উনাদের অধিকারী যে, উনাদের কারো মধ্যে কোনো প্রকার অপবিত্রার স্পর্শ পর্যন্ত লাগেনি। সুবহানাল্লাহ! (কেননা উনাদের মাঝে নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অবস্থান মুবারক করেছিলেন।)” সুবহানাল্লাহ! (‘আল হাওই শরীফ ২/২২১, মাসালিকুল হুনাউট ২৫ পৃষ্ঠা, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১/২৪৭, সুমতুন নুজূম ১/২৯৮)
সম্মানিত যাবীহুল্লাহ লক্বব মুবারক সম্পর্কে কিছু পর্যালোচনা:
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানতি হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

انا ابْن الذَّبِيحَيْنِ

অর্থ: “আমি দুই যাবীহুল্লাহ আলাইহিমাস সালাম উনাদের সন্তান।” সুবহানাল্লাহ! (শারফুল মুস্ত¡উট, শরহুশ শিউট শরীফ, তারীখুল খমীস)
‘মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানতি ইরশাদ মুবারক, ‘আমি দুই যাবীহুল্লাহ আলাইহিমাস সালাম উনাদের সন্তান। অর্থাৎ (আর দুই যাবীহুল্লাহ আলাইহিমাস সালাম উনারা হচ্ছেন) সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম তিনি।” সুবহানাল্লাহ! (মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ)
সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হযরত মুয়াবিয়া ইবনে আবূ সূফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমারা একদা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় এক আ’রাবী (গ্রামে বসবাসকারী ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ উপস্থিত হয়ে আরয করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ভূমি শুকিয়ে গেছে। পানি ফুরিয়ে গেছে। পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে এবং পশুপাল বরবাদ হয়ে গেছে। হে দুই যাবীহুল্লাহ আলাইহিমাস সালাম উনাদের সন্তান, আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে যা হাদিয়া মুবারক করেছেন, তা হতে আমাকে কিছু দান করুন!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উক্ত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বক্তব্য মুবারক শুনে মুচকি হাসি মুবারক দিলেন এবং অস্বীকার করলেন না।” সুবহানাল্লাহ! (মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ, মাদারিজুন নুবুওওয়াহ, খছাইছুল কুবরা ইত্যাদি)
এই সম্মানিত হাদীছ শরীফ থেকে একটি বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার আওলাদ বলে সম্বোধন করলে, তিনি অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন এবং খুশি মুবারক প্রকাশ করেন। অর্থাৎ উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনাকে যাবীহুল্লাহ বললে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন এবং খুশি মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!
মূলত ‘যাবীহুল্লাহ’ হলো- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনার একখানা আখাচ্ছুল খাছ লক্বব মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
যাবীহুল্লাহ শান মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ:
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে যে, ‘সম্মানিত যমযম কূপ মুবারক খনন করার সময় কুরাইশদের সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যে বিবাদ হয়েছিলো, তার প্রেক্ষিতে তিনি সম্মানিত মানত মুবারক করেছিলেন যে, যদি উনার দশ জন আওলাদ (পুত্র সন্তান) আলাইহিমুস সালাম উনারা সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন এবং প্রাপ্ত বয়স মুবারক-এ উপনীত হয়ে উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়ার উপযুক্ত হন, তাহলে উনাদের একজনকে মহান আল্লাহ পাক উনার রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের লক্ষ্যে সম্মানিত কা’বা শরীফ উনার নিকটে সম্মানিত যবেহ বা কুরবানী মুবারক করবেন। সুবহানাল্লাহ!
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে, সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পুত্র সন্তান আলাইহিমুস সালাম উনারদের সংখ্যা যখন দশ জন পূর্ণ হলেন এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের মাধ্যমে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চোখ মুবারক উনাকে শিতল করলেন। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এক রজনী মুবারক-এ পবিত্র কা’বা শরীফ উনার নিকটে ঘুমিয়ে ছিলেন। তিনি স্বপ্ন মুবারক-এ দেখলেন যে, উনাকে একজন বলছেন, হে হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম! আপনি এই সম্মানিত কা’বা শরীফ উনার রব মহান আল্লাহ পাক উনার রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের লক্ষ্যে আপনার সম্মানিত মানত পূর্ণ করুন। এই স্বপ্ন মুবারক দেখে তিনি চিন্তিত ও শঙ্কিত অবস্থায় ঘুম থেকে জাগ্রত হলেন এবং তিনি একটি দুম্বা মুবারক যবেহ করে ফক্বীর ও মিসকীনদেরকে আহার করালেন। তারপর তিনি পরবর্তী রাতে ঘুমিয়ে স্বপ্ন মুবারক-এ দেখলেন যে, উনাকে বলা হচ্ছে আপনি এর চেয়ে বড় কিছু কোরবানী করুন। তিনি ঘুম থেকে উঠে একটি ষাড় (গরু) কুরবানী মুবারক করেন। পরবর্তী রাত তিনি ঘুমালে পুনরায় উনাকে স্বপ্ন মুবারক-এ বলা হলো, আপনি এর চেয়ে বড় কিছু কুরবানী করুন। তারপর ঘুম থেকে উঠে একটি উট কুরবানী মুবারক করে মিসকীনদেরকে খাওয়ালেন। এর পরবর্তী রাত্রিতে ঘুমালেন, তখন উনাকে নিদা মুবারক করা হলো, আপনি এর চেয়ে বড় কিছু কুরবানী মুবারক করুন। তিনি বললেন, এর চেয়ে বড় কী? তখন উনাকে বলা হলো, আপনি আপনার সম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদের থেকে একজনকে কুরবানী করুন, যেটা আপনি মানত মুবারক করেছিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (নিহায়াতুল ইজায ১/৪০, মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ ১/৬৬, শারহুয যারক্বানী আলা মাওয়াহিব ১/১৭৬)
তারপর সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সকলকে একত্রিত করে উনার সম্মানিত মানত সম্পর্কে অবহিত করলেন এবং উনাদেরকে উনার ওয়াদা মুবারক পূরণ করার ব্যাপারে আহ্বান মুবারক করলেন। তখন উনারা সকলে বললেন, হে আমাদের সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম, নিশ্চয়ই আমরা প্রত্যেকেই আপনার অনুগত। আপনি আমাদের মধ্য থেকে কাকে কুরবানী মুবারক করতে চান?
তখন সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার দশ জন আওলাদ আলাইহিমু সালাম উনাদের মাঝে লটারী মুবারক করলেন। লটারী মুবারক-এ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মুবারক উঠলো। তিনি উনার সম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে কুরবানী মুবারক করার জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি মুবারক গ্রহণ করেন এবং উনাকে নিয়ে সম্মানিত কা’বা শরীফ উনার সামনে উপস্থিত হন। অতঃপর যখন তিনি উনাকে শুয়ায়ে ছুরি মুবারক দিয়ে কুরবানী মুবারক করবেন, তখন তা দেখে কুরাইশরা তাদের মজলিস থেকে দৌড়ে এসে বললো, আপনি কি করছেন? তিনি বললেন, আমি উনাকে যবেহ করবো। কুরাইশ এবং উনার অন্যান্য পুত্রগণ বললেন, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! কোনো নিশ্চিত বিকল্প ধারা না হওয়া পর্যন্ত আপনি উনাকে যবেহ করতে পারবেন না। যদি করেন, তাহলে পুত্র কুরবানী দেয়ার ধারা চালু হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় মানুষের নিরাপত্তা কিভাবে রক্ষা হবে?
অপর বর্ণনায় রয়েছে, সম্মানিত কুরবানী মুবারক করার জন্য যখন সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে স্বীয় পা মুবারক উনার নিচে ধরেন, তখন সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে পিতার পা মুবারক উনার নিচ থেকে টেনে সরিয়ে নেন। এই কারণে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম উনার মুখম-ল মুবারক-এ এমন প্রচ- আঘাত করেন যে, পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করা পর্যন্ত সেই আঘাত মুবারক উনার দাগ থেকে যায়।
সম্মানিত মদীনা শরীফ-এ সাজাহ নামে একজন বিশেষ ব্যক্তি বসবাস করতেন। কুরাইশরা সে ব্যক্তির নিকট যেতে বললেন এবং বললেন, তিনি যা সিদ্ধান্ত দিবেন সেটাই হবে চূড়ান্ত।
সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অনেক লোকজন নিয়ে উনার কাছে গেলেন। তারপর উনার কাছে বিষয়টি খুলে বললেন। তিনি বললেন, আপনাদের সমাজে মুক্তিপণের পরিমাণ কত? সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, দশটি উট। সে ব্যক্তি বললেন, আপনারা দেশে ফিরে যান। গিয়ে দশটি উট ও আপনার সম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম উনার মধ্যে লটারী করুন। লটারী মুবারক-এ যদি আপনার সম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম উনার নাম মুবারক আসে, তাহলে আরো দশটি উট নিয়ে আবারো লটারী করুন। এভাবে লটারী করতে থাকুন। অতঃপর যখন উটের নাম আসবে, তখন আপনি আপনার সম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম উনার পরিবর্তে উটগুলো কুরবানী করুন। এতে মহান আল্লাহ পাক তিনি সন্তুষ্ট হয়েছেন বলে প্রমাণিত হবে। সুবহানাল্লাহ! আর আপনার সম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম উনার জীবন মুবারকও বেঁচে যাবে। অর্থাৎ উনার সম্মানিত যাবীহুল্লাহ শান মুবারক উনার সম্মানিত বহিঃপ্রকাশ মুবারক ঘটবে। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সঙ্গীদেরকে নিয়ে সম্মানিত মক্কা শরীফ-এ আসলেন। সকলের সম্মতিক্রমে লটারী শুরু হলো। সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট দোয়া করতে লাগলেন। প্রথমে দশটি উট ও সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার লটারী টানা হলো। নাম আসলো সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার। এবার আরো দশটি উট বাড়িয়ে লটারী দেয়া হলো। এভাবে দশটি করে উট বাড়িয়ে লটারী টানা হলো। কিন্তু প্রতিবারই সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার নাম মুবারক উটতে লাগলো। অবশেষে একশত উট আর সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মধ্যে লটারী দেয়া হলে উটের নাম উটলো। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট দোয়া করছিলেন। কুরাইশরা উনাকে জানালেন যে, সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন। সুবহানাল্লহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, না এতে আমি সন্তুষ্ট না। আরো তিনবার লটারী না করা পর্যন্ত আমি নিশ্চিত হতে পারছি না। সুবহানাল্লাহ! তারপর উনার কথা মুবারক অনুযাযী আরো তিনবার লটারী করা হলো। প্রতিবারই উটের নাম আসলো। তখন জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিশ্চিত হলেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার শুকরিয়া মুবারক আদায় করলেন। সুবহানাল্লাহ!
তারপর সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একশ উট মুবারক যবেহ করে বিশেষ ও সাধারণ সকল লোককে; এমন অন্যান্য মাখলূকাতকেও আহার করালেন। এভাবে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত যাবীহুল্লাহ শান মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সুবহানাল্লাহ!
এরপর থেকেই আরব দেশে এক ব্যক্তির রক্তপণ নির্ধারিত হলো একশত উট। যদিও ইতঃপূর্বে রক্তপণের জন্য নির্ধারিত ছিলো দশ উট। পরবর্তীতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একশত উটই রক্তপণরূপে নির্ধারণ মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! (মাদারিজুন নুবুওওয়াহ, মাওয়াহিবুল লাদুন নিয়্যাহ, শারহুয যারক্বানী আলাল মাওয়াহিব, আর রওদুল উনফ, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ইত্যাদি)
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত গায়িবী নিদা মুবারক:
বর্ণিত রয়েছে যে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একদা উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনাকে বললেন যে, হে আমার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম, আমি যখন কোনো নির্জন স্থানে যাই, তখন ‘গায়িবী নিদা তথা অদৃশ্য আওয়ায মুবারক’ শুনতে পাই- কে যেন আমাকে বলেন, হে রসূল তথা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম, আপনাকে সালাম। সুবহানাল্লাহ!
আবার কখনো বা বলেন, হে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আপনাকে সুসংবাদ। সুবহানাল্লাহ! সম্প্রতি একটি নতুন কথা শুনতে পেলাম। ঠিক একইরূপে কে যেন আমাকে বললেন, হে সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিতা আহলিয়াহ (যাওযাতুম মুর্কারামাহ), মুবারকবাদ গ্রহণ করুন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত ওহাব আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক:
এরপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত ওহাব আলাইহিস সালাম তিনি এক রাতে এক বিশেষ স্বপ্ন মুবারক দেখেন। এক বুযূর্গ ব্যক্তি উনাকে বলছেন, “হে সাইয়্যিদুনা হযরত ওহাব আলাইহিস সালাম, স্বয়ং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার মহাসম্মানিতা মেয়ে উনার তত্ত্বাবধান ও নিরাপত্তার ভার গ্রহণ করেছেন। আপনি উনাকে এমন এক সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ বংশের অধিকারী সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক উনার নিকট সমর্পণ করুন যেই সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক উনাকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক করার জন্য উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনি মানত মুবারক করেছেন এবং মহান আল্লাহ পাক তিনিও উনার সম্মানিত কুরবানী মুবারক কবূল করেছেন।” সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত সৌন্দর্য মুবারক:
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বেমেছাল সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, “সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন মানুষের মাঝে সর্বাধিক সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী।” সুবহানাল্লাহ! (ইমতা’ ৪/৪১)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে, “সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত কপাল মুবারক উনার মাঝখানে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক উনার সম্মানিত নূর মুবারক তথা নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখা যেতো।” সুবহানাল্লাহ! (ইমতা’ ৪/৩৪)
‘আল বারাহীনুল ক্বিত্ব‘ইয়্যাহ ফী মাওলিদি খইরিল বারিয়্যাহ’ উনার মধ্যে ‘মাদারেজুন নুবুওওয়াত কিতাব’ উনার বরাতে উল্লেখ রয়েছে, “সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক, সর্বোত্তম গুণাবলী মুবারক এবং জামালিয়াত তথা বেমেছাল সৌন্দর্য মুবারক উনার সুখ্যাতি সর্বত্র প্রসিদ্ধ ছিলো। উপরন্ত সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়ার ঘটনা সারা দেশে প্রচার হয়ে উনাকে আরো বহুগুণে সুবিখ্যাত করে তুলেছিলো। তাই কুরাইশ মহিলারা উনার সম্মানিত পরিপূর্ণ সৌন্দর্য মুবারক-এ আশিকা হয়ে বিবাহ বসার উদ্দেশ্যে উনার গন্তব্য পথের মাথায় দাঁড়িয়ে থাকতো এবং নিজেদের দিকে উনাকে আহ্বান জানাতো। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক ও সম্মানিত ইছমত মুবারক উনাদের পর্দার আড়ালে সম্মানিত হিফাযত মুবারক-এ রেখে সম্মানিত ও পবিত্র থেকে পবিত্রতম অবস্থায় রেখেছিলেন।” সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার নিকট আরব মহিলাদের বিবাহের প্রস্তাব:
আরবের অসংখ্য সম্ভ্রান্তশীলা মহিলা সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত কপাল মুবারক-এ নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অবলোকন করে আশিকাহ হয়ে উনার নিকট শাদী মুবারক বসার জন্য বেকারার-পেরেশান হয়ে গিয়েছিলো এবং উনার নিকট সরাসরি এই ব্যাপারে প্রস্তাবও দিয়েছিলো। সীরাতগ্রন্থেগুলোতে এই বিষয়ে অনেক ঘটনা মুবারক উল্লেখ রয়েছে।
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার
সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক:
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি একরাতে স্বপ্ন মুবারক দেখলেন যে, একদল বানর তলোয়ার নিয়ে উনাকে আক্রমণ করছে। কিন্তু এক সম্মানিত কুদরতী শক্তি মুবারক উনাকে শূন্যে উঠিয়ে নিলেন এবং আসমান থেকে একখ- আগুন এসে তাদেরকে পুড়িয়ে দিলো। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত
স্বপ্ন মুবারক উনার ব্যাখ্যা:
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি উনার সম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উপরোক্ত সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক খুলে বললেন। সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এই স্বপ্ন মুবারক শুনে বললেন, হে আমার সম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম, মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে সমস্ত প্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাযত মুবারক করবেন। সুবহানাল্লাহ! আর আপনার সম্মানিত কপাল মুবারক যেই সম্মানিত নূর মুবারক অবস্থান মুবারক করছেন এবং যেই সম্মানিত নূর মুবারক উনার কারণে আপনার বেমেছাল শান-মান মুবারক উনার বিষয়টি বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। সেই সম্মানিত নূর মুবারক উনার কারণে বহু লোক আপনার ব্যাপারে হিংসা করছে, আপনার শত্রুতা পোষণ করছে, আপনার বিরোধিতা করছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! তারা আপনাকে শহীদ করার চেষ্টা করবে। না‘ঊযুবিল্লাহ! কিন্তু তা আপনার কোনো ক্ষতিই করতে পারবে না; বরং তারা নিজেরাই পরিপূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে, তাদের অস্তিত্ব চিরতরে বিলীন হয়ে যাবে। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সাথে আহলে কিতাবদের দুশমনী:
‘আল বারাহীনুল ক্বিত্ব‘ইয়্যাহ ফী মাওলিদি খইরিল বারিয়্যাহ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে, “আহলে কিতাব তথা ইহুদী-খ্রিস্টানরা বিভিন্ন আলামত (এবং তাদের আসমানী কিতাব উনাদের লিখিত প্রমাণ দ্বারা) জানতো যে, আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এখন সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ঔরস মুবারক-এ তাশরীফ মুবারক এনেছেন। তাই তারা উনার প্রতি ভীষণ শত্রুতা শুরু করে দিলো। উনাকে শহীদ করার জন্য ওঁৎপেতে থাকলো। না‘ঊযুবিল্লাহ! শুধু তাই নয়, উনাকে শহীদ করার জন্য সর্বদা তাদের পক্ষ থেকে সম্মানিত মক্কা শরীফ উনার আশে-পাশে গুপ্তচর আসা-যাওয়া করতে থাকলো। এই গুপ্তচরেরা বিভিন্ন অলৌকিক ও আশ্চর্য ঘটনা দেখে ভীত-সন্ত্রস্ত, লাঞ্ছিত ও লজ্জিত অবস্থায় ফিরে যেতো। সুবহানাল্লাহ!
একদা সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি শিকার করার উদ্দেশ্য মুবারক নিয়ে বের হলেন। এটা জেনে শাম দেশের দিক হতে শত্রুদের একটি বিরাট দল উনাকে শহীদ করার জন্য তরবারী নিয়ে এগিয়ে আসলো। এদিকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা ওহাব ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম তিনিও ঘটনাক্রমে সেই নির্জন ময়দানে উপস্থিত ছিলেন। (হঠাৎ করে) তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী একদল আশ্বারোহী সৈন্য দেখতে পেলেন। ইহজগতের কোনো মানুষের সাদৃশ্য উনারা ছিলেন না (উনারা ছিলেন মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার জন্য নিয়োজিত সম্মানিত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম)। সুবহানাল্লাহ! উনারা অদৃশ্য থেকে এসে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার শত্রুদেরকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দিলেন।” সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত শাদী মুবারক:
‘নুযহাতুল মাজালিস’ কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, যখন সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বড় হলেন, (শাম দেশের ইহুদী পাদ্রীরা) তারা উনাকে শহীদ করার জন্য ইচ্ছা পোষণ করলো। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার জন্য হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে প্রেরণ করলেন। হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদেরকে হত্যা করলেন। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম সাইয়্যিদুনা হযরত ওহাব আলাইহিস সালাম তিনি পাহাড়ের উপর থেকে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার এই সম্মানিত কারামাত মুবারক দেখলেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর তিনি বাড়িতে যেয়ে উনার সম্মানিতা ‘যাওযাতুম মুকাররামাহ’ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিতা আম্মাজান হযরত র্বারাহ বিনতে আব্দুল উয্যা আলাইহাস সালাম উনাকে এই সম্মানিত কারামাত সম্পর্কে অবহিত করলেন। আর তিনি বললেন, আপনি কি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত শাদী মুবারক দিবেন? জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত ওহাব আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনার এই সম্মানিত কারামাত মুবারক দেখে তিনি এবং উনার সম্মানিত আহলিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত বাররাহ আলাইহাস সালাম উনারা দু’জনে সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার নিকট গেলেন। উনার সম্মানিত নাম মুবারক ছিলো- ‘শায়বাতুল হামদ’। অতঃপর উনারা উভয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত শাদী মুবারক উনার ব্যাপারে প্রস্তাব মুবারক দিলেন। অতঃপর তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত শাদী মুবারক সুম্পন্ন করলেন।” সুবহানাল্লাহ! (নুযহাতুল মাজালিস ২/৭৫)
‘আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে, হযরত হাসান বিন আহমদ বাকরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নূর মুবারক উনাকে উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক স্থানান্তরিত করার ইচ্ছা করলেন, তখন সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত অন্তর মুবারক-এ সম্মানিত শাদী মুবারক করার আগ্রহ সৃষ্টি করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ!
অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি উনার সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আমার সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম, আমি আশা করি, আপনি আমার পক্ষ থেকে এমন একজন মহাসম্মানিতা মহিলা উনার কাছে সম্মানিত শাদী মুবারক প্রস্তাব দিবেন, যিনি হবেন সর্বশ্রেষ্ঠা, সর্বোত্তম চরিত্র মুবারক উনার অধিকারিণী, অতি উত্তম জিসম মুবারক উনার অধিকারিণী, সুদশর্না, ন্যায়পরায়ণী, উজ্জ্বল দীপ্তিময়ী, সর্বদিক থেকে পরিপূর্ণতার অধিকারিণী, বেমেছাল মান-সম্মান-ইজ্জত উনার অধিকারিণী, সর্বশ্রেষ্ঠ ও সুউচ্চ বংশীয়। উনার সম্মানিতা মা আলাইহাস সালাম উত্তরে বললেন, হে আমার স্নেহের পুত্র! আপনার জন্য মুহব্বত ও সম্মান-ইজ্জত।
অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম তিনি কুরাইশ বংশের ও আরবের সকল গোত্রের সমস্ত কুমারী মহিলাগণের ব্যাপারে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সংবাদ নিলেন। কিন্তু তিনি একমাত্র সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ব্যতীত অন্য কাউকে উপরোক্ত সমস্ত গুণাবলী মুবারক উনাদের অধিকারিণী পেলেন না। সুবহানাল্লাহ!
অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হে আমার সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম, আপনি দ্বিতীয় বারের মতো আবারো উনাকে দেখুন। তারপর তিনি পুনরায় দেখতে গেলেন এবং উনার দিকে তাকালেন। তখন তিনি উনাকে এমতাবস্থায় দেখলেন যে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম তিনি যেন মুক্তা সাদৃশ্য তারকার ন্যায় নূর মুবারক বিচ্ছুরন করছেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর উভয়ের মধ্যে নিকাহ মুবারক সম্পন্ন করে দিলেন।
আযীমুশ শান শাদী মুবারক অনুষ্ঠান:
মূলত, সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত শাদী মুবারক পরিপূর্ণরূপে সম্মানিত সুন্নতী কায়দায় হয়েছিলো। সুবহানাল্লাহ! সময়টি ছিলো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের প্রায় ৮ মাস ১২ দিন পূর্বে । আযীমুশ শান শাদী মুবারক উনার অনুষ্ঠানে সকলে উপস্থিত হলে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক অনুযায়ী প্রথমে মহান আল্লাহ পাক উনার প্রশংসা ও ছানা-ছিফত মুবারক করেন। তারপর সকলের উদ্দেশ্যে সম্মানিত নছীহত মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি বলেন, সেই মহান আল্লাহ পাক উনার অসংখ্য শুকরিয়া আদায় করছি, উনার প্রশংসা মুবারক করছি যিনি আমাদেরকে অফুরন্ত নিয়ামত মুবারক হাদিয়া করেছেন, আমাদেরকে দয়া-ইহসান মুবারক করেছেন এবং আমাদের হৃদয়ে উনার সম্মানিত শুকরিয়া, প্রশংসা, ছানা-ছিফত মুবারক করার উপলব্ধি দিয়েছেন এবং তা করার তাওফীক্ব মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি আমাদেরকে সম্মানিত শহরের মক্কা শরীফ অধিবাসী বানিয়েছেন। তিনি অন্যান্য গোত্রের উপর আমাদেরকে মর্যাদাবান করেছেন এবং দুর্যোগ ও দুরবস্থা থেকে মুক্তি দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! সেই মহান আল্লাহ পাক উনার প্রশংসা করছি যিনি আমাদের জন্য নিকাহ বা শাদী মুবারক বৈধ করেছেন এবং অবৈধ সংসর্গ নিষিদ্ধ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! এইভাবে অনুষ্ঠান মুবারক সূচনা করে তিনি বললেন,
এখন আপনাদের অবগতির জন্য পেশ করছি যে, আমাদের সম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি আপনাদের সম্মানিতা আওলাদ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চান এবং আপনাদের সম্মতি হলে এই সম্মানিত বিবাহ মুবারক নিষ্পন্ন করতে চান। আপনারা কি এ প্রস্তাবে রাজি, নাকি গইরে রাজি? সাইয়্যিদুনা হযরত ওহাব ইবনে আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আমরা এই প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। এতে সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও হাসিমুখে সায় দিলেন এবং বললেন, আপনারা এই সম্মানিত পবিত্র কাজের সাক্ষী থাকলেন। সুবহানাল্লাহ!
এইভাবে সম্মানিত সুন্নতী তরতীব অনুযায়ী সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত শাদী মুবারক সুসম্পন্ন হয়। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত মোহরানা মুবারক:
এই সম্মানিত শাদী মুবারক উনার সম্মানিত মোহরানা মুবারক ছিলো নগদ এক উকিয়া স্বর্ণ ও এক উকিয়া রৌপ্য। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত ওলীমা মুবারক:
সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত শাদী মুবারক উনার ওলীমায় একশতটি উট, একশত গরু, একশত বকরী জবাই করে প্রচুর পরিমাণে খাবার প্রস্তুত করেন এবং সম্মানিত মক্কা শরীফ ও তৎসংলগ্ন এলাকার সবাইকে দাওয়াত করে মেহমানদারী মুবারক করেন। এই সম্মানিত মেহমানদারী মুবারক চারদিন পর্যন্ত চলে। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত রগায়িব শরীফ:
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ফুল সজ্জিত সম্মানিত হুজরা শরীফ-এ পাঠানো হলো। অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বিশেষ ছোহবত মুবারক তথা সাক্ষাৎ মুবারক-এ গেলেন এবং সম্মানিত নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার থেকে উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ (সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ) সম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন। সুবাহনাল্লাহ! সেই রাতটি ছিলো সম্মানিত রজবুল হারাম শরীফ উনার ১লা তারিখ সম্মানিত জুমুয়াহ শরীফ উনার সম্মানিত রাত মুবারক। আল্লামা কারামত আলী জৈনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার কিতাব মুবারক উনার মধ্যে উল্লেখ করেন, এই রাতে মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত কুদরত মুবারক উনার জগতে এবং হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের জগতে বলে দেয়া হয়েছিলো যে, সম্মানিত নূর মুবারক দ্বারা সমস্ত সৃষ্টিজগতকে আলোকিত করে দিন। সুবহানাল্লাহ! আকাশ-যমীন, সারা কায়িনাতের সকল ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা মহা খুশিতে বিভোর হয়ে গিয়েছিলেন। সর্বশ্রেষ্ঠ জান্নাত ফেরদাউস উনার দরজা মুবারক খুলে দেয়ার জন্য সম্মানিত বেহেশত উনার রক্ষণাবেক্ষণকারী সম্মানিত ফেরেশতা আলাইহিস সালাম উনাকে হুকুম করা হলো। সমগ্র কায়িনাতকে বিভিন্ন প্রকার খুশবু দ্বারা খুশবুময় করে রাখার আদেশ আসিলো। আকাশের সকল স্তরে ও পৃথিবীর সকল ঘরে ঘরে খোশখবরি দেয়া হয়েছিলো যে, নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এই সম্মানিত রাতে উনার মহাসম্মানিত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক এনেছেন। সুবহানাল্লাহ!
তিজারাত তথা ব্যবসার উদ্দেশ্যে সফর:
মহাসম্মানিত আযীমুশ্ শান শাদী মুবারক উনার পর সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে দুই মাস সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন। অতঃপর তিনি কুরাইশদের সাথে ব্যবসার উদ্দেশ্যে শাম দেশে সফর মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত মারীদ্বী শান মুবারক প্রকাশ:
ব্যবসা শেষে উনারা সম্মানিত মক্কা শরীফ উনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। অতঃপর উনারা যখন সম্মানিত মদীনা শরীফ উনার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, সেই দিন সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত মারিদ্বী শান মুবারক প্রকাশ করেন। তাই তিনি বললেন-

أتخلف عند أخوالي بني عدي بن النجار.

অর্থ: “আমি সম্মানিত বনী আদী ইবনে নাজ্জার গোত্রের আমার সম্মানিত মামা উনাদের নিকট থেকে যাবো।”
অতঃপর তিনি সেখানে সম্মানিত মারীদ্বী শান মুবারক প্রকাশ করা অবস্থায় এক মাস অবস্থান মুবারক করেন। (ইবনে সা’দ, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১/৩৩১)
সম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ:
সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি এক মাস মারীদ্বী শান মুবারক প্রকাশ করার পর সম্মানিত মদীনা শরীফেই ২রা মুহররমুল হারাম শরীফ ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফ সম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত রেহেম শরীফ উনার মধ্যে অবস্থানকাল মুবারক ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে।
সময়টি ছিলো সম্মানিত হিজরত মুবারক উনার প্রায় ৫৩ বছর ২ মাস পূর্বে। অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার ২ মাস ১০ দিন পূর্বে।
দুনিয়ার যমীনে অবস্থান মুবারক:
মুজাদ্দিদে আ’যম সম্মানিত রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়া সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সর্বাধিক বিশুদ্ধ অভিমত হচ্ছে- সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি ২৫ বছর ৬ মাস দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত রওযা শরীফ:
সম্মানিত আবওয়া শরীফ।
সম্মানিত আওলাদ:
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত দ্বীন:
সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত দ্বীন অর্থাৎ দ্বীনে হানীফ। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি মুজাদ্দিদে আ’যম সম্মানিত রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার মুবারক উসীলায় মালিকুল জান্নাহ, আবূ রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক জানার, বুঝার উলব্ধি করার এবং উনার প্রতি বিশুদ্ধ হুসনে যন পোষণ করার তাওফীক্ব দান করুন এবং উনার সম্মানার্থে ইহক্বাল-পরকালে হাক্বীক্বী কামিয়াবী নছীব করুন। আমীন।

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে