নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক উনার ফযীলত


পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ক্বিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ পাক উনার সামনে দু’বান্দাকে দাঁড় করানো হবে। (অর্থাৎ যাদের একজনের নাম ‘মুহম্মদ’ এবং অপরজনের নাম ‘আহমদ’) মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়ার জন্য আদেশ মুবারক করবেন। উনারা উভয়ে বলবেন, আয় মহান আল্লাহ পাক! আমরা কি কারণে জান্নাত লাভ করলাম, আমরা তো জান্নাত লাভের উপযুক্ত কোনো আমল করিনি। অতঃপর মহান আল্লাহ পাক তিনি বান্দাদ্বয়কে বলবেন, হে আমার বান্দা! তোমরা দুজনই জান্নাতে প্রবেশ করো। কারণ নিশ্চয়ই আমি আমার জাত পাক সম্পর্কে কসম করে বলছি, যে ব্যক্তির নাম ‘মুহম্মদ’ ও ‘আহমদ’ হবে সে কখনও দোযখে প্রবেশ করবে না। সুবহানাল্লাহ!

উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যায় যে, ‘মুহম্মদ’ ও ‘আহমদ’ নামের ব্যক্তিরা বিনা হিসেবে জান্নাতী। সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য, যে, ‘মুহম্মদ’ ‘আহমদ’ নাম মুবারকদ্বয় উনাদের মাঝে রয়েছে দুটি মীম। উনাদের ব্যাখ্যা অনেক। যেমন একটি দ্বারা মুহিব্বিয়াত অপর মীম দ্বারা মাহবূবিয়াত এর ইঙ্গিত প্রকাশ পায়। আবার প্রথম মীম দ্বারা মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং দ্বিতীয় মীম দ্বারা মাখলূক্বাত বা সৃষ্টিজগতের ইশারার প্রকাশ ঘটে। আর ‘মুহম্মদ’ নাম মুবারক উনার মতো ‘আহমদ’ নাম মুবারক উনারও অনেক গুপ্তভেদ রয়েছে। যেমন, মহান আল্লাহ পাক উনার এক নাম মুবারক হচ্ছেন আহাদ আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক হচ্ছেন ‘আহমদ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। ‘আহমদ’ উনার মধ্যস্থিত মীম দ্বারা মাখলূক্বাতের ইশারা প্রকাশ পায় অর্থাৎ মাখলূক্বাতের মধ্যে তিনি আহাদ বা একক, উনার কোনো তুলনা নেই এবং মীম দ্বারা মাহবূবিয়াতের পূর্ণতার দিকেও ইশারা প্রকাশ পায়। এছাড়া এই মীম অক্ষর দ্বারা মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে তিনিও একক অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে উনার নিসবত মুবারকই সর্বদা বিদ্যমান। সুবহানাল্লাহ! আর ‘মুহম্মদ’ নাম মুবারক উনার অর্থ সর্বোত্তম প্রশংসিত। এবং ‘আহমদ’ নাম মুবারক উনার অর্থ সর্বোত্তম প্রশংসাকারী। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র হাদীছ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত আবূ উমামা আল বাহিলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যদি কোনো ব্যক্তির ছেলে সন্তান হয় অতঃপর সে ব্যক্তি যদি আমার মুহব্বতে এবং আমার নাম মুবারক উনার বরকতের জন্য তার ছেলে সন্তানের নাম ‘মুহম্মদ’ রাখে তাহলে সে ব্যক্তি এবং তার ছেলে উভয়ে জান্নাতে যাবে। সুবহানাল্লাহ! এই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা বুঝা যায় যে, যারা এই নাম মুবারক রাখবে অথবা উনাদেরকে মুহব্বত করবে তারা সকলেই জান্নাতী। সুবহানাল্লাহ!

সুতরাং সকল মুসলমানের জন্য উচিত এই নাম মুবারক রাখা এবং মুহব্বত করা। অতএব, মহান আল্লাহ পাক তিনি যেনো আমাদের সকলকে এই নাম মুবারক রাখার এবং উনাদেরকে মুহব্বত করার তাওফীক্ব দান করেন। আমীন!

Views All Time
1
Views Today
2
শেয়ার করুন
TwitterFacebookGoogle+

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে