নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মুহব্বতের অনুপম দৃষ্টান্ত-১


لا يؤمن احدكم حتى يكون الله ورسوله احب اليه من نفسه وماله وولده ووالده والناس اجمعين

অর্থ: “তোমরা ততোক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবেনা যতোক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের নিকট খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা তোমাদের জান-মাল, পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি ও সমস্ত মানুষ হতে বেশি প্রিয় না হবেন।”

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উক্ত বাণীর সত্যতা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম নিজেদের আমল দিয়ে এমনভাবে প্রমাণ করেছিলেন; যা বিশ্বের ইতিহাসে শুধু বিস্ময়কর নয় বরং কল্পনাতীত। নিচে কয়েকটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হলো-

(১) উহুদ যুদ্ধের ঘটনা: কাফিররা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করেছিলো। তখন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু এতোটুকু বললেন যে, কে আছো যে আমার ঠিক সম্মুখে দাঁড়াতে পারো? একথা শ্রবণ করা মাত্র একজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সম্মুখে এসে দাঁড়ালেন আর দুশমনের নিক্ষিপ্ত তীরগুলো আপন বুকে পেতে নিলেন। যুদ্ধ শেষে দেখা গেলো উনার দেহে ৮০টি তীর নিক্ষিপ্ত হয়েছে। কিন্তু একটিও পৃষ্ঠদেশে বা পাঁজরে নিক্ষিপ্ত হয়নি বরং সবই উনার দেহের সম্মুখভাগেই নিক্ষিপ্ত হয়েছে।

(২) বদর যুদ্ধের সময় হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম উনার ছেলে কাফিরদের পক্ষ হয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসেছিলো। অবশ্য পরে তিনি মুসলমান হয়েছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি কথা প্রসঙ্গে উনার পিতা হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব¡ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বললেন, আব্বাজান! বদর রণাঙ্গনে আমি কয়েকবার আপনাকে হাতের মুঠোয় পেয়েও কতল করিনি, যেহেতু আপনি আমার পিতা তাই তা থেকে বিরত থেকেছিলাম। তখন হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব¡ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, আমি তোমাকে বদর রণাঙ্গনে দেখিনি। যদি দেখতাম তবে নিজ হাতে কতল করতাম। কেনোনা তুমি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসেছিলে। এভাবে হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম উনার সমস্ত জীবনটাই ছিলো নবী প্রেমের নিদর্শনে ভরপুর।

(৩) উম্মুল মু’মিনীন হযরত উম্মে হাবীবা আলাইহাস সালাম (কুরাইশ সরদার হযরত আবু সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কন্যা) তিনি যখন উনার স্বামীসহ আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন তখন ঘটনাক্রমে উনার স্বামী ইন্তিকাল করেন। পরবর্তীতে উম্মুল মু’মিনীন হযরত উম্মে হাবীবা আলাইহাস সালাম উনার শাদী মুবারক সুসম্পন্ন হয় স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে। এদিকে ৬ষ্ঠ হিজরীতে সন্ধির পর হযরত আবু সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি মদ্বীনায় এলে সরাসরি উনার মেয়ে হযরত উম্মে হাবীবা আলাইহাস সালাম উনার ঘরে গিয়ে উঠলেন। উম্মুল মু’মিনীন হযরত উম্মে হাবীবা আলাইহাস সালাম আপন পিতাকে দেখে ফরাশ তুলে ফেললেন। উম্মুল মু’মিনীন হযরত উম্মে হাবীবা আলাইহাস সালম উনার এ আচরণ দেখে উনার পিতা উনাকে জিজ্ঞেস করলেন: আপনি আমাকে দেখে ফরাশ তুলে ফেললেন কেনো? হযরত উম্মে হাবীবা আলাইহাস সালাম বললেন: এই বিছানায় বিশ্রাম গ্রহণ করেন আমাদের হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। আপনি আমার পিতা ঠিকই আছেন কিন্তু আপনি কাফির। তাই আপনাকে উনার পবিত্র বিছানায় বসতে দেইনি।

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে