নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘হায়াতুন্ নবী’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম


নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘হায়াতুন নবী’। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যারা মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় শহীদ হয়েছেন, তোমরা উনাদেরকে মৃত বলো না, বরং উনারা জীবিত। অথচ তোমরা তা উপলব্ধি করতে পারছ না। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-১৫৪)
অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার মতে ও পথে থাকতে গিয়ে তথা দ্বীন ইসলাম বিজয়ের লক্ষ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টির জন্য যারা জীবন দিয়েছেন বা শহীদ হয়েছেন স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে احياء বা জীবিত বলেছেন। সুবহানাল্লাহ!
আর ওলীআল্লাহ উনাদের শানেও বলা হয়েছে, “ওলীআল্লাহগণ মৃত্যুবরণ করেন না, বরং উনারা অস্থায়ী জগত থেকে স্থায়ীজগতের দিকে প্রত্যাবর্তন করেন। (মিরকাত শরীফ ৩য় খ-: ২৪১ পৃSmile
কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে উনার রওযা মুবারকে দাঁড়িয়ে নামাযরত অবস্থায় দেখেছেন। অনুরূপভাবে হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকেও দেখেছেন। সুবহানাল্লাহ! (মিরকাত শরীফ ৩য় খ-: ২৪১ পৃSmile
হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হযরত নবী রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা স্বীয় রওযা শরীফে জীবিত থাকেন। সুবহানাল্লাহ! (ফয়জুল ক্বাদীর ৩/১৮৪, তারিখে ইস্তাহান ২/৮৩, দায়লামী/৪০৪, আবু ইয়ালা)
হযরত আউস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই মহান পাক তিনি যমীনের জন্য হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের শরীর মুবারককে ভক্ষন করা (নষ্ট করা) হারাম করে দিয়েছেন। (নাসাঈ শরীফ, আবু দাউদ শরীফ, ইবনে মাযাহ শরীফ, মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক উনার নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনারা স্বীয় রওযা মুবারকে জীবিত রয়েছেন এবং উনারা খাদ্যও খেয়ে থাকেন। সুবহানাল্লাহ! (ইবনে মাযাহ শরীফ, মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ ৩/২৪১ পৃSmile
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আমার পবিত্র রওযা মুবারক উনার নিকটে এসে আমার প্রতি ছলাত-সালাম পেশ করবে আমি তা শুনতে পাই। (বাইহাক্বী শরীফ, মিশকাত শরীফ/৮৭)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হে আমার ছাহাবীগণ! হে আমার উম্মতগণ! আপনারা আমার প্রতি প্রত্যেক ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার) ও ইয়াওমুল জুমুয়াহ (জুমুয়াবার) পবিত্র দূরূদ শরীফ পাঠ করুন। নিশ্চয়ই আপনাদের সেই পবিত্র দূরূদ শরীফ আমি বিনা মধ্যস্থতায় শুনতে পাই।
উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় কিতাবে এসেছে (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন) আমি হাক্বীক্বীভাবে বিনামধ্যস্থতায় তা শুনতে পাই। সুবহানাল্লাহ! (মিরকাত শরীফ ২য় খ-/৩৪৭)
নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রওযা মুবারকে জীবিত অবস্থায়ই আছেন। সুবহানাল্লাহ! (মিরকাত শরীফ ২য়/২২৩পৃSmile
উপরোক্ত দলীল ভিত্তিক আলোচনায় এটাই ছাবিত হলো যে, ক্বিয়ামত পর্যন্তই মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রওযা মুবারকে সেই জিসিম মুবারকেই অক্ষত অবস্থায় জীবিত থাকবেন; যে জিসিম মুবারকে পবিত্র রওযা শরীফে তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

Views All Time
1
Views Today
1
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে