নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত মি’রাজ শরীফ উনার রাতে জাহান্নাম দর্শনে যে ভয়াবহ দৃশ্য অবলোকন করেছিলেন তার কিঞ্চিত বর্ণনা


বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যখন সম্মানিত মি’রাজ শরীফ উনার রাতে ভ্রমন করানো হলো তখন উনার সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জাহান্নামের দরজার নিকট এসে জাহান্নামের দ্বার রক্ষী ফেরেশতা হযরত মালিক আলাইহিস সালাম উনার নিকট বললেন, হে হযরত মালিক আলাইহিস সালাম! আপনি জাহান্নামের সর্বোচ্চ স্তরটি খুলে দিন, আমি উক্ত জাহান্নাম ও তার মাঝে যে পুরুষ ও মহিলা রয়েছে তা প্রত্যক্ষ করি। হযরত মালিক ফেরেশতা আলাইহিস সালাম তিনি জাহান্নামের সর্বোচ্চ স্তরটি খুলে দিলেন তখন তিনি দেখতে পেলেন সাত ত্ববক যমীনের তলদেশ পর্যন্ত তাঁর আঁধার আর আরশ পর্যন্ত তার স্ফুলিঙ্গ। এ ভয়াবহ দৃশ্য দেখে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কাঁদলেন অতঃপর হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনার নিকট জাহান্নামের উক্ত অন্ধকারের কারণ জিজ্ঞাসা করলেন। জাওয়াবে তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! জাহান্নাম হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার গযব দ্বারা সৃষ্টি। এটা মহান আল্লাহ পাক উনার যারা নাফরমান বান্দা তাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হবে। এটাকে এক হাজার বছর পর্যন্ত প্রজ্জ্বলিত করা হয়েছে ফলে এটা সাদা হয়ে গেছে। তারপর আরো এক হাজার বছর প্রজ্জ্বলিত করা হয়েছে ফলে এটা লাল বর্ণ ধারণ করেছে। তারপর আরো এক হাজার বছর প্রজ্জ্বলিত করা হয়েছে ফলে এটা কৃষ্ণ বর্ণ ধারণ করেছে। অতঃপর তার আলো বিলীন হয়ে গেছে এবং কৃষ্ণ বর্ণ আরো গাঢ় হয়েছে। ফলে জাহান্নামীদের একজন আরেকজনকে দেখতে পারবে না। উক্ত জাহান্নামের সাতটি স্তর রয়েছে। তন্মধ্যে প্রথম স্তরটি আপনার উম্মতের মধ্যে ঐ গুনাহগার লোকদের জন্যে যারা আপনার সম্মানিত শরীয়ত উনার বিরোধিতা করেছে। অর্থাৎ যারা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার বিরোধিতা করে বেদ্বীন বিজাতি ইহুদী, নাছারা, হিন্দু, বৌদ্ধ, মজুসী প্রভৃতি কাফির-মুশরিকদের ধর্ম ও মতবাদের মনগড়া নিয়ম-নীতি, তর্জ-তরীক্বা, আইন-কানুন, কৃষ্টি-কালচার গ্রহণ করেছে। যেমন গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, রাজতন্ত্রের নিয়ম-নীতি গ্রহণ করেছে, ভোট-নির্বাচন করেছে, পর্দার বিরোধিতা করেছে, ছবি হারাম হওয়ার বিরোধিতা করেছে, হারাম খেলাধুলা করেছে, হারাম গান-বাজনা করেছে। নাউযুবিল্লাহ!

 

শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে