নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম ও সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাদের সম্পর্কে খুব সাবধানে এবং অত্যন্ত আদব ও শরাফতের সাথে কথা বলতে হবে।


মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি, মুহব্বত, মা’রিফাত, নিসবত, তায়াল্লুক হাছিল করার প্রধান দুটি উসীলা। প্রথমতঃ উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম ও উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম উনাদের প্রতি এবং দ্বিতীয়তঃ উনার আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে চরম বিশুদ্ধ হুসনে যন রাখা তথা মুহব্বত, মা’রিফাত, নিসবত, তায়াল্লুক রাখা এবং চূড়ান্ত তা’যীম, তাকরীম করা ও সর্বোচ্চ আর্থিক খিদমত করা। সুবহানাল্লাহ!
কিন্তু বর্তমান সময়ে দেখা যায়, সাধারণ মুসলমান তো বটেই এমনকি মালানা নামধারীরাও আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সম্পর্কে যৎকিঞ্চিৎ ধারণা এবং তদাপেক্ষা কম তা’যীম, তাকরীম করলেও নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম ও সম্মানিত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাদের সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণাই রাখে না। নাঊযুবিল্লাহ! এমনকি অনেকে অজ্ঞতাবশতঃ উনাদের জান্নাতে যাওয়া নিয়েও সংশয় প্রকাশ করে। নাঊযুবিল্লাহ!
অথচ পবিত্র আয়াত শরীফ ও ছহীহ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারা প্রমাণিত যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম ও সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনারা জান্নাতী। সুবহানাল্লাহ!
আর সাধারণ আকলের প্রেক্ষিতেও বলা যায়, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারককে চুম্বন করার কারণে একজন বনী ইসরাইলীকে জান্নাত দেয়া হয়, উনার জন্য জাহান্নাম হারাম করা হয়। শুধু তাই নয়; বরং উনার মর্যাদা আরো বৃদ্ধির জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার জলীলুল ক্বদর নবী ও রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে উনার গোছল, কাফন ও দাফন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। অর্থাৎ ওই বনী ইসরাইলী তিনি জান্নাতী হয়েছিলেন। তাহলে যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পেশানী মুবারকে ধারণ করেছেন, যিনি সম্মানিত রেহেম শরীফ উনার মধ্যে ধারণ করেছেন, যিনি সরাসরি চুম্বন করেছেন উনাদের জান্নাতী হওয়া সম্পর্কে এরপরও কি প্রশ্ন উঠতে পারে?
বরং স্বয়ং পবিত্র জান্নাতই উদগ্রীব হয়ে আছে কখন মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনারা জান্নাতে প্রবেশ করবেন। উনারা জান্নাতে প্রবেশ করলেই জান্নাতের জীবন স্বার্থক হবে।
মূলত, শুধু এ বিষয়ই নয়, বরং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম ও সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাদের পবিত্র শান-মান মুবারক সম্পর্কে জানা এবং উনাদের তা’যীম, তাকরীম মুবারক করা পৃথিবীর সর্বপ্রধান ও সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ ফরয। সুবহানাল্লাহ!
আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম ও সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাদের নাম সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আব্দুল্লাহ’ আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদাতুনা হযরত ‘আমিনা’ আলাইহাস সালাম হওয়ার হাক্বীক্বত- “আব্দ” অর্থ ‘আনুগত্য স্বীকারকারী’ আর এর সাথে মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক যুক্ত হয়ে ‘আব্দুল্লাহ’ অর্থাৎ তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার বশ্যতা-আনুগত্যতা স্বীকার করতেন। তিনি যদি মূর্তিপূজারী হতেন, তাহলে উনার নাম হতো ‘আব্দুল লাত’। নাঊযুবিল্লাহ! অথচ উনার নাম মুবারক হলো হযরত ‘আব্দুল্লাহ’ আলাইহিস সালাম। তেমনিভাবে হযরত ‘আমিনা’ (আলাইহাস সালাম) শব্দ মুবারকের অর্থ হলো, ‘ঈমান আনয়নকারী বা নিরাপদ’। অর্থাৎ তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি ঈমান এনে জাহান্নাম থেকে নিরাপদ হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম ও সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনারা ফিতরাত যুগের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং উনারা দ্বীনে হানিফের উপর কায়িম ছিলেন।
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার স্থানান্তরিত হওয়ার বিষয়টিও ছিল সিজদাকারীগণ উনাদের মাধ্যমে।” (পবিত্র সূরা শুয়ারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২১৯)
আলোচ্য পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে আল্লামা হযরত ইমাম ইবনে হিববান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নূর মুবারক সিজদাকারীগণ উনাদের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন।” (সীরাতুল হালাবিয়া- ১/৪৫)
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জিসিম মুবারক উনার মধ্যস্থিত সবকিছু পাক-পবিত্র এবং তা গলধঃকরণ নাজাত হাছিলের কারণ হলে যাঁদের মাধ্যমে তিনি দুনিয়াতে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন উনাদের জন্য কি হুকুম?
আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্পর্শধন্য পবিত্র রওযা শরীফ উনার ধূলি মুবারকের মর্যাদা পবিত্র আরশে আযীম উনার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হলে নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ধারক-বাহক উনার সম্মানিত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনাদের ফায়ছালা কি?
উল্লেখ্য, স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম ও সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাদেরকে পবিত্র ছোহবত মুবারক দিয়েছেন।
আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম ও সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাদের এবং উনাদের পূর্বতন কেউই ব্যভিচারী, বেপর্দা, কাফির, মুশরিক এবং অশ্লীল ও অশালীন কাজে কখনোই লিপ্ত ছিলেন না। উনাদের ব্যাপারে কেউ এরূপ কল্পনা করলেও ঈমানহারা হবে। বরং উনারা সবাই পবিত্র থেকে পবিত্রতম ছিলেন। উনাদের মধ্যে কেউ ছিলেন যামানার হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম আবার কেউ ছিলেন যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ। সুবহানাল্লাহ!
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের পর যখন লক্ষ লক্ষ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বেমেছাল তা’যীম, তাকরীম করে দ-ায়মান তখন উনার সম্মানিতা দুধমাতা সাইয়্যিদাতুনা হযরত হালিমা সাদীয়া আলাইহাস সালাম তিনি আসলে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার চাদর মুবারক বিছিয়ে দিলেন উনাকে বসার জন্য। উনার প্রতি এ তা’যীম-তাকরীম দেখে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা সবাই মহা আশ্চার্যন্বিত হলেন। সুবহানাল্লাহ!
সঙ্গতকারণেই উপলব্ধি করা উচিত যে, সম্মানিতা দুধমাতা সাইয়্যিদাতুনা হযরত হালিমা সাদীয়া আলাইহাস সালাম উনাকেই যদি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এতো সম্মান বণ্টন করেন, তাহলে যবীহুল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম এবং উনার সম্মানিতা আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম উনাদেরকে উনি কত সম্মান ও নিয়ামত এবং শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা, ফযীলত বণ্টন করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই উনাদের স্মরণ, মূল্যায়ন, উনাদের বিলাদত শরীফ ও বিছাল শরীফ দিবস অত্যন্ত মুহব্বত, খুলুছিয়ত, জওক, শওক ও আদবের সাথে পালন করলে তা উম্মাহর জন্য কত ফযীলত নাজাত, নিয়ামতের কারণ হবে তা কল্পনা করা দুঃসাধ্য। বিপরীত দিকে যারা উনাদের সম্পর্কে অজ্ঞতা ও আদবহীনতার পরিচয় দিবে তারাও যে কত হালাক তা চিন্তা করাও দুঃসাধ্য। নাঊযুবিল্লাহ মিন যালিক!

Views All Time
2
Views Today
3
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে